Author: ইমাম হোসাইন আনজির

সন্তানের জন্ম প্রতিটি পরিবারেই খুশির বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু প্রসবের সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয় পরিবারকে – বাচ্চাটা নরমাল ডেলিভারিতে হবে নাকি সিজারে! এই সিদ্ধান্তের ওপর বাচ্চার এবং মায়ের ডেলিভারি পরবর্তী শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের স্বনামধন্য সকল চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে অতিরিক্ত সংকটাপন্ন পরিস্থিতি ব্যাতিত কখনোই সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি করা উচিত নয়। কেনো উচিত নয়! তাই জানবো আজকের লেখায়। নরমাল ডেলিভারি কি?  কিভাবে কাজ করে?  নরমাল ডেলিভারি হলো একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। সৃষ্টির শুরু থেকেই নারীদের শরীর এই প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত করে তৈরি এবং এভাবেই সন্তানের জন্ম হওয়া স্বাভাবিক ও…

Read More

পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু প্রশ্ন আছে, যেগুলো দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি প্রশ্ন হলো—আমাদের বাস্তবতা আসলে কীভাবে গড়ে ওঠে? মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম জগতকে ব্যাখ্যা করে কোয়ান্টাম মেকানিক্স, আর বিশাল মহাজাগতিক কাঠামোকে ব্যাখ্যা করে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। কিন্তু এই দুই তত্ত্বকে একসঙ্গে মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা তৈরি করা এখনো সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি থিওরি অব এভরিথিং বা সর্বজনীন তত্ত্বের সন্ধান করছেন, যা প্রকৃতির সব মৌলিক শক্তি ও ঘটনাকে এক সূত্রে ব্যাখ্যা করতে পারবে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মাধ্যাকর্ষণকে কোয়ান্টাম নিয়মের অধীনে আনতে হবে। অর্থাৎ গ্র্যাভিটিকেও অন্য মৌলিক…

Read More

শরৎ এলে কিংবা শীতের শুরুতে গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতার দৃশ্য আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। সাধারণত আমরা মনে করি, পাতা ঝরে পড়া একটি সহজ প্রাকৃতিক ঘটনা। কিন্তু একটি পাতা গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ঠিক কোথায় গিয়ে পড়বে, সেটিও যে জটিল বৈজ্ঞানিক নিয়মের অধীনে নির্ধারিত হয়, তা সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, একটি পাতার আকৃতি ও প্রতিসাম্যতা নির্ধারণ করতে পারে সেটি গাছের কাছাকাছি পড়বে নাকি বাতাসে ভেসে অনেক দূরে চলে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, পাতার জ্যামিতিক গঠন তার পতনের ধরনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে পাতার দুই পাশ কতটা সমান বা প্রতিসম এবং…

Read More

আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির খোঁজে সবাই মরিয়া হয়ে থাকে। কিন্তু শহরে বড় বড় উদ্ভিদের দেখা মেলে না। তাই একটুখানি সবুজের ছোঁয়া পেতে ইনডোর উদ্ভিদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি উদ্ভিদ স্নেক প্ল্যান্ট। এর লম্বা, খাড়া এবং তলোয়ারের মতো পাতার গঠনের জন্য আমাদের দেশে অনেকের কাছে এটি Mother-in-law’s tongue নামে পরিচিত। স্নেক প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম Dracaena trifasciata। এই গাছটিকে ইনডোর উদ্ভিদ জগতের অমর উদ্ভিদ বলা হয়। কারণ এই গাছ চরম অবহেলাতেও বেঁচে থাকে। কেউ যদি পানি না দিয়ে ঘরের কোণে ফেলে রাখেন, তবুও এ গাছটি মরে যাবে না। তাই যারা খুব ব্যস্ত থাকেন, গাছে পানি দেওয়ার…

Read More

আমরা ছোটবেলায় বা এখনো যখন স্পাইডারম্যানের সিনেমা দেখি, মনে হয় এরকম যদি সত্যিই হওয়া যেত। Wall climbing করা, কব্জি থেকে জাল ছুঁড়ে বিল্ডিং থেকে বিল্ডিংয়ে দুলে বেড়ানো, বিপদ আসার আগেই টের পাওয়া (spider সেন্স এর মাধ্যমে)। পিটার পার্কারের গল্পটা কমিকস থেকে শুরু হয়ে সিনেমায় এসে একটাই প্রশ্ন রেখে গেছে, বিজ্ঞান কি এটা আসলে সম্ভব করতে পারে? কমিকসে একটা রেডিওএক্টিভ মাকড়সার কামড়ে পিটারের শরীরে মাকড়সার সব গুণ চলে আসে। হাত আর পায়ে সূক্ষ্ম লোমের মতো গঠন তৈরি হয় যা দিয়ে যেকোনো পৃষ্ঠে আটকে থাকা যায়, শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী হয়ে যায়, রিফ্লেক্স এতটাই দ্রুত হয় যে বুলেট এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব…

