লেখক: রেদোয়ানুল হক রানা

আইনস্টাইন একবার বিরক্ত হয়ে তাঁর এক বন্ধূকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—‘তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস করো যে চাঁদটা কেবল তখনই আকাশে থাকে যখন তুমি সেদিকে তাকাও?’আপনার উত্তরটা কি হতো? সাধারণ বুদ্ধিতে উত্তরটা হলো ‘অবশ্যই না! আমি না তাকালেও চাঁদ ওখানেই থাকে, সবসময় থাকে।’ কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জগতটা আমাদের এই সাধারণ বুদ্ধির ধার ধারে না। সেখানে কোনো কণার আচরণ অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করে আমরা কীভাবে তাকে পরিমাপ করছি বা পর্যবেক্ষণ করছি তার উপর। আপনি যদি বিজ্ঞানের ছাত্র হন তবে ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্ট এর নাম হয়তো শুনেছেন। এই পরীক্ষার ফলাফলের একটি লাইন বিজ্ঞানপ্রেমীদের রাতের ঘুম হারাম করার জন্য যথেষ্ট। সেটা হলো— ফোটন বা আলোর কণা…

Read More

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, তাঁরা এমন একটি গামা-রশ্মির বিকিরণ শনাক্ত করেছেন, যা ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ।ডার্ক ম্যাটার নিয়ে বিজ্ঞানীদের এই জল্পনা কল্পনার শুরু ১৯৩৩ সালে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিৎজ জুইকি ‘গালাক্সি ক্লাস্টার’ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন, গ্যালাক্সিগুলো যে প্রচণ্ড গতিতে ছুটছে, দৃশ্যমান বস্তুর মহাকর্ষ বল দিয়ে তাদের আটকে রাখা অসম্ভব। নিয়ম অনুযায়ী এদের ছিটকে হারিয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য ভরের মহাকর্ষীয় টানে তারা ঠিকই দলবদ্ধ হয়ে আছে। পরবর্তীতে সত্তরের দশকে ভেরা রুবিন সর্পিল গ্যালাক্সির ঘূর্ণন গতি পর্যবেক্ষণ করে একই প্রমাণ পান। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, মহাবিশ্বে এমন বিপুল পরিমাণ অদৃশ্য বস্তু আছে যা সাধারণ পদার্থের…

Read More

ঘটনাটা শুরু হয়েছিল হ্যারি ক্রোটোর এক কৌতূহল থেকে। তিনি ভাবছিলেন মহাকাশের বিশাল নক্ষত্রদের মধ্যে ভেসে বেড়ানো লম্বা লম্বা কার্বন চেইনগুলো কোথা থেকে আসে। তার ধারণা ছিল, বুড়ো হয়ে যাওয়া লাল দানব নক্ষত্রগুলোই (Red Giant Stars) হয়তো এগুলো তৈরি করছে। এই তত্ত্বটা পরীক্ষা করার জন্যই তিনি রিচার্ড স্মলির ল্যাবে এলেন। স্মলির ল্যাবে একটা বিশেষ যন্ত্র ছিল, যা লেজার দিয়ে যেকোনো কঠিন বস্তুকে বাষ্পে পরিণত করতে পারতো। তারা পরিকল্পনা করলেন, ধাতুর বদলে কার্বনের একটি রূপ অর্থাৎ গ্রাফাইট দিয়ে এই পরীক্ষাটা করবেন। উদ্দেশ্য, ল্যাবের ভেতরেই একরকম কৃত্রিম নক্ষত্রের পরিবেশ তৈরি করা। পরীক্ষা শুরু হলো। তারা যা খুঁজছিলেন, সেই ছয় থেকে আট কার্বনের ছোট…

Read More

আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, বস্তুটি স্থির পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে গতির দিকে চ্যাপ্টা বা সংকুচিত দেখাবে। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘লরেঞ্জ সংকোচন’। অর্থাৎ, বস্তুটি পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে বাস্তবেই ছোট হয়ে যায়, কেবল দৃষ্টিভ্রম নয়। কিন্তু মজার বিষয় হলো, আমরা আসলে দেখবো ভিন্ন কিছু। ১৯৫৯ সালে গণিতবিদ রজার পেনরোজ এবং পদার্থবিদ জেমস টেরেল দেখান, কোনো দ্রুতগামী বস্তুকে চ্যাপ্টা নয়, বরং খানিকটা ঘূর্ণিত অবস্থায় দেখতে পাবো। এর কারণ, বস্তুর বিভিন্ন অংশ থেকে আলো আমাদের চোখে পৌঁছাতে ভিন্ন ভিন্ন সময় নেয়। এই সময়ের পার্থক্যের কারণে, আমাদের চোখ বা ক্যামেরা যখন একই মুহূর্তে সেই সব আলোকরশ্মি ধরে, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে যেন বস্তুটি একটু…

