লেখক: বিজ্ঞান্বেষী ডেস্ক

আজ আমি আপনাদের এমন এক অদ্ভুত, একই সঙ্গে গভীর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাই, যার নিরেট উত্তর আজও বিজ্ঞানের কাছে নেই। আই রিপিট, কারোর কাছেই নেই। পুরো লেখাটি পড়ে শেষ করলে হয়তো আপনি নিজেকেই নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন। প্রশ্নটা হচ্ছে চেতনা বা কনশাসনেস আসলে কী? খুব সহজ মনে হচ্ছে? একটু দাঁড়ান। আমরা সাধারণত বড় স্কেলে চিন্তা করি। কিন্তু নিজেকে একটু জুম ইন করুন তো। আপনি কিসের তৈরি? হার্ট, কিডনি বা মস্তিষ্ক বাদ দিন। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের শেষ সীমায় গেলে আপনি দেখবেন আপনি আসলে কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেনের সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নন। আরও গভীরে যান। পাবেন ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন। বর্তমান বিজ্ঞান বলছে ইলেকট্রন…

Read More

রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমরা যা দেখি তা মূলত অসংখ্য তারা, নীহারিকা আর দূরবর্তী গ্যালাক্সির ঝিলমিল আলো। এই দৃশ্য আমাদের বিস্মিত করে, কিন্তু এর পেছনে আরও একটি গভীর প্রশ্ন লুকিয়ে থাকে—এই বিশাল মহাবিশ্ব আসলে কী দিয়ে তৈরি? আমরা জানি, আমাদের শরীর, পৃথিবী, সূর্য, এমনকি দূরবর্তী নক্ষত্রও গঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে, যাদের আমরা বলি পরমাণু। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বে মোট কতগুলো পরমাণু থাকতে পারে? সংখ্যাটা কি সত্যিই গণনার বাইরে, নাকি বিজ্ঞানের হাত ধরে আমরা অন্তত একটি যুক্তিসংগত অনুমানে পৌঁছাতে পারি? আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে, এবং সেই অনুসন্ধানই আমাদের নিয়ে যায় এক অবিশ্বাস্য…

Read More

মানুষের মধ্যে ডানহাতি হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আমরা পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সমাজে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে যেভাবে জীবন যাপন করি তার মধ্যে একটি বিষয় প্রায় সর্বত্র এক রকম থাকে তা হলো আমরা কোন হাতটি প্রধানভাবে ব্যবহার করি। লেখার জন্য কোন হাতটি ব্যবহৃত হয়, খাবার খাওয়ার সময় কোন হাতটি ব্যবহার করা হয়, বসার বা কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করার সময় কোন হাতটি ব্যবহৃত হয় এই সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে একটি প্রাধান্য থাকে। বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা গেছে, মানুষের প্রায় অষ্টাদশাংশ মানুষ ডানহাতি। এটা শুধু আজকের সময়ের মানুষদের ক্ষেত্রে নয়, প্রাচীন মানব সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকেও বোঝা যায়। The Guardian-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বিভিন্ন…

Read More

নতুন গবেষণা বলছে, আমাদের মস্তিষ্ক বেশিরভাগ সময়ই চলে অভ্যাসের বশে, যা আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা সচেতনভাবে যা করি, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করি আমাদের ভেতরের ‘অটোপাইলট’ মোডের ইশারায়। অর্থাৎ, আমাদের মস্তিষ্ক পরিচিত জায়গা, নির্দিষ্ট সময় বা চেনা রুটিন পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অভ্যাস বিষয়টা আসলে ভালো বা খারাপের ঊর্ধ্বে। কোনো অভ্যাস যদি আপনার লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে, তবে সেটি ভালো অভ্যাস আর যা আপনার লক্ষ্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তা খারাপ অভ্যাস। মজার ব্যাপার হলো, গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের বেশিরভাগ অভ্যাসই আমাদের সচেতন লক্ষ্যের সঙ্গে মিলে যায়। এই ‘অটোপাইলট’ সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ…

Read More

নারীদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই পরিসংখ্যানটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ নারীর জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা। এতদিন এই বৈষম্যের ব্যাখ্যায় মূলত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। যেমন, পুরুষদের সাহায্য চাওয়ার প্রবণতা কম হওয়ায় তাদের রোগ নির্ণয় কম হয়, অথবা নারীরা যৌ’ন নি’র্যা’তন এবং ব্যক্তিগত স’হিং’সতার শিকার বেশি হন। কিন্তু সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার QIMR Berghofer Medical Research Institute এর গবেষকরা এই বিতর্কে একটি নতুন জৈবিক দৃষ্টিকোণ যুক্ত করেছে। Nature Communications জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের জেনেটিক বা বংশগত পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। গবেষকরা নারীদের মধ্যে বিষণ্ণতার…

