ড. ভ্লাদিমির পেত্রোভিচ দেমিখভ (১৯১৬–১৯৯৮) ছিলেন এমন এক বিজ্ঞানী যিনি নিজের সময়ের অনেক আগেই ভবিষ্যতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। আজ আমরা অঙ্গ প্রতিস্থাপন কে যতটা স্বাভাবিক ধরে নিই সেটা অনেকটা তাঁর সেই সাহসী পরীক্ষা আর অদম্য প্রচেষ্টারই ফল। জীবদ্দশায় তিনি খুব বেশি সম্মান পাননি বরং নানা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তাঁর অনেক গবেষণাই তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল কারণ তখনকার দিনে কুকুরের শরীরে নানা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার কাজ মানুষকে নাড়া দিয়েছিল। তবুও আজ যখন আমরা ফিরে তাকাই তখন বুঝতে পারি চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে বিপ্লবটা এখন আমাদের জীবন বাঁচাচ্ছে তার শেকড় অনেকটাই তাঁর হাতে বোনা।
শৈশব, শিক্ষা আর কর্মজীবনের শুরু
ভ্লাদিমির দেমিখভ জন্মেছিলেন ১৯১৬ সালের ৩১ জুলাই রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম ইয়ারিঝেনস্কায়ায়। তাঁর পরিবার ছিল খুব সাধারণ এক কৃষক পরিবার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যখন ভ্লাদিমিরের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর তখন তাঁর বাবা পিওতর ইয়াকোভলেভিচ দেমিখভ রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে মারা যান। এত ছোট বয়সে বাবা হারানোর কষ্টও তাঁকে থামাতে পারেনি। মা ছিলেন দোমনিকা আলেকসান্দ্রোভনা, তিনি একাই তিন সন্তানকে বড় করে তুলেন। তার মা কষ্টের মধ্যে থেকেও ঠিক করলেন সন্তানদের শিক্ষা যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়।
ছোটবেলা থেকেই ভ্লাদিমির অদ্ভুতভাবে আগ্রহী ছিলেন শরীরের ভেতরের জটিল কাজকর্ম নিয়ে, বিশেষ করে স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত কিভাবে সারা শরীরে চলাচল করে তা জানার প্রতি। বিখ্যাত বিজ্ঞানী ইভান পাভলভ কুকুর নিয়ে যেসব পরীক্ষা করতেন সেগুলো তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। ছোট্ট ভ্লাদিমির তখন থেকেই ভাবতে শুরু করেন একদিন তিনিও জীবনের গোপন রহস্য খুঁজে বের করবেন।

ছবি: গেটি ইমেজ
যন্ত্রপাতি মেরামত থেকে হৃদপিণ্ড বানানো
১৯৩১ সালে স্কুল শেষ করে মাত্র পনেরো বছর বয়সে তিনি একজন মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন স্ট্যালিনগ্রাদ ট্রাক্টর প্লান্টে। সেখানে তিনি যন্ত্রপাতি মেরামত করতেন। কিন্তু তাঁর মাথার ভেতর ঘুরছিল অন্য কিছু যা তিনি শুধু যন্ত্র নয় বরং জীবন্ত প্রাণীর শরীর নিয়েও জানতে চাইছিলেন।
তাই ১৯৩৪ সালে তিনি ভর্তি হলেন ভোরোনেজ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। আর সেখানেই তিনি মাত্র তিন বছরের মাথায় এক অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব দেখালেন। ১৯৩৭ সালে তিনি বানালেন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম হৃদপিণ্ড। শুধু বানিয়ে থেমে থাকেননি, সেটি একটি কুকুরের শরীরে বসিয়ে দিলেন এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলে কুকুরটি সেই হৃদপিণ্ড নিয়ে টানা দুই ঘণ্টা বেঁচে ছিল।
তখনকার সময়ের জন্য এটি ছিল যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো একটি খবর। ১৯৩৮ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপত্রিকা তাঁর এই সাফল্যের কথা প্রকাশ করেছিল। এরপর তাঁর সেই পরীক্ষাই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পথ খুলে দিয়েছিল। পরে তিনি মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হলেন এবং ১৯৪০ সালের আগস্টে সম্মানের সাথে স্নাতক পাস করেন।
যুদ্ধের ভেতর চিকিৎসা শেখা
