লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

গর্ভধারণ এমন এক অভিজ্ঞতা যা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত শরীরের সঙ্গে ভবিষ্যতের এক নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি বহন করে। নতুন শিশুকে ধারণ করা মানেই শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয় বরং এটি এক আবেগপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও যত্ননির্ভর সময়। মায়ের খাবার, বিশ্রাম, মানসিক চাপ, চলাফেরা সবই সবশেষে প্রভাব ফেলতে পারে ভ্রূণের ওপর। কিন্তু একটি বিষয় যা দীর্ঘদিন গুরুত্বের বাইরে ছিল, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোয় দেখা যায় সেটিই আবার মা-শিশুর স্বাস্থ্যের অন্যতম নীরব নির্ধারক আর তা হলো ঘুম। আমরা সবাই জানি ঘুম মানুষকে সুস্থ রাখে, শরীরকে ঠিক রাখে কিন্তু ভ্রূণ কি মায়ের ঘুমের ধরনে প্রভাবিত হতে পারে? যদি হয়, তবে কোন ধরনের ঘুম ঝুঁকি তৈরি করে? এবং ঘুম…

Read More

মানুষের ইতিহাসে জ্ঞান অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিল চোখের দুর্বলতা। আমরা সকলেই জানি একটা জীবের জন্য চোখ জিনিসটা কতটা মূল্যবান। কিন্তু তৎকালীন সময়ে অর্থাৎ চশমা আবিষ্কারের আগে যাদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ ছিল, তারা শুধু জীবনযাপনে পিছিয়ে থাকেননি, বরং জ্ঞানের আলো ছড়াতেও হোঁচট খেয়েছেন। রোমান মহাবাগ্মী সিসেরো (Cicero) একসময় আক্ষেপ করেছিলেন, দুর্বল চোখের কারণে তাকে দাসদের দিয়ে বই পড়ে শোনাতে হতো। আবার সম্রাট নিরো (Nero) সবুজ পাথরের টুকরো চোখে ধরে গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই দেখতেন, ভেবে যে আলো তার চোখকে তরতাজা করবে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ এভাবে দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙতে শুরু হয়…

Read More

সাল ২০১৪, শরৎকালের কোন একটা সময়। আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটিতে নাম্বার থিওরির ক্লাসে প্রথম সারিতে বসে ছিলো অ্যান্ড্রু উইলসন। সে যে শুধু গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে ডাবল মেজর করছিল তাই নয়, সে ছিল এমোরির সাঁতার দলেরও একজন ওয়াক-অন সদস্য, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত না হয়েও প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাওয়া একজন উদ্যমী খেলোয়াড়। এই তরুণের ভেতরের আগ্রহ ও সম্ভাবনা টের পেয়েছিলেন সেখানেরই এক অধ্যাপক কেন ওনো। ওনো ভাবলেন, তারা যেহেতু দুজনেই গণিত ভালোবাসেন তাহলে যদি এই গণিতকেই ব্যবহার করে ওর সাঁতার কাটার পদ্ধতি আরি উন্নত করা যায়? তিনি সাধারণত যে বিষয় নিয়ে কাজ করেন তা অনেক বেশি বিমূর্ত; সংখ্যার প্যাটার্ন বা বিশেষ ধরণের ফাংশন যাদের…

Read More

অনেক দিন ধরেই সমাজে এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, নারীরা স্বভাবগতভাবে একগামী এবং পুরুষেরা অধিক যৌনচেতন ও বহুগামী। শুধু সমাজ নয়, বিজ্ঞানের অনেক লেখাতেও এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত। চার্লস ডারউইন যেমন প্রাণীদের প্রজনন স্বভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, স্ত্রী প্রাণীরা নাকি সহজে ধরা না দেওয়া অনেকটা অধরা প্রকৃতির হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে The Evolution of Human Sexuality বইতে ডোনাল্ড সাইমন্স বলেন, পুরুষেরা প্রাকৃতিকভাবেই একাধিক সঙ্গী খোঁজে, আর নারীরা একজন ভালো উপার্জনক্ষম সঙ্গী বেছে নিয়ে থিতু হতে চায়। কিন্তু এই ধারণার বিরোধিতা করেছেন সারা হার্ডি, যিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, ডেভিস-এর নৃতত্ত্বের এমেরিটাস অধ্যাপক এবং Mother Nature: A History of Mothers, Infants and…

Read More

মানুষের শরীর প্রতিদিন নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বেশিরভাগ পরিবর্তনই স্বাভাবিক, আবার কিছু পরিবর্তন আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে এবং প্রশ্ন তৈরি করে এর পেছনে কারণটা কী? পুরুষদের স্তনবৃদ্ধি বা গাইনেকোমাস্টিয়া ঠিক এমনই একটি পরিবর্তন, যা অনেকেই বিব্রতবোধ করে লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, এ অবস্থা মোটেও বিরল নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরীহ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। গাইনেকোমাস্টিয়া বলতে মূলত স্তনের ভেতরে থাকা গ্রন্থিযুক্ত টিস্যুর বৃদ্ধি বোঝায়, যা পুরুষদের ক্ষেত্রেও সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ঘটতে পারে। অনেকেই এটিকে চর্বি জমে যাওয়া মনে করেন, কিন্তু প্রকৃত গাইনেকোমাস্টিয়ায় শুধুমাত্র চর্বি নয়, স্তনগ্রন্থিও বড় হয়ে যায়। এই গ্রন্থিজনিত বৃদ্ধি সাধারণত হরমোনের সাময়িক…

