আজকের এই দুনিয়ায় ভালোবাসার জন্য মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। শাহজাহান যেমন ভালোবেসে তাজমহল বানিয়েছিল, রাজা এডওয়ার্ড প্রেমিকার জন্য সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছিল, মজনু লাইলীর জন্য মরুভূমিতে জীবন কাটিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রের নিচে এমন একটা প্রাণী আছে যে প্রেম করতে যাওয়ার আগেই নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সেটি হলো পুরুষ অক্টোপাস।
প্রেম যখন বাধা মানে না
সমাজে লোকমুখে শোনা যায় প্রেম কোন বাধা মানে না সেটার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অক্টোপাস। অক্টোপাসদের মাঝে স্ত্রী অক্টোপাস পুরুষদের তুলনায় অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে ব্ল্যাঙ্কেট অক্টোপাস নামে যে নারী অক্টোপাস রয়েছে সেটি পুরুষের চেয়ে প্রায় ৪০ হাজার গুণ ভারী হয়ে থাকে। এতে বোঝা যায় স্ত্রী অক্টোপাস হল একটি বড় হাতির সাইজ এবং পুরুষ অক্টোপাস হল একটি ইঁদুরের সাইজ। তবুও তাদের মাঝে ভালোবাসা থাকে।
জল্লাদ প্রেমিকা
অক্টোপাসের দুনিয়ায় নিয়মই হল স্ত্রী অক্টোপাস পুরুষ অক্টোপাসকে মেরে ফেলবে। ডিম পাড়ার পর স্ত্রী অক্টোপাসকে অনেকদিন না খেয়ে থাকতে হয়। তাই ক্ষুধার জ্বালায় স্ত্রী অক্টোপাসের কাছে তার প্রেমিক শুধু প্রেমিক না থেকে হয়ে যায় এক প্লেট সুস্বাদু পুষ্টিকর বিরিয়ানির মতো। তাই যখনেই সুযোগ পায় প্রেমিককে তার পা দিয়ে জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় যৌন স্বজাতিভক্ষণ।
ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে !!
সবাই যখন জীবনের শেষ মুহূর্তে পৌঁছে তখন বাঁচবার শেষ চেষ্টাটুকু করে। অক্টোপাসের ক্ষেত্রেও তাই। পুরুষ অক্টোপাস যখন বিপদ বুঝতে পারে তখন পুরুষ অক্টোপাসের যেই হাতে শুক্রাণু থাকে সেই হাত সে প্রেমিকার দিকে বাড়িয়ে দেয়। স্ত্রী অক্টোপাস ওখান থেকেই শুক্রাণু নেয়। পুরুষ অক্টোপাস আবার বহুরূপী। সে শরীর রং ও আকৃতি পালটে নারী সেজে স্ত্রী অক্টোপাসের কাছে গিয়ে শুক্রাণু দিয়ে পালায় আসে।
ট্রাজেডি
পুরুষ মানেই বীরের জাতি। স্ত্রী অক্টোপাসের হাত থেকে চালাকি করে রক্ষা পেলেও পুরুষ অক্টোপাসের জীবনে সুখ নাই। শারীরিক সম্পর্কের পরে তাদের শরীরে হরমোনের অনেক পরিবর্তন আসে। ফলে তাদের খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে এভাবে থাকতে থাকতে পুরুষ অক্টোপাস মারা যায়। এ থেকেই বোঝা যায় প্রকৃতির নিয়ম কত অদ্ভুত।
সমুদ্রের নিচের এই জীবনযুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দেয় বেঁচে থাকতে গেলে আমাদের কত নির্মমতা মেনে নিতে হয়। অক্টোপাসের জীবন কতটা বিস্ময়কর!! তাদের সন্তানরা তাদের বাবা মাকে দেখে না কিন্তু বড় হয়ে তারাও প্রকৃতির নিয়ম মেনে একই জীবনযুদ্ধে নেমে পড়ে। প্রেমের জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়ার এই প্রাকৃতিক নিয়মকে আপনার কাছে রোমান্টিক নাকি নিষ্ঠুর??