স্নাতক শেষ করার পরপরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। দেমিখভকে সেনাবাহিনীতে ডেকে নেয়া হলো। তিনি রেড আর্মিতে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং প্যাথলজিস্ট হিসেবে যোগ দিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি মৃতদেহ পরীক্ষা করতেন, চোট পেয়ে মারা যাওয়া সৈনিকদের শরীর বিশ্লেষণ করতেন যেটা তাঁকে শরীরের ভেতরের কার্যপ্রণালী নিয়ে আরও বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছিল। ১৯৪৫ সালে তিনি চীনেও কাজ করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে তিনি নানা পদক আর সম্মাননা পেলেন। কিন্তু তাঁর মাথায় তখনও একটাই চিন্তা ছিল যা নতুন কিছু তৈরি করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অজানা দরজা খুলে দেওয়া।
সংক্ষিপ্ত এই জীবনীতে আমরা দেখতে পাই এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। এক গ্রামের ছেলে, যিনি পিতৃহীন শৈশব থেকে উঠে এসে প্রথমে যন্ত্র মেরামত করে তারপর বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম হৃদপিণ্ড বানিয়ে ফেলে। যুদ্ধক্ষেত্রের রক্ত আর ধুলার মধ্য দিয়ে সে আরও জানল মানুষের শরীরকে, আর পরে হয়ে উঠল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে সাহসী ও বিতর্কিত গবেষক। ভ্লাদিমির দেমিখভের গল্প শুধু একজন বিজ্ঞানীর সাফল্যের গল্প নয় বরং এটা এক অসম্ভব কৌতূহল, অটল পরিশ্রম আর হাল না ছাড়ার গল্প।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভ্লাদিমির দেমিখভ আবার তাঁর পুরোনো গবেষণার কাজে ফিরলেন। তিনি মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ফিরে এসে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা organ transplantation নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করলেন। তখন এসব ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য ব্যাপার, কিন্তু দেমিখভ বুঝতেন ভবিষ্যতের চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর মূল্য অপরিসীম হবে।
১৯৪৭ সালে তিনি মস্কোর ইনস্টিটিউট অব সার্জারিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি লিভার এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের ওপর আরও গভীরভাবে কাজ শুরু করেন। পঞ্চাশের দশক জুড়ে তিনি তাঁর অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিগুলো বারবার উন্নত ও নিখুঁত করতে থাকলেন, যাতে প্রতিস্থাপিত অঙ্গ নিয়ে প্রাণীরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। ধীরে ধীরে তাঁর পরীক্ষার সাফল্যের হারও বাড়তে থাকে।
১৯৬০ সালে দেমিখভ যোগ দিলেন স্ক্লিফোসোভস্কি ইনস্টিটিউট অব এমার্জেন্সি মেডিসিনে। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে কাজ করলেন এবং এখান থেকেই তিনি অবসর নিলেন ১৯৮৬ সালে।
এর মধ্যেই তিনি ১৯৬০ সালে একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ লিখলেন “Experimental Transplantation of Vital Organs”। এই বইতেই প্রথম ব্যবহার করা হয় “transplantology” শব্দটি। বইটি এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে তা বহু ভাষায় অনূদিত হয় এবং সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে এই বইয়ের জন্যই তিনি ডক্টরাল ডিগ্রি পান।
দেমিখভের জীবন শেষ হয় ১৯৯৮ সালের ২২ নভেম্বর, ৮২ বছর বয়সে। মৃত্যুর কারণ ছিল এক ধরনের অ্যানিউরিজম বা রক্তনালির ফোলাভাব। জীবদ্দশায় তাঁর কাজের যথাযথ স্বীকৃতি মিললেও অনেক দেরিতে তাঁর মৃত্যুর বছরেই রাশিয়া তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা সম্মান “Order of Merit for the Fatherland, 3rd class” প্রদান করে।