Read More

মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য কিংবা শান্তি এই প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি হিসেবে আজ সারা পৃথিবী যে পুরস্কারটির দিকে তাকিয়ে থাকে, সেটি হলো নোবেল পুরস্কার। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, গণিতের মতো মৌলিক ও প্রাচীন এক বিদ্যা যার উপর ভিত্তি করেই আধুনিক বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে, সেই গণিতের জন্য কোনো নোবেল পুরস্কার নেই। এই প্রশ্ন বহু বছর ধরে মানুষকে ভাবিয়েছে কেন গণিত বাদ পড়ল? এই অনুপস্থিতির পেছনে আসলে কী কারণ লুকিয়ে আছে? আলফ্রেড নোবেল, একজন সুইডিশ রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও আবিষ্কারক, ১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর তারিখে নিজের উইলে উল্লেখ করেন যে তার সম্পত্তির একটি…

Read More

সায়েন্স, আর্টস বা কমার্স – বিভাগ আলাদা হলেও সবার কাছে একটা পরিচিত সমীকরণ হলো E = mc²। বিজ্ঞানের জগতে এটি সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরণ। এই সমীকরণ মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। সমীকরণটি পারমাণবিক শক্তি থেকে শুরু করে নক্ষত্রের জ্বলন্ত রহস্য, সবকিছুর পেছনের মূলনীতি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। সাধারণভাবে আমরা জানি, এই সমীকরণ বলছে যে শক্তি (E) তার ভর (m) এবং আলোর বেগের বর্গের (c²) গুণফলের সমান। কথাটা আরেকটু সহজ করলে দাঁড়ায়, ভর এবং শক্তি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, এবং এদের একটিকে অন্যটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। আমরা এতদিন এমনটাই জেনে এসেছি যে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন একাই এই যুগান্তকারী সমীকরণটি আবিষ্কার…

Read More

মহাকাশ মানুষের কাছে সবসময়ই রহস্যময়। প্রতিটি নতুন আবিষ্কার মানবজাতির কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে তুলে এবং মহাবিশ্বের অজানার দিকে ভাবতে বাধ্য করে। এরকমই ২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত একটি মহাজাগতিক বস্তুর নাম হলো 3I/ATLAS। এটি আমাদের সৌরজগতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথম দেখা গিয়েছিল সিগার-আকৃতির ‘ওউমুয়ামুয়া’ এবং ২০১৯ সালে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল ধূমকেতু 2I/বোরিসভ। তবে 3I/ATLAS আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত নানা প্রশ্নে আলোড়িত হয়েছে এটি কি সত্যিই একটি প্রাকৃতিক ধূমকেতু, নাকি উন্নত কোনো ভিনগ্রহী প্রযুক্তির নিদর্শন? আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রা 3I/ATLAS সূর্যের কক্ষপথে আবদ্ধ নয়। বরং এটি একটি হাইপারবোলিক কক্ষপথে চলছে যা…

Read More

জলাতঙ্ক এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা আজও পৃথিবীর বহু দেশে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রোগ একদিকে যতটা ভয়াবহ, অন্যদিকে ততটাই প্রতিরোধযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মারা যায় যার বড় অংশই এশিয়া ও আফ্রিকায়। আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশের সংক্রমণ ঘটে কুকুরের কামড়ে। অথচ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে শতভাগ সুরক্ষা সম্ভব। এই নিবন্ধে জলাতঙ্কের প্রকৃতি, প্রাচীন ইতিহাস ও লোকবিশ্বাস, আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, ভ্যাকসিনের উন্নয়ন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি, সমাজ–অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। রোগের প্রকৃতি…

Read More

মানুষের মস্তিষ্ক শুধু জ্ঞান, যুক্তি কিংবা আবেগের কেন্দ্র নয়, এটি একইসঙ্গে আমাদের আচরণ, চিন্তা ও সিদ্ধান্তের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রকও। কখনো কখনো এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ভারসাম্যের ঘাটতি দেখা দিলে আমাদের মনের ভেতর এমন সব চিন্তা জন্ম নিতে পারে যা আমরা চাই না অথচ বারবার ফিরে আসে। এই চিন্তাগুলো আমাদেরকে মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে আর সেই অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে আমরা অজান্তেই কিছু নির্দিষ্ট আচরণ বা কাজ বারবার করতে থাকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকেই বলা হয় অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিসঅর্ডার বা সংক্ষেপে OCD। আজকের যুগে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও OCD এখনো অনেকের কাছে অস্পষ্ট এক শব্দ। অনেকে একে কেবল অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রবণতা ভেবে বসেন,…

Read More