লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

মানুষ ও পোষা প্রাণীর সম্পর্ক হাজার বছরের পুরোনো। বিশেষ করে বিড়ালকে অনেকে পরিবারের সদস্যের মতোই ভালোবাসেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে শৈশবে বা জীবনের যেকোনো সময়ে বিড়ালের সংস্পর্শে আসা মানুষের স্কিজোফ্রেনিয়া-সম্পর্কিত মানসিক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ দাবি শুনে অনেকে বিস্মিত হলেও গবেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণাটি ৪৪ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১১টি দেশের ১৭টি আলাদা গবেষণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিড়ালের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে স্কিজোফ্রেনিয়া-সংশ্লিষ্ট লক্ষণ বা ব্যাধির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝুঁকি…

Read More

মানবজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো যৌনতা। এটি শরীরের মতোই মনেরও একটি স্বাভাবিক প্রয়োজন। কিন্তু কখনও কখনও মানুষ এই স্বাভাবিক প্রবৃত্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যার ফলে তা এক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কেউ কেউ অনুভব করেন যে তারা স্বমেহনের অভ্যাস থেকে মুক্ত হতে পারছেন না, যদিও মনের গভীরে তাঁরা তা কমাতে বা বন্ধ করতে চান। এই অবস্থার পেছনে কারণ থাকতে পারে মানসিক চাপ, একাকিত্ব, অবসাদ কিংবা অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফির দেখার ফল। আজকের লেখায় আলোচনা করা হবে, কীভাবে একজন মানুষ বৈজ্ঞানিকভাবে, ধীরে ধীরে, কিন্তু বাস্তবসম্মত উপায়ে এই অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। স্বমেহন নিজে কোনো অপরাধ বা শারীরিক ক্ষতির কারণ নয়,…

Read More

পৃথিবীকে যদি আমরা একটি বিশাল, জীবন্ত কারখানার মতো ভাবি তবে সেই কারখানার চালক শক্তিই হলো বিকিরণ। সূর্যের আলো, ভূ-গর্ভস্থ রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান, এমনকি মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রশ্মি এসব বিকিরণই আমাদের পৃথিবীতে জীবনের বিকাশ, টেকসইতা এবং বিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি। বিকিরণ না থাকলে হয়তো আমরা আজকে পৃথিবীতে থাকতাম না। এই ধারণা প্রথমে শুনলে অদ্ভুত মনে হতে পারে, কারণ আমরা সাধারণত বিকিরণকে ক্ষতিকারক হিসেবে চিন্তাই করি। তবে প্রকৃতপক্ষে, বিকিরণ জীবনকে গড়ে তুলতে এবং বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য এবং টেকসই জীবন অনেকাংশে সূর্যের আলো বা সৌর বিকিরণের ওপর নির্ভরশীল। সূর্য থেকে আসা আলোকরশ্মি হলো প্রাথমিক শক্তি, যা সরাসরি বা…

Read More

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ১ আর ২-এর মাঝখানে ঠিক কতটা পার্থক্য? প্রথমে প্রশ্নটি একেবারেই স্বাভাবিক ও সহজ মনে হয়। আমরা সবাই জানি, ২ মানে ১-এর চেয়ে এক বেশি। কিন্তু যখন আমরা সেই একের মধ্যে প্রবেশ করতে যাই অর্থাৎ সংখ্যাগুলিকে ভেঙে ভেঙে দেখি তখনই শুরু হয় চমৎকার এক রহস্য। ১-এর পর আসে ১.১, তারপরে ১.০১, তারপর ১.০০১, ১.০০০১, এভাবে চলতে থাকে অন্তহীনভাবে। যতই আমরা দশমিক যোগ করি, সংখ্যাটি ২-এর কাছাকাছি যায় কিন্তু কখনোই ২-তে পৌঁছায় না। মনে হয় যেন ২-এর আগে পৌঁছানো অসম্ভব। এখানেই মানুষ প্রায়ই প্রশ্ন তোলে, তাহলে ১ থেকে ২ পর্যন্ত যাত্রা কি আসলে শেষ হয় না? এই অসীম…

Read More

মানুষের ব্যক্তিত্বের ভেতরে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য কাজ করে। কেউ নিজের সাফল্য নিয়ে গর্ব করতে ভালোবাসে, কেউ আবার চায় সবার প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু হতে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের এই প্রবণতা সাধারণ আত্মবিশ্বাসের সীমা ছাড়িয়ে যায়৷ যারা নিজেকে সব সময় অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে ভালোবাসে, কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে রাখে গভীর অনিশ্চয়তা ও ভয়ের অনুভূতি। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকেই বলা হয় নার্সিসিজম। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন সূত্র খুঁজে পেয়েছেন যা হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু মানুষ নার্সিসিস্ট হয়ে ওঠে।আজকের পৃথিবীতে নার্সিসিস্ট শব্দটি প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা দৈনন্দিন কথায় অনেকেই কাউকে সমালোচনা করতে গিয়ে বলে বসেন “সে…

