Author: ইয়ামিন মজুমদার রাতুল

প্রতিনিয়ত খোঁজে রয়েছি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অজানা রহস্যের!

একসময় বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানচিত্রে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল মূল কেন্দ্র। সেটা এখন বদলাচ্ছে। ধীরে হলেও বদলাচ্ছে। আর এই বদলের সবচেয়ে বড় মুখ চীন। Nature Index ২০২৫-এর হিসাব বলছে, গবেষণার শীর্ষে এখন চীন। দেশটির রিসার্চ শেয়ার ৩২,১২১.৮১, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ৪৫% বেশি। শুধু শীর্ষে ওঠা নয়, এই ওঠার ভেতরে আছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ আর গবেষণাকে জাতীয় শক্তিতে রূপ দেওয়ার স্পষ্ট চেষ্টা। আসলে চীনের গল্পটা এখন ভবিষ্যতের গল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্পেস সায়েন্স, রোবটিক্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, নবায়নযোগ্য শক্তি—সব জায়গাতেই দেশটি জোরে এগোচ্ছে। একসময় যাকে শুধু উৎপাদনের কারখানা হিসেবে দেখা হতো, সেই চীন এখন মৌলিক গবেষণার বড় খেলোয়াড়। তবে তাই…

Read More

আধুনিক প্রযুক্তির কারণে গোটা বিশ্ব আজ আমাদের হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেট আর ডিজিটাল যোগাযোগ এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই অবাধ তথ্যপ্রবাহের আড়ালে আমরা নীরবে একটি ভয়াবহ মহামারির শিকার হচ্ছি। সেটি হলো পর্নোগ্রাফি আসক্তি এবং এর সাথে যুক্ত অতিরিক্ত বা বাধ্যতামূলক হস্তমৈথুন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। পর্নোগ্রাফি মানে এখন আর শুধু সাধারণ ভিডিও বা ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা চটি গল্প বা সেক্স ম্যাগাজিন তো আছেই। এর পাশাপাশি পর্ন কমিক্স (যেমন- হেনতাই), এমনকি AI চালিত ডিপফেক বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো মিলে এটি এখন বিশাল একটি ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ নিয়েছে। সমাজ বা তথাকথিত আধুনিকতার…

Read More

মানুষ প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর দেহকাঠামোর প্রতি আকৃষ্ট। আধুনিক জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে দ্রুত ওজন বাড়ানো বা কমানোর সহজ পদ্ধতির খোঁজ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই দেখা যায় যে মিল্কশেক, বিশেষ চা, জুস বা পাউডারের মাধ্যমে অল্প সময়েই ওজন পরিবর্তন সম্ভব, এমন দাবি প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনগুলো দেখায়, মাত্র এক বা দুই চামচ বিশেষ মিল্কশেক বা সাপ্লিমেন্ট খেলে মাসে ১০–১২ কেজি ওজন বাড়ানো যায়, আবার একইভাবে কয়েক দিনের মধ্যে স্লিমিং টি বা জুস খেলে চর্বি গলে যাবে। এই ধরনের দাবি মানবদেহের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। আসলে শরীর কোনো রাসায়নিক শর্টকাটে চলে না; ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যা ক্যালোরি ব্যালেন্স, হরমোন,…

Read More

আইজ্যাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেন ১৬৪২ সালের ‘ক্রিসমাস ডে’ তে, এমন এক সময়ে যখন দেশটি গৃহযুদ্ধে বিভক্ত ছিল এবং তিনি নিজেও ছিলেন শারীরিকভাবে দুর্বল এক শিশু। তাঁর জন্মের কয়েক মাস আগেই বাবার মৃত্যু হয়। পরে মায়ের পুনর্বিবাহের কারণে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান, আর আইজ্যাক বড় হয়ে ওঠেন তাঁর দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানে। লিংকনশায়ারের এক প্রত্যন্ত খামারে কেটেছিল তাঁর শৈশব, বিদ্বৎসমাজের কোলাহল থেকে বহু দূরে। কিন্তু সেই নীরব ও সাধারণ শুরুর মধ্য থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এমন এক মেধা, যা পরে উন্মোচন করে দেখায় গতি, আলো আর মাধ্যাকর্ষণ কীভাবে পুরো মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণ আইজ্যাক নিউটনের জন্মের সময় বিজ্ঞান…

Read More

কল্পনা করুন, আপনি একটি সতেজ, লাল আপেলকে একটি সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র বাক্সের ভেতর রেখে ঢাকনাটি শক্ত করে আটকে দিলেন। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এই বাক্সটি হলো একটি Isolated System। সহজ কথায়, এটি এমন এক বিচ্ছিন্ন জগত, যার ভেতর থেকে কোনো কিছুই (এমনকি তাপ বা আলোও) বাইরে যেতে পারে না এবং বাইরে থেকেও কোনো কিছু ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এখন প্রশ্ন হলো, যদি এই বাক্সটিকে অসীম সময়ের জন্য রেখে দেওয়া হয়, তবে বাক্সের ভেতরে কী ঘটবে? সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান বলবে, আপেলটি পচে ধুলোয় মিশে যাবে। কিন্তু আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, বিশেষ করে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং থার্মোডাইনামিক্স শোনাচ্ছে এক অবিশ্বাস্য গল্প। অসীম সময়ের ব্যবধানে সেই পচে যাওয়া…

