আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির খোঁজে সবাই মরিয়া হয়ে থাকে। কিন্তু শহরে বড় বড় উদ্ভিদের দেখা মেলে না। তাই একটুখানি সবুজের ছোঁয়া পেতে ইনডোর উদ্ভিদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি উদ্ভিদ স্নেক প্ল্যান্ট। এর লম্বা, খাড়া এবং তলোয়ারের মতো পাতার গঠনের জন্য আমাদের দেশে অনেকের কাছে এটি Mother-in-law’s tongue নামে পরিচিত। স্নেক প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম Dracaena trifasciata।
এই গাছটিকে ইনডোর উদ্ভিদ জগতের অমর উদ্ভিদ বলা হয়। কারণ এই গাছ চরম অবহেলাতেও বেঁচে থাকে। কেউ যদি পানি না দিয়ে ঘরের কোণে ফেলে রাখেন, তবুও এ গাছটি মরে যাবে না। তাই যারা খুব ব্যস্ত থাকেন, গাছে পানি দেওয়ার সময়ও পান না, তাদের জন্য আদর্শ উদ্ভিদও বটে।
স্নেক প্ল্যান্ট বেশ কয়েক প্রকারের হতে পারে। রুমের সৌন্দর্য বাড়াতে একেকজন একেকটি ব্যবহার করে থাকে। এখানে কয়েকটি জাত উল্লেখ করছি
Laurentii

এটি সবচেয়ে ক্লাসিক এবং জনপ্রিয় জাত। এর পাতার দুই পাশে সুন্দর সোনালী বা হলুদ রঙের বর্ডার থাকে।
Zeylanica

সবচেয়ে কমন জাত এটি। আমাদের চারপাশে আমরা যা দেখি, তা মূলত এই জাতেরই। গাঢ় সবুজ রঙের পাতা যার উপর হালকা সবুজ বা ধূসর ডোরাকাটা দাগ থাকে।
Hahnii

এগুলো দেখতে আকারে বেশ ছোট এবং পাখির বাসার মতো ছড়ানো হয়। পড়ার টেবিলে রাখার জন্য এটি সেরা।
নাসার গবেষণা অনুযায়ী, এই গাছটি ঘরের বাতাস থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। এটি বাতাস থেকে ফরমালডিহাইড, বেনজিন, ট্রাইক্লোরোইথিলিনের মতো ক্ষতিকর গ্যাস শোষণ করে ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখে। আমরা জানি বেশিরভাগ গাছই দিনের বেলা কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে, কিন্তু রাতে অক্সিজেনও গ্রহণ করে। এই দিক থেকে এই গাছটি একদমই ভিন্ন। এই গাছটি রাতের বেলায়ও অক্সিজেন ছাড়ে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। মূলত এজন্যই এই গাছটি শোবার ঘরে রাখার জন্য আদর্শ।
সবুজ রং আমাদের চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এই উদ্ভিদটি ঘরে থাকলে সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।
এই গাছে সাধারণত বিশেষ পরিচর্যা করতে হয় না। তবে একে একটু সুস্থ ও সতেজ রাখতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা ভালো:
এই উদ্ভিদটি সব ধরনের আলোই মানিয়ে নিতে পারে। তবে পরোক্ষ আলো সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। ঘরের জানালার পাশে বা টেবিলের উপরে যেখানে সরাসরি রোদ পায় না, এমন জায়গায় রাখলে গাছটি দ্রুত বাড়ে।
পানি
স্নেক প্ল্যান্ট নষ্ট হওয়ার প্রধান এবং একমাত্র কারণ হলো অতিরিক্ত পানি দেওয়া। মাটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার আগে কোনোভাবেই পানি দেওয়া যাবে না। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর একবার পানি দিলেই চলে। অতিরিক্ত পানি দিলে এর গোড়া পচে গাছটি মারা যায়।
বাতাস
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাই এই গাছের জন্য উত্তম। তবে এসির বাতাস সরাসরি লাগে এমন জায়গায় না রাখাই ভালো।
একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ হিসেবে সবাই চায় সবার ঘরে একটা করে স্নেক প্ল্যান্ট থাকুক। তাই এর বংশবৃদ্ধিতেও সবার একটি উৎসাহ কাজ করে। টবে মূল গাছের গোড়া থেকে ছোট ছোট নতুন চারা বের হলে সেগুলো আলাদা করে নতুন টবে লাগিয়ে এর বংশবিস্তার করা যায়। এছাড়া একটি সুস্থ পাতা কেটে মাটিতে বা পানিতে কয়েক সপ্তাহ রেখে দিলেও নতুন শিকড় গজায়।
সবাই চায় একটি সুন্দর, সবুজ এবং রোগমুক্ত ঘর। আর এসব যদি কেউ প্রকৃতির মাধ্যমে পেতে চায়, তাহলে তার বিশ্বস্ত সঙ্গী হলো স্নেক প্ল্যান্ট। এটি যেমন ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি ঘরের ক্ষতিকর বিভিন্ন রোগজীবাণু থেকেও মানুষকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই আপনার নিকটবর্তী নার্সারি থেকে আপনার পছন্দমতো একটি স্নেক প্ল্যান্ট এনে আপনার ঘরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলুন। একদমই কম পরিশ্রমে ঘরের মাঝে প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়ার এর থেকে সহজ উপায় আর কী-বা হতে পারে!
