Author: ইমাম হোসাইন আনজির

মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে অভিযোজনক্ষম প্রাণী। বরফে ঢাকা আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু করে তপ্ত মরুভূমি, ঘন জঙ্গল কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার ফুট উঁচু পাহাড় প্রায় সব ধরনের পরিবেশেই মানুষ টিকে থাকতে পেরেছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়েছে। মানুষ এত দ্রুত পৃথিবীর নানা পরিবেশে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল? শুধুই কি জিনগত বিবর্তনের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে? সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু গবেষণা বলছে, এর উত্তর শুধু জিনে লুকিয়ে নেই। মানুষের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সংস্কৃতি, শেখার ক্ষমতা এবং সামাজিক জ্ঞান। গবেষকদের মতে, মানুষ পৃথিবী জয় করেছে জিনগত বিবর্তনের চেয়ে প্রায় ৩০০ গুণ দ্রুত গতিতে। সাধারণভাবে বিবর্তন বলতে আমরা বুঝি…

Read More

আমরা এতদিন জেনে এসেছি যৌন উদ্দীপনা, আকর্ষণ এবং শারীরিক আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলোতে  মস্তিষ্কেরই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। জানতাম কামোত্তেজনা বা যৌনতার মূল চালিকাশক্তি আমাদের মস্তিষ্ক আর মেরুদণ্ড বা Spinal Cord কেবল মস্তিষ্কের নির্দেশ পালনকারী একটি নিষ্ক্রিয় মাধ্যম মাত্র যার কাজ শেষ মুহূর্তে শুধু বীর্যপাত ঘটানো। ​তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী গবেষণা এই পুরনো ধারণা ও Top-down থিওরির মোর ঘুরিয়ে দিয়েছে। পর্তুগালের বিশ্ববিখ্যাত Champalimaud Foundation এর একদল গবেষক প্রমাণ করেছেন যে আমাদের মেরুদণ্ড কেবল মস্তিষ্কের বার্তাবাহক নয় বরং এটি সরাসরি মানুষের যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ, স্পর্শের অনুভূতি processing এবং যৌনতার পুরো ছন্দ বা Rhythm বজায় রাখতে অত্যন্ত সক্রিয় ও স্বাধীন ভূমিকা পালন…

Read More

দাঁত দেখতে তো হাড়ের মতোই তেমনই শক্ত, সাদা আর ভঙ্গুর তাহলে তো দাঁত হাড়ই হওয়ার কথা তাই না!  কিন্তু না দাঁতকে হাড় বলা যাবে না। American dental Association (ADA) ও Human Anatomy এর সোর্সগুলোর মতে দাঁত ও হাড়ের মধ্যে বাহ্যিক কিছু মিল থাকলেও এদের গঠন, কাজ এবং পুনরুৎপাদন ক্ষমতায় রয়েছে বিশাল তফাৎ। চলুন জেনে নিই কি সেই কারণ যা দাঁতকে হাড়  হতে দিলো না।  ​Distinct Chemical and Structural Composition হাড় ও দাঁতের মৌলিক গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে হাড় মূলত Collagen নামক প্রোটিন এবং Calcium Phosphate এর মিশ্রণ সেখানে দাঁতে কোনো Collagen ই নেই। বরং দাঁত গঠিত Enamel, Dentin ও Pupl…

Read More

বয়ঃসন্ধি এমন একটি সময়, যখন একটি শিশুর শরীর ও মনে একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন আসে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের শুরু। কিন্তু এই পরিবর্তন যদি খুব অল্প বয়সে শুরু হয়, তাহলে সেটি অনেক সময় শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে। ধরুন, একটি ১০ বা ১১ বছরের মেয়ে। তার সহপাঠীরা তখনও খেলাধুলা, কার্টুন আর শৈশবের সরল জীবন নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু তার শরীরে শুরু হয়ে গেছে কৈশোরের পরিবর্তন। শরীর দ্রুত বড় হচ্ছে, অথচ মন তখনও শিশুসুলভ। এই অসামঞ্জস্যই অনেক সময় তাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি করে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। ১৯৭০-এর দশকে…

Read More

প্রতিদিন বিকালে ফ্রেন্চ ফ্রাই, সমুচা, পিৎজা না হলে চলেই না তাই না! আর সকাল সন্ধ্যা একটু বেশি করে চিনি দিয়ে চা না খেলে মনে হয় যেন দিনটাই বৃথা। আর এই গরমে তো কোল্ড ড্রিংকস ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না! তবে ব্যস্ত জীবনে এই অতিরিক্ত চর্বি এবং অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবারগুলো আমাদের সাময়িক তৃপ্তি দেয় ঠিকই কিন্তু অজান্তেই আমাদের ব্রেইনের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। নিউরোসায়েন্সের সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো একটি চমৎকার কিন্তু ভীতিজনক তথ্য সামনে এনেছে। তাদের মতে আমরা যা খাই তা সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই High Fat ও High Sugar যুক্ত খাবারগুলো আমাদের জ্ঞানীয়…

