Author: ইমাম হোসাইন আনজির

আজ আমাদের প্রজাতি পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে বাস করে। কিন্তু সবসময় এমন ছিল না। চলুন জেনে নিই, হোমো সেপিয়েন্স কিভাবে আফ্রিকা থেকে বের হয়ে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে আর এই যাত্রায় তারা অন্য যেসব মানব প্রজাতির সাথে দেখা করেছিল সেগুলো নিয়েও। হোমো সেপিয়েন্স প্রথম আফ্রিকায় উদ্ভব হয়েছিল ৩ লক্ষ বছরেরও বেশি আগে। অনেকদিন ধরে আমাদের প্রজাতি শুধু আফ্রিকাতেই ছিল। কিন্তু শত শত হাজার বছর ধরে হোমো সেপিয়েন্স ধীরে ধীরে আরব, এশিয়া এবং শেষ পর্যন্ত পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। এই যাত্রাটা খুব একটা সহজ ছিল না এবং সোজা পথেও হয়নি। এটা একধরনের গল্প যেখানে ছিল ভুল শুরু, হারিয়ে যাওয়া জনসংখ্যা, বিলুপ্ত…

Read More

আমরা বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকি। যখনই শ্বাস নেই, তখন অক্সিজেনের কথা ভাবি। যখন কোন কাঠ পুড়তে দেখি তখন চোখের সামনে দেখা যায় কীভাবে অক্সিজেন জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, পৃথিবীর বাতাসে প্রায় ৭৮% নাইট্রোজেন থাকার পরও কেন জীবেরা অক্সিজেন গ্রহণ করে? ডেনমার্কের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির জিওবায়োলজিস্ট ডোনাল্ড ক্যানফিল্ড, বলেন, “হাজার হাজার রকমের বিপাক প্রক্রিয়া বা জীবন রক্ষার রাসায়নিক প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু প্রায় সব ধরনের ইউক্যারিওটস— যাদের কোষে নিউক্লিয়াস থাকে আর প্রোক্যারিওটস— যাদের কোষে নিউক্লিয়াস নেই অক্সিজেন ব্যবহার করে।” ডোনাল্ড ক্যানফিল্ড ক্যানফিল্ড মূলত হেটেরোট্রফদের (যেমন মানুষ) নিয়ে বলেছেন – এরা অন্য জীব থেকে পুষ্টি আর শক্তি…

Read More

প্রাচীন বিড়ালদের নিয়ে করা দুটি নতুন গবেষণা বলছে, বিড়াল সম্ভবত মিশর অথবা উত্তর আফ্রিকার অন্য কোনো অঞ্চলে গৃহপালিত হয়েছিল আর ইউরোপে মানুষের সঙ্গে আগে যতটা ভাবা হতো তার চেয়েও তারা অনেক পরে এসেছে। গৃহপালিত বিড়ালের উৎপত্তি এবং তারা কীভাবে প্রাচীনকালে মানুষের সঙ্গে থেকেছে, সেই রহস্য এখনো জানা নেই কারো। তবে বিজ্ঞানীরা নতুন প্রমাণ পেয়েছেন যা থেকে বোঝা যায় যে এই দুর্বোধ্য প্রাণীগুলো সম্ভবত প্রথম গৃহপালিত হয়েছিল প্রাচীন মিশরে যেখানে তারা একধরনের পূজার অংশ হিসেবে ছিল, অথবা উত্তর আফ্রিকার অন্য কোনো অঞ্চলে। বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে আজকের দিনে আমাদের ঘরের পোষা বিড়ালগুলো (Felis catus) এসেছে আফ্রিকান বন্য বিড়াল (Felis lybica) থেকে।…

Read More

ছোটবেলায় হয়তো আপনি শুনেছেন, বাইরে গিয়ে মাটিতে খেললে শরীর ভালো থাকে কারণ এতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু সত্যিই কি এর পেছনে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে? সংক্ষেপে বললে, হ্যাঁ—অনেক গবেষণা বলছে, বাচ্চারা ছোটবেলায় মাটি বা ধুলাবালির সংস্পর্শে এলে ভবিষ্যতে তাদের অ্যালার্জি আর অটোইমিউন রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। মানে, এতে এমন রোগগুলোর হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায় যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিকরভাবে শরীরের নিজের টিস্যু বা নিরীহ কিছু জিনিসের বিরুদ্ধে লড়ে। একজন শিশুর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন গড়ে ওঠে, তখন শরীরের ভেতরের প্রতিরক্ষাবাহিনীকে শিখতে হয়—কীভাবে শরীরের নিজের কোষ আর বাইরের নিরীহ বা ক্ষতিকর বস্তু যেমন ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস চেনা যায়। সে জানতে শেখে…

