টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, তাঁরা এমন একটি গামা-রশ্মির বিকিরণ শনাক্ত করেছেন, যা ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ।
ডার্ক ম্যাটার নিয়ে বিজ্ঞানীদের এই জল্পনা কল্পনার শুরু ১৯৩৩ সালে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিৎজ জুইকি ‘গালাক্সি ক্লাস্টার’ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন, গ্যালাক্সিগুলো যে প্রচণ্ড গতিতে ছুটছে, দৃশ্যমান বস্তুর মহাকর্ষ বল দিয়ে তাদের আটকে রাখা অসম্ভব। নিয়ম অনুযায়ী এদের ছিটকে হারিয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য ভরের মহাকর্ষীয় টানে তারা ঠিকই দলবদ্ধ হয়ে আছে।
পরবর্তীতে সত্তরের দশকে ভেরা রুবিন সর্পিল গ্যালাক্সির ঘূর্ণন গতি পর্যবেক্ষণ করে একই প্রমাণ পান। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, মহাবিশ্বে এমন বিপুল পরিমাণ অদৃশ্য বস্তু আছে যা সাধারণ পদার্থের চেয়ে বহুগুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিলেন ডার্ক ম্যাটার।
হিসাব কষে দেখা গেলো, আমি-আপনি বা আমাদের চারপাশে দৃশ্যমান যা কিছু আছে, সব মিলিয়ে মহাবিশ্বের মোট পদার্থের মাত্র ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশই হলো এই ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি। সমস্যা হলো, এই ডার্ক ম্যাটার আলো শোষণ বা প্রতিফলন করে না, তাই সাধারণ টেলিস্কোপে এদের দেখা অসম্ভব।
তবে বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই একটা সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ডার্ক ম্যাটার মূলত ‘WIMPs’ (উইকলি ইন্টারঅ্যাক্টিং ম্যাসিভ পার্টিকল) নামক কণা দিয়ে গঠিত। তত্ত্ব অনুযায়ী, এই কণাগুলো যখন একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে ঠিক এই ঘটনাটিই পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁরা কেন্দ্রের চারপাশে গামা রশ্মির এমন একটি আভা বা ‘হ্যালো’ খুঁজে পেয়েছেন, যার শক্তি ২০ গিগা ইলেকট্রনভোল্ট। সাধারণ কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা দিয়ে এই নির্দিষ্ট শক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। গবেষকদের মতে, ডার্ক ম্যাটার কণার ভর যদি প্রোটনের ভরের ৫০০ গুণ হয়, তবে সেগুলোর সংঘর্ষ থেকে ঠিক এমন সিগন্যালই পাওয়ার কথা।
ফ্রিৎজ জুইকি বা ভেরা রুবিনরা এতদিন গ্যালাক্সির ঘূর্ণন গতি আর মহাকর্ষ বল দেখেই এর অস্তিত্ব আঁচ করেছিলেন। কিন্তু গত ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত এই গবেষণাটি যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে পদার্থবিজ্ঞানের বইয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক কণার অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। এতদিন আমরা শুধু জানতাম ডার্ক ম্যাটার আছে, এবার হয়তো আমরা সেটা সরাসরি দেখার সুযোগ পেলাম।
সূত্র: স্পেস ডট কম, লাইভ সায়েন্স