Read More

সৃষ্টিজগতের এক বিস্ময়কর জটিল প্রক্রিয়া হলো নিষেক বা fertilization. আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ভ্রূণতত্ত্ব বা Embryology দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন কিভাবে নিষেকের জন্য শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে যায় এবং আমাদের মতো চোখ না থাকার পরও কিভাবে সে পথ খুঁজে পায়। আজকের লেখায় আমরা শুক্রাণুর এই রহস্যময় যাত্রার আদ্যোপান্ত জানব। শুক্রাণু কিভাবে ডিম্বাণুর অবস্থান চিহ্নিত করে? অন্ধকার জরায়ুর অভ্যন্তরে শুক্রাণুর কোনো চোখ না থাকলেও বিজ্ঞানীদের মতে ডিম্বাণুর উপস্থিতি ও অবস্থান শনাক্ত করার জন্য শুক্রাণু মূলত ৩ টি প্রধান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা সংকেত ব্যবহার করে। Chemotaxis ডিম্বাণু এবং তাকে ঘিরে থাকা follicle কোষগুলো থেকে Progesterone হরমোনসহ কিছু বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত…

Read More

ড্রাগন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। এই কাল্পনিক প্রাণীটি কোথা থেকে এলো, এর উৎপত্তি বা নামকরণের নেপথ্যে কী রহস্য লুকিয়ে আছে—তা নিয়ে যেমন প্রশ্নের শেষ নেই, তেমনি উত্তর ও তত্ত্বেরও অভাব নেই। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ড্রাগনকে স্রেফ একটি ডানাওয়ালা, আগুনখেকো গিরগিটি কিংবা বিশাল সাপের মতো অবয়বে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু নৃবিজ্ঞান, রাজনৈতিক ইতিহাস, বিবর্তনীয় মনস্তত্ত্ব এবং ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, এই রহস্যের সুতোটি আসলে মানব সভ্যতার আদিমতম সামাজিক বিবর্তনের সাথে যুক্ত। নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ যখন প্রথম দলবদ্ধ হয়ে সমাজ ও গোত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুরু করল, তখনই মূলত জন্ম নেয় টোটেমবাদ। আদিম মানুষেরা বিশ্বাস করত…

Read More

আজকের এই দুনিয়ায় ভালোবাসার জন্য মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। শাহজাহান যেমন ভালোবেসে তাজমহল বানিয়েছিল, রাজা এডওয়ার্ড প্রেমিকার জন্য সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছিল, মজনু লাইলীর জন্য মরুভূমিতে জীবন কাটিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রের নিচে এমন একটা প্রাণী আছে যে প্রেম করতে যাওয়ার আগেই নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সেটি হলো পুরুষ অক্টোপাস। প্রেম যখন বাধা মানে না সমাজে লোকমুখে শোনা যায় প্রেম কোন বাধা মানে না সেটার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অক্টোপাস। অক্টোপাসদের মাঝে স্ত্রী অক্টোপাস পুরুষদের তুলনায় অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে ব্ল্যাঙ্কেট অক্টোপাস নামে যে নারী অক্টোপাস রয়েছে সেটি পুরুষের চেয়ে প্রায় ৪০ হাজার গুণ ভারী হয়ে থাকে। এতে…

Read More

চোখ মেললেই রাতের আকাশে দেখতে পাই অসংখ্য তারার মেলা। আমাদের বসবাস মিল্কিওয়ে-তে। শুধু এখানেই রয়েছে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র, ডার্ক ম্যাটার কিংবা নেবুলার মতো রহস্যময় বস্তু। আবার এই মহাবিশ্বেই রয়েছে শত শত বিলিয়ন গ্যালাক্সি যার কাছে আমাদের এত বিশাল মিল্কিওয়ে ধুলিকণা মাত্র।‌ কিন্তু এতকিছুর পরও আমরা কি কখনও নিজেকে প্রশ্ন করেছি, মহাবিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, নক্ষত্র কিংবা বিশাল গ্যালাক্সি থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা অন্য কোথাও প্রাণের সন্ধান পাইনি? ১৯৫০ সালের গ্রীষ্মকাল। পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি তার কিছু সহকর্মীদের সাথে আলোচনার সময় হঠাৎ বলে উঠলেন, “where is everyone?” এ প্রশ্ন থেকেই জন্ম ফার্মি প্যারাডক্স-এর। বিজ্ঞানী ফার্মির বক্তব্য হচ্ছে, মহাবিশ্বে যদি খুব বেশি সভ্যতা…

Read More

কখনো কি এমন হয়েছে যে কোনো একটা কাজ করার পর হঠাৎ মনে হলো কাজটা হয়তো ঠিক হয়নি? অথচ কিছুক্ষণ পরই নিজের মনকে বোঝাতে শুরু করেছেন যে না, আসলে যা করেছি ঠিকই করেছি। মজার ব্যাপার হলো, এই ঘটনা শুধু আপনার বা আমার সঙ্গে নয়। প্রায় সব মানুষের সঙ্গেই এমনটা ঘটে। আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিই, কোনো অভ্যাস ধরে রাখি বা এমন কিছু করি যা আমাদের নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না, তখন মনের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। আর সেই অস্বস্তি কমাতেই শুরু হয় নানারকম যুক্তি খোঁজার চেষ্টা। মনোবিজ্ঞানী Leon Festinger ১৯৫৭ সালে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মনোবিজ্ঞানে…

Read More