লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

শূন্যস্থানে, আলো সর্বদা প্রতি সেকেন্ডে ২৯,৯৭,৯২,৪৫৮ মিটার স্থির গতিতে ভ্রমণ করে। পদার্থবিদদের দ্বারা নির্দেশিত এই ধ্রুবক c এর চেয়ে দ্রুত আর কিছুই ভ্রমণ করতে পারে না। এই দুটি স্বীকৃত ধারণা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি এবং একশ বছরেরও বেশি সময় আগে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রথম ঘোষণা করেছিলেন। তবুও, আলোকে স্থির অবস্থায় আটকে রাখার জন্য কিছু উদ্ভাবনী উপায় রয়েছে যা শুনলে বেশ অদ্ভুত লাগতে পারে। হ্যাঁ, এট সত্যি যে কোনো কিছুই আলোর চেয়ে দ্রুত ভ্রমণ করতে পারে না। তবে যখন আলো ভ্যাকুয়ামের বাইরে কোনো মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার গতি কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ, পানি বা বাতাসের মধ্য দিয়ে আলো ধীরগতিতে চলে। এর…

Read More

ChatGPT, Google Gemini কিংবা Perplexity-র মতো শক্তিশালী AI টুলগুলো আসার পর থেকে একটি প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে যে মেশিন কি মানুষের চেয়ে দ্রুত শেখে? আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, AI-ই জয়ী। কারণ, চোখের পলকে হাজার পৃষ্ঠার বই পড়ে ফেলা কিংবা কয়েক সেকেন্ডে বিশাল ডেটা প্রসেস করার ক্ষমতা মানুষের নেই। কিন্তু বিজ্ঞানের গভীরে তাকালে দেখা যায়, উত্তরটা এত সহজ নয়। তথ্যের প্রসেসিং স্পিড আর প্রকৃত শেখার দক্ষতা উভয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বৈজ্ঞানিক এবং গাঠনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখব, শেখার জাদুতে আসলে কার মস্তিষ্ক বেশি শক্তিশালী? রক্ত-মাংসের মানুষের, নাকি সিলিকন চিপের মেশিনের? তথ্যের গতি vs শেখার দক্ষতা…

Read More

মানুষসহ সব সামাজিক প্রাইমেটের জন্য চোখের দৃষ্টির দিক বা আই গেজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হয়তো সে কারণেই চোখের সাথে সম্পর্কিত ইলিউশন আমাদের কাছে এত আকর্ষণীয় মনে হয়। অন্য কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কি না বা ঠিক কোথায় তাকাচ্ছে এ ব্যাপারটা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখে। দৃষ্টির দিক নিয়ে অনিশ্চয়তা আমাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে। এ কারণেই গাঢ় সানগ্লাস পরা কারও সঙ্গে কথা বলা অনেক সময় বিব্রতকর হয়। আমরা বুঝতে পারি না তিনি আসলে কোথায় তাকিয়ে আছেন। এই একই কারণে অনেকেই সানগ্লাস পরে কারণ এতে চোখ ঢেকে যায়, আর তাকে একটু রহস্যময় লুকে দেখা যায়। মানুষের এই স্বাভাবিক মনস্তত্ত্বকে…

Read More

সাম্প্রতিক সময়ে (২১ নভেম্বর, ২০২৫) বাংলাদেশে ৫.৪ মাত্রার তীব্র এক ভূমিকম্পের ফলে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের জনজীবনে একটি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক মানুষের প্রায়ই হঠাৎ মনে হচ্ছে যেন পায়ের নিচের মাটি আবার দুলছে। আবার কাজের ফাঁকে কেউ হয়তো চেয়ারে বসে আছেন কিংবা রাতে বিছানায় শুয়েছেন, আচমকা মনে হলো সবকিছু কেঁপে উঠল। অথচ তাকিয়ে দেখলেন ফ্যান স্থির, গ্লাসের পানিও নড়ছে না। এই যে ভূমিকম্প না হওয়া সত্ত্বেও কম্পন অনুভব করা, এটা কি শুধুই মনের ভুল নাকি শরীরের কোনো জটিল সমস্যা? চিকিৎসাবিজ্ঞানের গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি আসলে শরীর এবং মন উভয়ের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। এই অবস্থাকে বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে PEDS, সিজমোফোবিয়া, Panic…

Read More

সম্প্রতি আমাদের দেশে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে অনেকেই এক রাতের মধ্যে ছেলে থেকে মেয়ে বা মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাচ্ছে। কৌতূহলী মানুষের কাছে একটাই প্রশ্ন যে কীভাবে সম্ভব? চলুন জেনে নেয়া যাক। মানবদেহের জন্মের আগ থেকেই শরীরের ক্রোমোজোম, হরমোন এবং রিসেপ্টর একসঙ্গে কাজ করে লিঙ্গনির্ধারণ করে ফেলে। লিঙ্গনির্ধারণ একটি জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া হবার কারণে কিঞ্চিৎ কোনো তারতাম্য জন্মগতভাবে ভিন্নতা এনে দিতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Differences of Sex Development (DSD) বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বর্তমানে একটি আলোচিত অবস্থাগুলোর একটি হলো টেস্টিকুলার ফেমিনাইজেশন যা জীববিজ্ঞানের ভাষায় Complete Androgen Insensitivity Syndrome (CAIS) হিসেবে স্বীকৃত। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি জিনগতভাবে পুরুষ…

