লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে কিছু খাবারের মিশ্রণ নিয়ে নানা ধরনের বিশ্বাস ও ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি সবচেয়ে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধারণা হলো, ‘আনারস ও দুধ একসাথে খাওয়া উচিত নয়।’ বহু মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই দুটি খাবার একসাথে খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে বা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এমন ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে এটিকে একটি অমোঘ সত্য হিসেবে স্থায়ীভাবে ধরে নিয়েছে। তবে বিজ্ঞান যখন এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করে, তখন দেখা যায় যে বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। আসলে, এই ধারণার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, বরং এটি একটি সামাজিক মিথের অংশ। এই…

Read More

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন যাদের জীবন আলোর মতো। তারা নিজেরা জ্বলে ওঠেন আর পৃথিবীকেও আলোকিত করেন। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন জ্বলজ্বলে নামগুলোর মধ্যে মারিয়া সালোমেয়া স্ক্লোদোভসকা-কুরি অন্যতম। তিনি ছিলেন এমন এক বিজ্ঞানী, যিনি প্রচলিত নিয়ম ভেঙে নিজের পথ তৈরি করেছিলেন। নারী হওয়ার কারণে যে বাঁধাগুলো সেই সময়ে সাধারণ ছিল, তা তাঁর পথকে অসংখ্যবার আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মেরি কুরি ছিলেন দৃঢ় মনবল ও অপরিসীম অধ্যবসায়ের প্রতীক। তাঁর হাত ধরেই পৃথিবী প্রথমবার রেডিওঅ্যাক্টিভিটির জগতে প্রবেশ করে। তাঁর আবিষ্কৃত মৌল পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম মানবজ্ঞানকে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তিনি ছিলেন প্রথম নারী নোবেল বিজয়ী এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুই ভিন্ন বৈজ্ঞানিক…

Read More

পৃথিবীতে অতি সাধারণ একটি কাগজের একটি পৃষ্ঠা নিলেই আমরা সহজেই ভাবতে পারি, এটি কত বড় বা শক্ত হতে পারে। সাধারণত আমরা কাগজকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি, লিখতে, আঁকতে বা ছাপানোর জন্য। কিন্তু কাগজের ভাঁজ করার একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে, যা আমাদের জন্য অদ্ভুত মনে হবে। বহু বছর ধরে বলা হত, কোনো কাগজকে একাধিকবার ভাঁজ করা সম্ভব নয়। প্রথাগত বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি কাগজকে সাতবারের বেশি ভাঁজ করা যায় না। যদিও এটি মনে হয় অতি সাধারণ একটি তথ্য, কিন্তু এই ধারণার পেছনে রয়েছে গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানের একটি অসাধারণ সত্য। প্রতিবার ভাঁজ করার সঙ্গে সঙ্গে কাগজের পুরুত্ব দ্বিগুণ হয়ে যায়। অর্থাৎ, প্রথম ভাঁজে…

Read More

একবার যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করে, আলো আর অন্ধকারের মধ্যে কে সবচেয়ে দ্রুত তাহলে আপনার উত্তর কী হবে? প্রশ্নটা প্রথম শুনলে একটু অদ্ভুত লাগবেই। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি, আলোর গতি হলো মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতি। এর চেয়ে দ্রুত কিছু হতে পারে না। এই ধারণাটা শুধু পাঠ্যবইয়ে লেখা কোনো তথ্য নয়; আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একেবারে ভিত্তিতেই এটি দাঁড়িয়ে আছে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিদিনের GPS, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইন্টারনেট সবকিছুই এই আলোর গতির সীমার ওপর নির্ভর করে। তাহলে প্রশ্ন আসে, অন্ধকার কি আলোর চেয়েও দ্রুত? এই কথাটা কি আদৌ বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক? এই প্রশ্নের উত্তর বোঝার জন্য আমাদের খুব জটিল…

Read More

রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অসংখ্য তারা, গ্রহ, গ্যালাক্সি। এই বিশাল মহাবিশ্বের দিকে তাকিয়ে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটাই প্রশ্ন জাগে—এত বিশাল বস্তুগুলোর ভর আসলে কত? পৃথিবীর ভর কত, সূর্যের কিংবা চাঁদের ভর কত, আমাদের পুরো ছায়াপথ বা এমনকি পুরো মহাবিশ্বের ভরই বা কীভাবে জানা গেল? আমরা তো কখনো পৃথিবীকে দাঁড়িপাল্লায় তুলিনি, সূর্যকে কোনো যন্ত্রে বসিয়ে ওজন মাপিনি। তবুও বিজ্ঞান আজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে দিতে পারে—পৃথিবীর ভর প্রায় ৫.৯৭ × ১০²⁴ কিলোগ্রাম, সূর্যের ভর প্রায় ২ × ১০³⁰ কিলোগ্রাম, আর মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির ভর সূর্যের ভরের প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন গুণ। এই লেখায় ধাপে ধাপে, সহজ ভাষায় বোঝানো হবে…