Read More

সমুদ্রকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল চিরন্তন। সেই কৌতূহলের একটি জনপ্রিয় বিষয় হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই মহাসাগর, প্রশান্ত (Pacific Ocean) এবং আটলান্টিক (Atlantic Ocean), আদৌ কি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়? ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায় সমুদ্রের মাঝখানে একটি স্পষ্ট রেখা যার একপাশের পানি গাঢ় নীল, আর অন্যপাশের পানি তুলনামূলক হালকা রঙের। অনেকেই এই দৃশ্য দেখে ধারণা করেন, এখানে হয়তো দুটি মহাসাগর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু একে অপরের সঙ্গে মেশে না। এমনকি কেউ কেউ এটিকে প্রাকৃতিক প্রাচীর বলে দাবি করেন। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে? সত্যিই কি পৃথিবীর সমুদ্রগুলো আলাদা হয়ে থাকে? নাকি এটি কেবল একটি ভুল ধারণা?…

Read More

মানুষ নিজেকে যুক্তিবোধসম্পন্ন প্রাণী বলে মনে করে। আমরা মনে করি, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই চিন্তা-ভাবনা, মূল্যায়ন এবং তথ্যভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে গৃহীত হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং সূক্ষ্ম। প্রতিদিনের জীবনে আমরা যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিই, তার বেশিরভাগই ঘটে অজান্তে এবং তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে। এই মানসিক প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব হলো প্রতারণামূলক বিকল্প প্রভাব, যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত Decoy Effect নামে। এই প্রভাবের মূল আকর্ষণ হলো এর সূক্ষ্মতা। আমরা সচেতনভাবে বুঝতেই পারি না যে আমাদের সামনে উপস্থাপিত বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি আসলে তৈরি করা হয়েছে অন্য একটি বিকল্পকে আরও মূল্যবান ও যৌক্তিক দেখানোর জন্য। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্তে আমরা ভাবি,…

Read More

রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমরা দেখি অগণিত তারকা, অসীম মহাকাশ আর অজানা সব রহস্য। মানুষের কৌতূহলও ঠিক সেই মহাকাশের মতোই বিস্তৃত। এই কৌতূহল থেকেই বহুদিন ধরে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে যে, মানুষ কি কখনো এমন এক শক্তির উৎস খুঁজে পাবে যেখানে কোনো ইনপুট ছাড়াই অনন্ত শক্তি পাওয়া যাবে? এই ধারণাকেই সাধারণ ভাষায় বলা হয় ফ্রি এনার্জি। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে? প্রকৃতি কি সত্যিই আমাদের এমন কোনো সীমাহীন শক্তির সন্ধান দিতে পারবে নাকি এটি কেবল মিথ, ভুল বোঝাবুঝি ও অপরিণত বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী ভুল ধারণা? এই প্রবন্ধে আমরা সেই প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক সত্যতা নিয়ে স্পষ্ট, প্রমাণ-ভিত্তিক, সহজ ভাষায় আলোচনা করব।মানুষের ইতিহাসে…

Read More

২০১৩ সালে ইন্টারনেটে যে সব ওয়েবসাইট বা তথ্য ছিল, তার প্রায় ৩৮ শতাংশ এখন আর নেই। উইকিপিডিয়ার অর্ধেক পাতায় যে লিঙ্কগুলো আছে, তার অনেকগুলোই এখন মৃত অর্থাৎ আর খোলা যায় না। আমাদের চারপাশে তথ্য যেন ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। আসলে এটা নতুন কিছু নয়। ভূতাত্ত্বিক সময়ের হিসেবে দেখলে, তথ্য হারিয়ে যাওয়া-ই নিয়ম, ব্যতিক্রম কিছু নয়। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান বলছে একেবারে উল্টো কথা যে তথ্য নাকি কখনোই সত্যিকারের ধ্বংস হয় না। একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, একটা বই পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও সেই ছাই, ধোঁয়া আর আগুনের প্রতিটা অবস্থা বিশ্লেষণ করলে নাকি আবার সেই বইয়ের লেখা উদ্ধার করা সম্ভব। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের unitarity নীতি অনুযায়ী মহাবিশ্ব…

Read More

মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রতিটি যুগেই মানুষ তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেছে। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর থেকে যে গতিতে আমাদের সমাজ, প্রযুক্তি ও অর্থনীতি এগোতে শুরু করল সেই গতিই এক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীর সম্পদ সীমিত এ সত্যটা আমরা জানি; কিন্তু সেই সীমার কোথায় গিয়ে ধাক্কা খাব, তা অনেকেই বুঝতে পারছিল না। ঠিক এই মুহূর্তে, ১৯৭২ সালে, MIT’র একদল বিজ্ঞানী Limits to Growth নামে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এতে দেখানো হয়েছিল যে মানবসভ্যতা যদি একই মাত্রার অর্থনৈতিক ও শিল্প বৃদ্ধি অব্যাহত রাখে, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েই বিশ্বব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। সেই গবেষণার অর্ধশতাব্দী পর আজও আমরা লক্ষ্য করছি…

Read More