মানুষ ও পোষা প্রাণীর সম্পর্ক হাজার বছরের পুরোনো। বিশেষ করে বিড়ালকে অনেকে পরিবারের সদস্যের মতোই ভালোবাসেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে শৈশবে বা জীবনের যেকোনো সময়ে বিড়ালের সংস্পর্শে আসা মানুষের স্কিজোফ্রেনিয়া-সম্পর্কিত মানসিক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ দাবি শুনে অনেকে বিস্মিত হলেও গবেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন।
গবেষণাটি ৪৪ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১১টি দেশের ১৭টি আলাদা গবেষণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিড়ালের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে স্কিজোফ্রেনিয়া-সংশ্লিষ্ট লক্ষণ বা ব্যাধির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর সম্ভাব্য একটি কারণ হলো Toxoplasma gondii নামের এক ধরনের পরজীবী, যা বিড়ালের শরীরে বংশবৃদ্ধি করে এবং কখনো কখনো মানুষের শরীরেও প্রবেশ করতে পারে। এই পরজীবী মানুষের মস্তিষ্কে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সব গবেষণায় একই রকম ফল পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু গবেষণা কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায়নি, আবার কিছু গবেষণা নির্দিষ্ট বয়স বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বাড়ার কথা বলেছে। বিজ্ঞানীরা এটিও বলেছেন যে, শুধু বিড়ালই নয়, অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া বা পরিবেশগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও, স্কিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মানসিক ব্যাধি, যার পেছনে জেনেটিক, পরিবেশগত এবং জীববৈজ্ঞানিক নানা কারণ জড়িত থাকে।
সব মিলিয়ে গবেষণাটি বিড়াল পালনের বিষয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরো গভীর গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার জন্য। বর্তমানে তথ্য সীমিত ও অসম্পূর্ণ, তাই সম্পর্ক থাকলেও নিশ্চিতভাবেই বলা যায় না যে বিড়াল স্কিজোফ্রেনিয়ার কারণ। সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি বোঝাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