Read More

আজ থেকে প্রায় তেত্রিশ বছর আগের কথা। ১৯৮৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবী এক ভয়ানক পারমাণবিক বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। সেদিন খুব ভোরে সোভিয়েত ইউনিয়নের মিসাইল ওয়ার্নিং সিস্টেমে ধরা পড়ে যে আমেরিকা থেকে ধেয়ে আসছে একটি মিসাইল। কম্পিউটারের সংকেত জানাচ্ছিল একটা নয় বরং বেশ কয়েকটা মিসাইল ছোড়া হয়েছে আমেরিকা থেকে। সোভিয়েত সেনাবাহিনীর নিয়ম হলো এমন সংকেত পেলে সাথে সাথে পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালানো। ডিউটি অফিসার ছিলেন স্তানিস্লাভ পেত্রভ। শত্রুর মিসাইল হামলার হিসাব রাখা ছিল তার কাজ। কিন্তু তিনি সেই সংকেত ওপরের কর্মকর্তাদের না জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ধরে নিলেন এটা একটা ফলস অ্যালার্ম বা ভুল সংকেত। পেত্রভের এই সিদ্ধান্ত ছিল…

Read More

আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কেবল সূত্র, পরীক্ষার নম্বর আর কঠিন অঙ্কের সমষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ বিজ্ঞান আদতে কৌতূহল, বিস্ময় আর অজানাকে জানার সাহসের গল্প। ঠিক এই জায়গাতেই জনপ্রিয় সংস্কৃতি, বিশেষ করে টিভি সিরিজ বা সিনেমা, অপ্রত্যাশিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ Stranger Things এমনই একটি উদাহরণ, যেটি কেবল বিনোদন নয়, বরং শিক্ষার জগতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের শিক্ষা বিষয়ক আলোচনায় উঠে এসেছে, Stranger Things–এর মতো সিরিজ কি স্কুলের পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষায় নতুন প্রাণ আনতে পারে? অনেক শিক্ষক ও বিজ্ঞান যোগাযোগকারীর মতে, এই সিরিজ…

Read More

মাটিতে পা রাখলেই আমরা যে বিপদের কথা ভাবি, টিটেনাস তার মধ্যে সাধারণত থাকে না। একটি ছোট কাটা, মরিচা ধরা পেরেকের আঁচড়, বা খুব সাধারণ একটি ক্ষত এই আপাত নিরীহ ঘটনাগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে একটি ভয়ংকর রোগ। টিটেনাস এমন একটি সংক্রমণ, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য হলেও এখনো বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এটি ছোঁয়াচে নয়, দ্রুত ছড়ায় না, তবুও একবার শরীরে প্রবেশ করলে এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। এই লেখায় টিটেনাস কী, কীভাবে হয়, শরীরে কী ক্ষতি করে, কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং আধুনিক বিশ্বে এর গুরুত্ব সবকিছু সহজ ও সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরা হবে। টিটেনাস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত । এর…

Read More

মানব ইতিহাসে আগুন আবিষ্কার কেবল একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ছিল না বরং এটি ছিল এমন এক গভীর মোড় পরিবর্তন যা আমাদের প্রজাতির ভবিষ্যৎকে নতুন পথে পরিচালিত করেছে। রান্নার সুবিধা থেকে সামাজিক যোগাযোগের সূচনা—আগুন মানুষের জীবনকে বহু আগেই রূপান্তরিত করে দিয়েছিল। তবে মানুষ ঠিক কবে নিজ হাতে আগুন তৈরি করতে শিখেছিল, সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এতদিন অধরাই ছিল। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই দক্ষতার ইতিহাস আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক প্রাচীন। যুক্তরাজ্যের বার্নহ্যামে একটি কাঁদামাটির খনিতে পাওয়া পোড়া মাটির স্তর, পুরোনো নিদর্শন এবং পাইরাইটের ছোট টুকরো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মানুষ ৪ লাখ বছরেরও আগে আগুন জ্বালাতে পারত। এতদিন সচেতনভাবে আগুন তৈরি করার…

Read More

তারপর, মিয়েশারের আবিষ্কারের পরের দশকগুলিতে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশেষ করে ফোবাস লেভেন এবং এরউইন চারগাফ একাধিক গবেষণা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন যা ডিএনএ অণু সম্পর্কে অতিরিক্ত বিস্তারিত প্রকাশ করেছিল, যার মধ্যে ছিল এর প্রাথমিক রাসায়নিক উপাদানগুলি এবং কীভাবে তারা একে অপরের সাথে যুক্ত হয়েছিল। এই অগ্রগামীদের দ্বারা প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া, ওয়াটসন এবং ক্রিক হয়তো ১৯৫৩ সালের তাদের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারতেন না যে ডিএনএ অণু ত্রিমাত্রিক ডাবল হেলিক্স আকারে বিদ্যমান। ১৯৫৩ সালের ২৫ এপ্রিল, Nature জার্নালে ডিএনএ–এর গঠন সম্পর্কে তিনটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে দুটি প্রবন্ধ আসে লন্ডনের কিংস কলেজের র‌্যান্ডাল ইনস্টিটিউট থেকে। এই ইনস্টিটিউটই প্রথম এমন একটি জায়গা,…

Read More