Read More

কখনও কি এমন কারও সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে, যিনি সর্বদা নিজের কথাই বলেন, অন্যের অনুভূতির প্রতি একটুও মনোযোগ দেন না বা শোনেনই না আর সামান্য সমালোচনাতেই প্রচণ্ড রেগে যান? এই ধরনের মানুষদের আমরা প্রায়ই নার্সিসিস্ট বলি। কিন্তু বিজ্ঞানের কাছে জানতে পারি, নার্সিসিজম শুধু একটা স্বভাব নয়, এটি একধরনের ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য বা কখনও মানসিক ব্যাধিও হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে এই অবস্থার চিকিৎসা কি সম্ভব? নার্সিসিজম শব্দটির উৎস গ্রিক পুরাণের চরিত্র নার্সিসাস, যিনি নিজের প্রতিচ্ছবির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। মনোবিজ্ঞানে এটি এমন এক ব্যক্তিত্বধারা, যেখানে মানুষ নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, অতিরিক্ত মনোযোগ ও প্রশংসা চায় এবং সমালোচনা সহ্য করতে পারে না।…

Read More

মানবজীবনের অন্যতম গভীর আকাঙ্ক্ষা হলো নিজের সন্তানকে পৃথিবীতে দেখা। এই আকাঙ্ক্ষা সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে, কিন্তু তার মূল সত্তা অপরিবর্তিত অর্থাৎ সন্তান মানে নিজের রক্তের উত্তরাধিকার। প্রযুক্তির অগ্রগতি আজ এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে এই স্বপ্ন পূরণের পথ লিঙ্গ, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমারেখা অতিক্রম করছে। এমন এক বিস্ময়কর ও আলোচিত বিষয় হলো, একজন ব্যক্তি যিনি জন্মগতভাবে পুরুষ ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে নারী হয়ে উঠেছেন, তিনি কি নিজের সংরক্ষিত শুক্রাণু ব্যবহার করে মা হতে পারেন? এমন এক জটিল প্রশ্ন পাই আমাদের কি…বিজ্ঞান খুঁজছেন গ্রুপে। চলুন বিশ্লেষণ করে দেখা যাক জৈবিক সম্ভাবনা যিনি জন্মগতভাবে পুরুষ ছিলেন এবং পরবর্তীতে নারী হিসেবে…

Read More

১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বার্নহার্ড রিম্যান Mathematical space যাকে গণিতের স্থানও বলা হয় সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবার ধারণা উদ্ভাবন করেন, যা আধুনিক জ্যামিতি এবং পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে। একটা খোলা মাঠের মাঝখানে দাঁড়ালে আপাতদৃষ্টিতে এ পৃথিবীকে সমতল মনে হয়। তখন আমরা সহজেই ভুলে যাই যে আমরা একটি গোলাকার গ্রহে বাস করি। কারণ পৃথিবীর তুলনায় আমরা এতই ছোট যে আমাদের দৃষ্টিতে পৃথিবী সমতল মনে হয়। এরকম আরও অনেক আকৃতি আছে যেগুলো আবার পোকামাকড়ের দৃষ্টিতে সমতল মনে হয়, যদিও তাদের বৈশ্বিক কাঠামো অনেক জটিল। গণিতশাস্ত্রে এই ধরনের আকৃতিগুলোকে মানিফোল্ড বলা হয়। রিম্যান ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই ধারণাটি প্রবর্তন করেন। তার ফলে গণিতের জগতে…

Read More

একটি ছোট শহরের কথা কল্পনা করুন যেখানে দুইজন যন্ত্রাংশ বিক্রেতা বসবাস করে। এই শহরের গ্রাহকরা সবসময় কম দামের পণ্য কিনতে চায়। তাই বিক্রেতারা প্রতিযোগিতা করে সর্বনিম্ন দামে বিক্রি করার জন্য। দুই ব্যবসায়ী তাদের অল্প লাভ নিয়ে অসন্তুষ্ট। এক রাতে তারা একসাথে বসে গোপনে আলোচনা করল, যদি তারা একসাথে দাম বাড়ায়, তাহলে দুজনেই বেশি লাভ করতে পারবে। কিন্তু এই ধরনের সমঝোতা যাকে Collusion বলা হয় আর এটা বহু বছর ধরেই আইনত নিষিদ্ধ। তাই তারা এ ঝুঁকি নিতে চায় না ফলে গ্রাহকরাও সস্তা পণ্য পেতে থাকে। শতাধিক বছর ধরে, যুক্তরাষ্ট্রে আইন এই একই মূলনীতি অনুসরণ করে এসেছে যে গোপন সমঝোতা বন্ধ করুন,…

Read More

প্রকৃতিতে প্রাণীর আকার ও রূপের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। ছোট পিঁপড়া থেকে বিশাল হাতি বা নীল তিমি থেকে ক্ষুদ্র হ্যামারহেড হাঙর প্রত্যেকের দেহরূপ ও আকার ভিন্ন। তবে কি এই বৈচিত্র্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কোনো গাণিতিক নিয়ম? প্রায় শতাব্দী ধরে জীববিজ্ঞানীরা এই প্রশ্ন নিয়ে ভাবছেন। সাধারণভাবে ধরা হয়, একটি তিন মাত্রিক বস্তু যত বড় হয়, তার পৃষ্ঠফল, তার ভরের তুলনায় ধীরে ধীরে বাড়ে। যদি বস্তুটির আকার একই থাকে, তবে পৃষ্ঠফল প্রায় ভরের দুই-তৃতীয়াংশ হারে বৃদ্ধি পায়। এখন নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙরদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সত্যিই প্রযোজ্য হতে পারে যা আমাদের জীববিজ্ঞানে মৌলিক সীমাবদ্ধতা বোঝায়। অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শার্ক বিজ্ঞানী…

Read More