Read More

আমরা সবাই আজকাল কমবেশি টিভি দেখে থাকি। স্মার্ট ফোনের সহজলভ্যতার কারণে এখন টেলিভিশন দেখার প্রবণতা কমে গেলেও এখন ও অনেকে দেখে থাকি। খেয়াল করে দেখবেন আপনি যখন আপনার টিভি চ্যানেল পরিবর্তন করেন, তখন স্ক্রিনে ছোট ছোট সাদা ও কালো বিন্দু ঝলমল করে। এটি আমরা সাধারণত স্ট্যাটিক বা স্নো নামে জানি। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে অনেকেই এটিকে কেবল বিরক্তিকর বা অসংলগ্ন কিছু মনে করেন। কিন্তু এর মধ্যে লুকানো রয়েছে একটি অত্যন্ত রহস্যময় এবং বিজ্ঞানসম্মত সত্য। বাস্তবে, এই টিভি স্ট্যাটিকের এক ছোট অংশের উৎস হলো মহাবিশ্বের জন্মের সময়কার আলোকিত স্মৃতি, যা আমরা কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বা CMB নামে চিনি। এটি বিগ…

Read More

বিজ্ঞানের বদৌলতে যেখানে মানুষের জীবন বদলে যায়, সেখানে সেই শক্তিই কখনো কখনো ভয় ও দ্বিধাও নিয়ে আসে। হাইড্রোজেন বোমা বা থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা বিজ্ঞানের শিখরের সঙ্গে মানবতার সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নগুলোও তুলেছে। এটি কেবল অস্ত্র নয় বরং এটি শক্তি, রাজনীতি, নীতি এবং মানবিক হিসাবে বিবেচনার এক জটিল সমষ্টি। আপনি যদি জানতে চান এই অস্ত্রটি কোথা থেকে শুরু হলো, কিভাবে কাজ করে, কখন এবং কোথায় পরীক্ষিত হলো এবং আজকের বিশ্বের অবস্থানে এর গুরুত্ব কতটুকু? এই লেখায় সেই সব বিষয় বিস্তারিত ও সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। হাইড্রোজেন বোমার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পারমাণবিক শক্তিকে সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:…

Read More

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় ছিল ৫৩৬ খ্রিস্টাব্দ। অন্যদিকে ১৭তম শতাব্দীকে ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সময়কাল মানুষের জন্য ছিল ভয়ের, দারিদ্র্যের, দুর্ভিক্ষের এবং ক্রমাগত অনিশ্চয়তার যুগ। আধুনিক চিকিৎসা বা প্রযুক্তি তখন কেউ জানত না, মানুষ ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। এই শতাব্দীর মানুষদের জীবন ছিল প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার লড়াই, যেখানে প্রতিটি দিন কাটছিল আতঙ্ক, ক্ষুধা এবং রোগের ভয় নিয়ে। এই যুগের ভয়াবহতা বোঝার জন্য শুধু যুদ্ধের দিকে তাকানো যথেষ্ট নয়, বরং জলবায়ু, কৃষি, অর্থনীতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং মানুষের মানসিক অবস্থা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রথমেই বলতে হবে Little Ice Age বা…

Read More

নারীর শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে বহু ধরনের ধারণা সমাজে প্রচলিত। বিশেষ করে মাসিক চক্রের সময় নারীরা দুর্বল হয়ে পড়েন এবং মনোযোগ ও রিয়্যাক্টিভিটি কমে যায় এমন একটি বিশ্বাস প্রায়শই শোনা যায়। এমনকি অনেক নারী নিজেরাও মনে করেন, পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে কম সক্ষম হন। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখা গেছে, এই অনুমান সবসময় সঠিক নয়। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষকরা এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যার ফলাফল সমাজে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। তারা দেখেছেন, মাসিক চক্রের নির্দিষ্ট ফেজ অনুযায়ী নারীর মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা কিছুটা ওঠাপড়া করলেও, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বা ব্যায়াম এই ওঠাপড়ার চেয়ে অনেক…

Read More

আমাদের সবারই কমবেশি জীবনে একাধিকবার ফোড়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে নিতম্বে হলে তো কথাই নেই। এই ফোড়ার ব্যথায় কয়েকদিন ঠিকমতো বসাই যেন হারাম হয়ে যায়। চলুন আজকে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক ফোড়া আসলে কী, কেনোই বা হয়, এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী এবং এর ফলে কী কী স্বাস্থ্যগত জটিলতা হতে পারে। ফোড়া (Boil বা Furuncle) হলো ত্বকের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে তৈরি হওয়া বেদনাদায়ক একধরনের গাঁট। সাধারণত Staphylococcus aureus ব্যাকটেরিয়া কিংবা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ত্বকে প্রবেশ করলে এই সমস্যা হয়ে থাকে। সাধারণত শরীরের নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন অংশে ফোড়া বেশি দেখা যায়, তবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলেও যেকোনো মানুষের কমবেশি এটি হতে…

Read More