লেখক: বিজ্ঞান্বেষী ডেস্ক

ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং আমাদের মস্তিষ্কে বিদ্যমান হোয়াইট ও গ্রে ম্যাটার—এই তিনটি যেন তিন রহস্যময় জগৎ, যেখানে মানবজ্ঞান আজও সীমিত। এই তিনটি শক্তিই অদৃশ্য—চোখে দেখা যায় না, অথচ তাদের প্রভাব বিস্তৃত, গভীর এবং অস্বীকারযোগ্য নয়। কেউ নিয়ন্ত্রণ করে মহাবিশ্বের প্রসারণ, কেউ ধারণ করে তার কাঠামো, আর কেউ নির্ধারণ করে আমাদের ভাবনা, আবেগ ও সিদ্ধান্তের ছন্দ। বিজ্ঞানীরা বলছেন—এই তিন অদৃশ্য শক্তির প্রকৃতি যদি আমরা সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারি, তাহলে শুধু মহাবিশ্ব নয়, আমরা নিজেদের অস্তিত্ব সম্পর্কেও নতুন করে জানতে পারব—আমরা কে, কোথা থেকে এসেছি এবং কোথায় যাচ্ছি। এগুলো নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সে চলছে বিস্তৃত গবেষণা।  ডার্ক ম্যাটার এটি এক…

Read More

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানুষের যৌনতার প্রতি আগ্রহের কমতি ছিলোনা। এই আগ্রহ থেকেই পর্ণ এর উৎপত্তি। পর্ণ আর সাধারণ যৌনসম্পর্ক এক না। যৌন সম্পর্ক মানুষের সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ,জৈবিক এবং মনস্তাত্ত্বিক আচরণ। অন্যদিকে পর্ণ হচ্ছে স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের বিকৃত রূপ। এটা প্রায়শ কল্পনা শক্তি বা অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে চিত্রায়িত করা হয়। স্বাভাবিক যৌনতার সাথে মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, নৈতিকতা জড়িত থাকলেও পর্ণ এ এসব বাস্তব অনুভূতিকে বাদ দিয়ে বিনোদন বা বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করে। অনেক মনে করতে পারে পর্ণের ইতিহাস গত শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে। কিন্ত পর্ণের ইতিহাস হাজারো বছর পুরনো। সেই প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ হাতের কাছে যা পেয়েছে, তা দিয়েই ফুটিয়ে…

Read More

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি মানবজীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ChatGPT-এর মতো বড় ভাষা মডেল (Large Language Models – LLM) ব্যবহার করে লেখালেখি, তথ্য অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন কাজ করা অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছে। তবে AI প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানব মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জনসাধারণ মনে উদ্বেগ দেখা দেয়।এই উদ্বেগকে সামনে রেখে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) মিডিয়া ল্যাবের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ChatGPT-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) টুল ব্যবহার করে লেখালেখির সময় মস্তিষ্কের ‘ফ্রন্টাল-প্যারিয়েটাল’ অংশের সংযোগ কার্যক্রম কমে যায় যা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি গঠন এবং জটিল চিন্তাভাবনার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।গবেষণায় ৫৪…

Read More

ফসিল, প্রকৃতির গহীন স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকা অতীতের চাবিকাঠি। এগুলো শুধুই পাথরের ভেতর লুকিয়ে থাকা জীবের ছাপ নয়; বরং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবর্তনশীল পরিবেশের নীরব সাক্ষী। প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন বছরের পুরোনো সবচেয়ে প্রাচীন ফসিল থেকে শুরু করে ডাইনোসরের বিশালদেহী অবশেষ পর্যন্ত—প্রতিটি ফসিল মানব সভ্যতাকে শিখিয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাসের গল্প। কিন্তু ফসিল নিয়ে মানুষের মনে গড়ে ওঠা কিছু ভুল ধারণা সেই গল্পকে অনেক সময় বিভ্রান্ত করে তোলে।  ডাইনোসরের বিশালাকার হাড় দেখে অনেকেই প্রশ্ন করেন, “মিলিয়ন বছর ধরে এই হাড় কীভাবে এত অক্ষত রইল, যেখানে মানুষের মৃত্যুর ২০ বছরের (গড়) মধ্যেই হাড় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়?” তবে তার আগে চলুন ফসিল নিয়ে মানুষের…

Read More

কল্পনা করুন—হেডফোন বা ইয়ারবাড ছাড়াই আপনি গান শুনছেন, কিংবা ভিড়ের মাঝে কাউকে ব্যক্তিগত কথা বলছেন, অথচ আশেপাশে কেউ কিছুই শুনতে পাচ্ছে না! হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, এমনি এক সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা, যেটা শব্দকে পৌঁছে দিতে পারে ঠিক নির্দিষ্ট জায়গায়—কাউকে বিরক্ত না করে, কারো কানে পৌঁছানো ছাড়াই। কিন্তু এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আমরা সবাই জানি, শব্দ একধরনের কম্পন যা বাতাসের মধ্যে তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তবে সমস্যা হলো, শব্দকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ এটা সহজে ছড়িয়ে পড়ে। এর পেছনে রয়েছে ডিফ্র্যাকশন নামের একটি প্রাকৃতিক ঘটনা—যেটা শব্দ তরঙ্গকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। আর শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি যত কম, তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তত বেশি—ফলে…

Read More

ধরুন আপনি টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে ফিরে গেলেন এবং নিজের দাদাকে হত্যা করলেন, যখন তিনি এখনো বিয়েই করেননি। সেক্ষেত্রে আপনার বাবা/মা জন্মাবে না। আর যদি তারা জন্ম না নেন, তাহলে আপনিও তো পৃথিবীতে আসবেন না। কিন্তু আপনি যদি জন্মই না নেন, তাহলে অতীতে গিয়ে দাদাকে মা’র’লেন কীভাবে? এই চিন্তাটিই তৈরি করে গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স যা বিজ্ঞানীদের ঘুম হারাম করে রেখেছে বছরের পর বছর। তবে এই সমস্যাটির একটি ব্যতিক্রমধর্মী সমাধান হাজির হয়েছেন ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ লরেঞ্জো গাভাসসিনো। তিনি দেখিয়েছেন, কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে এই প্যারাডক্সের বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব — তবে সেটা কোনো অ্যাকশন-প্যাকড সায়েন্স ফিকশন টাইম ট্রাভেলের মতো না। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা অনুযায়ী মহাবিশ্বে…

Read More

গত ৮ এপ্রিল ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার সঙ্গে ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’ চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। আর এখন আমাদের নাম যুক্ত হলো সেই তালিকায়, যেখানে রয়েছে বিশ্বের আরও ৫৩টি দেশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’ আসলে কী? আমাদের উপকারই বা কী? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিশ্বের দুই মহাশক্তি, চীন ও রাশিয়া কেন এখনো এই চুক্তির বাইরে? তার আগে আসা যাক আমাদের নিজেদের বাস্তবতায়। অনেকেই জানেন না, বাংলাদেশেও একটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা আছে, নাম ‘স্পারসো’। না জানাটাই স্বাভাবিক, কারণ গত ৪৫ বছরে এই সংস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই। ভারতের মতো প্রতিবেশী যখন একের পর এক চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানে সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে,…

Read More