Read More

ওয়্যারলেস প্রযুক্তির উন্নতি আমাদের জীবনযাত্রায় বিপ্লব এনেছে। 3G থেকে 4G আর এখন 5G, প্রতিটি ধাপেই গতি, সংযোগ আর সক্ষমতা বেড়েছে। তবে এর পাশাপাশি ছড়িয়েছে একগুচ্ছ গুজব ও ভুল ধারণা। বুঝে হোক বা না বুঝে, শুধুমাত্র ভিউ কুড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় স্যাড মিউজিক লাগিয়ে, ক্যাপশনে আবেগঘন কিছু লাইন লিখে দাবি করেন: “রেডিয়েশনের কারণে পাখি মরছে।” আবার কোনো না কোনো দিন নিশ্চয় আপনার বাবা-মা কিংবা আত্মীয়স্বজনও বলেছেন, “কানের পাশে ফোন রেখে ঘুমালে ক্যান্সার হয়।” এটি সবচেয়ে প্রচলিত গুজবের একটি।কিছু গ্রামে এরকমও শোনা যায় যে, “টাওয়ার বসেছে ওই পাড়ায়, তাই আমাদের এলাকায় ক্যান্সার বেড়ে গেছে।” আবার অনেকে এরকমও বলেন, মোবাইল টাওয়ারের…

Read More

আনসার্টেনটি প্রিন্সিপল বা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার নীতি বলে একটি কণার অবস্থান এবং ভরবেগ একইসাথে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব নয়। অর্থাৎ, আপনি যদি একটি কণার অবস্থান খুব নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে চান, তাহলে তার ভরবেগ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে। এই সীমাবদ্ধতা কোনো যন্ত্রের দুর্বলতা নয় বরং প্রকৃতিরই একটি অন্তর্নিহিত ধর্ম।তাই বিজ্ঞানীরা চিন্তা করলেন এই নীতিকে অক্ষুণ্ণ রেখেই কিভাবে কণার অবস্থান এবং ভরবেগ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। তখন তাদের সামনে আসে ২০১৭ সালে প্রস্তাবিত একটি ধারণা। এই ধারণা বলে কোয়ান্টাম সিস্টেমে অবস্থান ও ভরবেগ সরাসরি পরিমাপ না করে, অনিশ্চয়তাকে পুনর্বণ্টন করে সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো একসাথে নির্ণয় করা সম্ভব।গবেষকরা তাদের ব্যাখ্যার জন্য একটি ঘড়ির…

Read More

শুধু শিরোনাম দেখে অনেকে হয়তো এটাকে হেসে উড়িয়ে দিবেন। অথচ আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান আর মহাকাশ প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এমন কিছু ধারণা সামনে এসেছে যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাসকেই চ্যালেঞ্জ করছে। সম্প্রতি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) একটি গভীর পর্যবেক্ষণ এইরকমই এক ধারণাকে আলোচনায় এনেছে। আমাদের মহাবিশ্ব হয়তো একটি ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোলের ভিতরে অবস্থান করছে।এই ধারণার গভীরে যাওয়ার আগে বুঝতে হবে ব্ল্যাক হোল আসলে কী। ব্ল্যাক হোল এমন একটা অঞ্চল যেখানে মহাকর্ষ এতটাই তীব্র যে আলো পর্যন্ত সেখানে থেকে বের হতে পারে না। স্পেস-টাইম এমনভাবে বাঁক খায় যে, সব পথ আবার নিজের দিকেই ফিরে আসে। আমরা যেমন মাটির গর্তে পড়লে একপাশ দিয়ে…

Read More

সিনেমা বা কমিকসের দুনিয়ার সুপারহিরোদের দেয়ালের ভেতর দিয়ে হাঁটা অস্বাভাবিক কিছু না। সেটা অ্যাভেঞ্জার্সের ভিশন হোক বা হ্যারি পটারের জাদুকরদের প্ল্যাটফর্ম 9¾। সিনেমাতে এগুলোকে স্বাভাবিকই মনে হয়। কিন্তু কখনো ভেবেছেন, বাস্তবে এটা সম্ভব কি না? বা আমরা কেন দেয়ালের একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেকপাশ দিয়ে বের হতে পারি না। দেয়াল তো অনেক দূরের কথা। একটা পাতলা কাগজের মধ্যে দিয়েও তো হেঁটে চলে যেতে পারি না। প্রশ্নটা মোটেই অযৌক্তিক নয়। কারণ আমরা তো স্কুল থেকে শিখেছি যে সবকিছু তৈরি হয় পরমাণু দিয়ে, আর সেই পরমাণুর প্রায় সবটাই ফাঁকা জায়গা। কতটা ফাঁকা তা বোঝার জন্য একটি উপমা দেওয়া যেতে পারে: হিসাব বলছে, যদি…

Read More

একজন যুদ্ধবিমান চালক ১,৮০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ত্বরণ সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন, অথচ আরেকজন ব্যক্তি ২৮,০০০ কিমি/ঘণ্টা গতির মহাকাশ স্টেশনে আরামে ভেসে আছেন—কিন্তু এটা কি আদৌ সম্ভব? সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরে সামনে আসছে। অনেকেই ভাবছেন—যুদ্ধবিমান তো তুলনামূলকভাবে ধীরগতির, তাহলে এত দ্রুতগতির মহাকাশ স্টেশনে থাকা ব্যক্তিদের কোনো সমস্যা হয় না কেন? এই লেখায় আমি সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা এবং কিছু বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে এই পার্থক্যটি বোঝানোর চেষ্টা করব। আসলে যুদ্ধবিমান চালক এবং মহাকাশ স্টেশনে থাকা ব্যক্তির শারীরিক অনুভূতির মধ্যে মূল পার্থক্যটি হল ত্বরণ ও জি-ফোর্স-এর ভূমিকা, শুধুমাত্র গতি নয়। গতি অর্থ হলো প্রতি একক সময়ে স্থান পরিবর্তনের পরিমাণ,…

Read More