চোখ মেললেই রাতের আকাশে দেখতে পাই অসংখ্য তারার মেলা। আমাদের বসবাস মিল্কিওয়ে-তে। শুধু এখানেই রয়েছে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র, ডার্ক ম্যাটার কিংবা নেবুলার মতো রহস্যময় বস্তু। আবার এই মহাবিশ্বেই রয়েছে শত শত বিলিয়ন গ্যালাক্সি যার কাছে আমাদের এত বিশাল মিল্কিওয়ে ধুলিকণা মাত্র। কিন্তু এতকিছুর পরও আমরা কি কখনও নিজেকে প্রশ্ন করেছি, মহাবিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, নক্ষত্র কিংবা বিশাল গ্যালাক্সি থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা অন্য কোথাও প্রাণের সন্ধান পাইনি?
১৯৫০ সালের গ্রীষ্মকাল। পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি তার কিছু সহকর্মীদের সাথে আলোচনার সময় হঠাৎ বলে উঠলেন, “where is everyone?” এ প্রশ্ন থেকেই জন্ম ফার্মি প্যারাডক্স-এর।

বিজ্ঞানী ফার্মির বক্তব্য হচ্ছে,
মহাবিশ্বে যদি খুব বেশি সভ্যতা থেকে থাকে তাহলে তাদের মধ্যে অন্তত এমন কিছু উন্নত সভ্যতা থাকার কথা যারা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এমনটা দেখতে পাই না কেন?
এজন্য আমাদের জানতে হবে ফার্মি প্যারাডক্সের সম্ভাব্য কিছু ব্যাখ্যা।
প্রথমত, মহাবিশ্ব বিশাল। মহাবিশ্ব এতই বিশাল যে, দুইটি সভ্যতার মধ্যে যোগাযোগ হতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগতে পারে। এমনটা হতেই পারে যে, তারা আমাদের সংকেত পাঠিয়েছে কিন্তু তা আমাদের কাছে এখনও পৌঁছাতে পারেনি। ঠিক একই কথা আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
দ্বিতীয়ত, এমনটাও হতে পারে আমরা যে ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে তাদের অনুসন্ধান করছি তার চেয়ে তাদের প্রযুক্তি আরও শতগুণ বেশি উন্নত। যার কারণে তাদের তুলনায় আমাদের অনুন্নত প্রযুক্তি তাদের চিহ্নিত করতে পারছে না। কিংবা তারা হয়তো আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে আগ্রহী না। যেমনটা আমরা আমাদের নিম্নতর প্রাণ ব্যাকটেরিয়া কিংবা পিঁপড়ার সাথে করি না।
তৃতীয়ত, মহাবিশ্বে হয়তো আমরাই একমাত্র প্রযুক্তিগত সভ্যতা। যাদের রয়েছে প্রাণ, বুদ্ধিমত্তা কিংবা নিজস্ব প্রযুক্তি।
এছাড়াও ফার্মি প্যারাডক্স সম্পর্কিত আরও দুইটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। এগুলো একটি হচ্ছে গ্রেট ফিল্টার তত্ত্ব। এই তত্ত্বের মতে, প্রাণের উৎপত্তির পথে কোথাও একটি প্রবল বাধা রয়েছে। হতে পারে মহাবিশ্বে একমাত্র আমরাই এই বাধা অতিক্রম করেছি। অন্য তত্ত্বটির নাম ডার্ক ফরেস্ট তত্ত্ব। চাইনিজ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি থেকে উঠে এসেছে এই তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি সভ্যতা নীরবে লুকিয়ে থাকে। কেননা কোনো অনুন্নত সভ্যতা তার চেয়ে উন্নত সভ্যতা দ্বারা আক্রান্ত হতে চায় না। তারা চায় না তাদের সভ্যতা অন্য কোনো সভ্যতা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। যেমনটা আমরা পৃথিবীতেই দেখছি।
সবশেষে, আমরা যেমন নিস্তব্ধ রাতে ঘাসের মাঝে শুয়ে আকাশের বিলিয়ন বিলিয়ন মহাজাগতিক বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকি, তাদের দেখি। এমনটা কি অন্য গ্রহের সভ্যতার প্রাণীরা করে না? তারা কি একাকিত্ব থেকে বলে ওঠে না “আমরা কি মহাবিশ্বের একমাত্র উন্নত প্রাণী?” কিংবা “সবাই কোথায়?”