Read More

স্কটল্যান্ডের একেবারে উত্তরের শহর উইকের এক জাদুঘরে রাখা আছে এক অদ্ভুত আসবাবপত্র। বাইরে থেকে দেখতে এটা যেন একেবারে সাধারণ একটা বড় সাইজের পাইন কাঠের আলমারি। সামনে আছে লম্বা ডাবল দরজা, তার ওপরে আবার কিছু স্যুটকেস রাখা। যেকোনো আধুনিক বেডরুমেই মানিয়ে যাবে এমন আসবাব। এমনকি এটা বানানোও হয়েছে একদম ফ্ল্যাট-প্যাক আসবাবের মতো—যেখানে একেকটা টুকরো একে একে জোড়া লাগিয়ে বানানো যায়, আবার সহজে খুলে সরিয়েও ফেলা যায়। কিন্তু এই আলমারির ভেতরে জামা-কাপড় রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই—না কোনো হ্যাঙ্গার, না কোনো তাক। কারণ এটা আদতে ঘুমানোর জন্য বানানো একটা বাক্স—একটা বক্স বেড। এ ধরনের কাঠের ঘুমানোর বাক্সকে কেউ কেউ ক্লোজেট বেড বা ক্লোজ…

Read More

আমাদের ভাষায় ‘শূন্য’ শব্দটি প্রায়ই নেতিবাচক কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অথচ আসলে শূন্য হল একমাত্র বাস্তব সংখ্যা যা ধনাত্মকও নয় আবার ঋণাত্মকও নয়। শূন্য নিরপেক্ষ। তাহলে এই নেতিবাচক অর্থ কোথা থেকে এলো?মানবসভ্যতা দীর্ঘকাল ধরে শূন্যকে নিয়ে প্রবল আবেগ পোষণ করেছে; এমনকি কিছু জায়গায় এক সময় এটি নিষিদ্ধও ছিল। জাতিগত বিদ্বেষ আর মতাদর্শগত বিরোধ এই শক্তিশালী ধারণাটিকে দীর্ঘদিন ঠেকিয়ে রেখেছিল। অথচ আজকে আমাদের পুরো গণিতই এই সংখ্যাটির উপর দাঁড়িয়ে আছে। শূন্য সম্ভবত একাধিকবার আলাদা আলাদা উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ৫০০০ বছর আগে ব্যাবিলনীয়রা শূন্যের একটি ধারণা ব্যবহার করত, তবে তা কখনোই নিজে নিজে কোনো সংখ্যা ছিল না। ওরাও আমাদের মতো…

Read More

আমাদের জীবনে চলার পথে অনেকের সাথেই পরিচিত হই। তবে, আপনি কি কখনো কোনো নারীর সাথে প্রথম সাক্ষাতের পরই তার প্রতি ভালো-লাগা অনুভব করেছেন বা মনের মধ্যে “আমি তোমায় ভালোবাসি” কথাটা জেগে উঠেছে? আবার কখনো কি কাউকে ঠিকমতো না চেনার পরও মনে হয়েছে এই মানুষটাই হয়তো আমার জীবনসঙ্গী হতে পারে? যদি এসব অভিজ্ঞতা আপনার সাথে ঘটে, তাহলে আপনি ইতিমধ্যে এমোফিলিয়া নামের এই ধারণার সাথে সম্পর্কিত। এমোফিলিয়া বলতে বোঝায় দ্রুত এবং ঘন ঘন প্রেমে পড়ার প্রবণতা। এই গুণটি EP Scale নামের এক স্কেলের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। একে আগে বলা হতো “Emotional promiscuity” তবে এখন “Emophilia” নামে পরিচিত। এটি এমন এক প্রক্রিয়া…

Read More