Read More

ধরুন, আপনি খুব আয়েশ করে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা প্রিমিয়াম কফিতে চুমুক দিলেন। চমৎকার সুগন্ধ আর তেতো স্বাদে আপনার মনটা ভরে গেল। কিন্তু কেমন লাগবে যদি জানতে পারেন, ওই প্রতি চুমুকের সাথে কফির গুঁড়োর ছদ্মবেশে আপনার পেটে চলে যাচ্ছে তেলাপোকার গুঁড়ো করা ডানার অংশ বা মৃত কোষ? শুনতে গা ঘিনঘিন করা কোনো হরর সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটি এক নির্মম বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা। বিশ্ববিখ্যাত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা FDA (Food and Drug Administration) নিজেই তাদের অফিসিয়াল হ্যান্ডবুকে কফিতে তেলাপোকার মতো পোকা-মাকড়ের অংশ থাকাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু কেন আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও নামী-দামী ব্র্যান্ডের কফিতে তেলাপোকার এই অবশেষ রয়ে যায়? আর কেনই বা…

Read More

‎ক্রাইম থ্রিলার এবং সিনেমায় আমাদের অত্যন্ত পরিচিত একটি দৃশ্য হলো, কোনো এক পরিত্যক্ত ঘরে একটি লাশ পড়ে আছে, আর তখন একজন গোয়েন্দা এসে লাশের হাত ও ঘাড় একটু নেড়েই খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে দিলেন, মার্ডারটি ঠিক এত ঘণ্টা আগে হয়েছে! কখনো কি ভেবে দেখেছেন তারা এই সময়টা কীভাবে বুঝতে পারে? সিনেমার এ ঘটনাগুলে একটু অতিরঞ্জিত হলেও চলুন আজ আমরা বাস্তব প্রক্রিয়াগুলো জেনে নেই।‎‎আসলে কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তার নিথর দেহটি প্রাকৃতিকভাবেই একটি স্টপওয়াচে রূপান্তরিত হয়। ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা লাশের শরীরের ঠিক সেই অদৃশ্য ঘড়ির কাঁটা আর রাসায়নিক পরিবর্তনগুলো মেপেই অপরাধের আসল সময় বের করেন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে Post-Mortem Interval বলা…

Read More

বছর আসে বছর যায়। সাথে আমাদের দেশে আসে নিত্যনতুন রোগের প্রাদুর্ভাব। এইতো কিছুদিন আগে ডেঙ্গুর থাবা থেকে একটু মুক্তি পেতে না পেতেই হামের আগ্রাসন। আমাদের দেশের মানুষ আসলেই কত অভাগা!! হাসপাতালের বেড ভরে যায়, মায়েদের চোখে জমে ভয়, আর ছোট ছোট শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক না কেন, কিছু রোগ এখনো আমাদের অসচেতনতা আর অবহেলার সুযোগ নিয়ে বারবার ফিরে আসে। হাম তারই একটি ভয়ংকর উদাহরণ। হাম আসলে কী? হাম বা Measles একটি ভাইরাসবাহিত রোগ। ভাইরাসের নামও কিন্তু Measles Virus এই ভাইরাস পৃথিবীর অন্যতম একটি সংক্রামক ভাইরাস যা রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় খুব সহজেই।…

Read More

গণিত কি মানবসভ্যতার ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে? প্রশ্নটা বোধ হয় প্রথম শুনছেন, তাই শুনলে প্রথমে একটু অদ্ভুতই লাগতে পারে, তাই না? পৃথিবীতে যুদ্ধ হচ্ছে, জলবায়ু বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে আর এসবের মাঝেও কিছু মানুষ বসে হিসাব কষছে, মানুষ আর কতদিন টিকে থাকতে পারে। আরও অবাক করা বিষয় হলো, তারা এই হিসাব করার চেষ্টা করছেন শুধু পরিসংখ্যান আর সম্ভাব্যতার সাহায্যে। এই ধারণাটির নাম Doomsday Argument। শুনতে অনেকটা সায়েন্স ফিকশনের মতো লাগলেও দর্শন ও গণিতের জগতে এটি বহু বছর ধরেই আলোচিত একটি বিষয়। এই তত্ত্ব প্রথম সামনে আনেন পদার্থবিজ্ঞানী ব্র্যান্ডন কার্টার। পরে দার্শনিক জন লেসলি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী জে. রিচার্ড গট এটিকে আরও…

Read More

ভূমিকম্প পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এবং অনিশ্চিত প্রাকৃতিক ঘটনা। এটি সাধারণত ভূগর্ভের টেকটোনিক প্লেটগুলোর আকস্মিক সরে যাওয়ার কারণে ঘটে। এই শক্তিশালী কম্পন অনেক সময় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে তৈরি হতে পারে সুনামি। কিন্তু নদী বা খাল খনন করে, অর্থাৎ ড্রেজিং করে কি ভূমিকম্প মোকাবিলা করা সম্ভব? সহজ উত্তর হলো না, কারণ ভূমিকম্পের উৎস পৃথিবীর অনেক গভীরে, আর নদী বা খালের পরিবর্তন কেবল পৃথিবীর উপরিভাগে ঘটে। এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি বুঝতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন। ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া। এই প্লেটগুলো…

Read More