Read More

রাশিয়ার সাইবেরিয়া কিংবা উত্তরাঞ্চলের হাড়কাঁপানো কোনো এক শীতের সকাল। ঘুম ভেঙে জানালার বাইরে তাকাতেই হয়তো আপনার চোখ কপালে উঠবে। দিগন্তের আকাশে একটি নয়, জ্বলজ্বল করছে দুটি কিংবা তিনটি সূর্য! মাঝখানের সূর্যটি সবচেয়ে উজ্জ্বল, আর তার দুই পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে আছে আরও দুটি আলোর গোলক। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এমন ভিডিও প্রায়ই আমাদের টাইমলাইনে ভেসে আসে। কখনো কখনো এই দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কেউবা একে কেয়ামতের আলামত বা ভিনগ্রহবাসীদের কাজ বলে মনে করেন। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি বায়ুমণ্ডলীয় আলোকবিজ্ঞানের বা Atmospheric Optics -এর অন্যতম সুন্দর একটি উদাহরণ, যার পোশাকি নাম Sun Dog বা Parhelia। এই মহাজাগতিক…

Read More

মানুষের মস্তিষ্ক এক বিস্ময়কর যন্ত্র। মাত্র ২০ ওয়াট শক্তির বিনিময়ে এটি যে জটিল চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সৃজনশীল কাজ করতে পারে, তা আজকের দিনের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর পক্ষেও করা কঠিন। বর্তমানের প্রচলিত কম্পিউটারগুলো গাণিতিক হিসাবে অবিশ্বাস্য দ্রুত হলেও, মস্তিষ্কের মতো শিখতে বা বুঝতে পারে না। ঠিক এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির জগতে এখন এক নতুন বিপ্লবের সূচনা হয়েছে, যার নাম Neuromorphic Computing। সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি হলো সিলিকন চিপের ওপর কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করার এক অভিনব প্রয়াস। বিজ্ঞানীরা এখন এমন কম্পিউটার প্রসেসর তৈরি করছেন যা ঠিক আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন এবং সিন্যাপ্সের আদলে কাজ করবে। এই প্রযুক্তির হাত…

Read More

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে আমাদের পড়ার অভ্যাসে এসেছে আমূল পরিবর্তন। একসময় বইয়ের তাকভর্তি সংগ্রহ ছিল শিক্ষিত রুচির প্রতীক, আর আজ একটি স্মার্টফোনেই বহন করা যায় হাজার হাজার বইয়ের ভার্চুয়াল লাইব্রেরি। বাসে-ট্রেনে, জ্যামে কিংবা বিরতির ফাঁকে স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে নেওয়া এখন দৈনন্দিন চিত্র। এই ডিজিটাল স্বাচ্ছন্দ্য নিঃসন্দেহে সময় ও পরিশ্রম বাঁচায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সুবিধার বিনিময়ে আমরা কি আমাদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং গভীর বোঝার ক্ষমতার সঙ্গে আপস করছি? কাগজের বই আর ডিজিটাল স্ক্রিন, এই দুই মাধ্যমের মধ্যে কোনটি আসলে আমাদের মস্তিষ্কের জন্য বেশি কার্যকর? সাম্প্রতিক স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের গবেষণা এই প্রশ্নের উত্তরে বেশ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। মস্তিষ্কের মানসিক মানচিত্র ও স্থানিক স্মৃতি…

Read More

প্রতিটি বাবা-মায়ের জীবনেই সেই বিশেষ সময়টি আসে, যখন আদরের ছোট সন্তানকে প্রথমবারের মতো স্কুলের গণ্ডিতে পাঠাতে হয়। সাধারণত বছরের শুরুতেই বাচ্চার বয়স তিন, চার বা পাঁচ পূর্ণ হলেই আমরা ধরে নিই যে সে এখন স্কুলের জন্য তৈরি। স্কুলের ভর্তি ফর্মে বয়সের ঘরটি পূরণ করা সহজ, কিন্তু শিশুটি মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে সেই নতুন পরিবেশের জন্য তৈরি কি না, তা বোঝাটা বেশ কঠিন। অনেক সময় দেখা যায়, বয়সের কোটা পূর্ণ হওয়ার পরেও স্কুলে গিয়ে শিশুটি খাপ খাওয়াতে পারছে না, কান্নাকাটি করছে কিংবা ক্লাসের কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ হলো, স্কুল রেডিনেস বা স্কুল প্রস্তুতি। এটি কেবল বয়সের ওপর নির্ভর করে না,…

Read More

মানুষের সৃজনশীলতার সবচেয়ে রহস্যময় এবং আকর্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো অর্ধ-সচেতন মুহূর্তে আসা কিছু অসাধারণ ধারণা। মনোবিজ্ঞানীরা এই সময়কালকে Hypnagogic State বলে অভিহিত করেন। এটি ঘুম এবং জাগরণের মধ্যবর্তী এক অদ্ভুত জায়গা, যেখানে আমরা অর্ধ-সচেতন থাকি, কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক তখনও অবাক করা সৃজনশীল ধারণা, সুর এবং চিন্তাভাবনা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়। ১৯৬৫ সালের এক সকালে পল ম্যাককার্টনির জীবনে ঘটে এক বিস্ময়কর ঘটনা। ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অনুভব করেন, তার মাথায় বাজছে এক দীর্ঘ ও জটিল সুর। পিয়ানোতে বসেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই সুর বাজাতে শুরু করেন, খুঁজে পান মানানসই কর্ড এবং তৈরি করেন অস্থায়ী বাক্য যা পরবর্তীতে বিখ্যাত…

Read More