তবে আন্তর্জাতিক মহল অনেক আগেই তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ১৯৮৯ সালে International Society for Heart and Lung Transplantation তাঁকে তাদের প্রথম Pioneer Award দেয়, Intrathoracic transplantation এবং Artificial heart বা কৃত্রিম হৃদযন্ত্রের গবেষণায় তাঁর অসামান্য ভূমিকার জন্য।
প্রথম করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারির সূচনা
ড. ভ্লাদিমির দেমিখভ শুধু অঙ্গ প্রতিস্থাপনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি এমন এক অপারেশনের পথিকৃৎ, যা আজ সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। ১৯৫৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রাণীদের ওপর করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি করেন। এটি ছিল বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক বাইপাস অপারেশন।
এই সাহসী গবেষণাটি তিনি করেছিলেন কুকুরের ওপর। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট যা ছিল হৃদযন্ত্রের পেশীতে রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা। আজকের দিনে এই ধারণা আমাদের কাছে পরিচিত কিন্তু তখনকার সময়ে এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক চিকিৎসা পদ্ধতি।
১৯৫২ সালে দেমিখভ কয়েকটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। এক বছরের মধ্যেই, ১৯৫৩ সালে তিনি সফলভাবে mammary–coronary artery anastomosis সম্পন্ন করেন, অর্থাৎ কুকুরের স্তনধমনীকে করোনারি ধমনীর সঙ্গে যুক্ত করে রক্তপ্রবাহ চালু করেন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কুকুরগুলোর মধ্যে চারটি অপারেশনের পর দুই বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিল। শুধু তাই নয়, তাদের শরীরে বসানো ধমনী এবং সংযোগ বা Anastomosis পুরোপুরি কার্যকর ছিল।
দেমিখভের এই সাফল্যই আজকের Coronary Artery Bypass Grafting (CABG) সার্জারির ভিত্তি স্থাপন করে, যে সার্জারি আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে এবং আধুনিক কার্ডিয়াক সার্জারির সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের একটি হিসেবে বিবেচিত।
প্রথম সফল ফুসফুস ও হার্ট-লাং ট্রান্সপ্লান্টের সূচনা
ড. ভ্লাদিমির দেমিখভ এমন একজন বিজ্ঞানী ছিলেন যিনি প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করে প্রথমবারের মতো হার্ট আর ফুসফুস বদলের কাজ করেছিলেন। তিনি ১৯৪০ এবং ১৯৫০ এর দশকে অনেক অদ্ভুত ও কঠিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে তিনি এমন এক পরীক্ষা করেছিলেন, যেখানে কুকুরের নিজের হার্টের পাশেই আরেকটা হার্ট বসানো হয়। এটা ছিল পুরো দেহের বাইরে অন্য একটি হার্ট যোগ করা। একই বছর তিনি প্রথমবারের মতো হার্ট আর ফুসফুস একসাথে বদলের চেষ্টা করেন।
একদিন, ১৯৪৬ সালের ৩০ জুন, এমন একটি কুকুর ছিল যা হার্ট আর ফুসফুস একসাথে বদলের পর প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বেঁচে ছিল। এই সাফল্য প্রমাণ করেছিল যে হার্ট-লাং ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব।
এরপর ১৯৪৭ সালে তিনি একক ফুসফুস বদলের পরীক্ষা করেন। প্রথম কুকুরটি সাত দিন বেঁচে ছিল, আর অন্যটি মাসখানেক বাঁচতে পেরেছিল।
অতীতে, এমন কঠিন সার্জারি করার সময় সাধারণত হার্ট ও ফুসফুসের কাজ সাময়িক বন্ধ করার জন্য বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দেমিখভ যন্ত্র ব্যবহার না করেই দ্রুত সার্জারি করতেন। তিনি এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন যাতে দাতার হার্ট ও ফুসফুসকে নষ্ট না হতে দিয়ে নিরাপদে অন্য কুকুরের শরীরে বসানো যেত।
এই পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোই আধুনিক সময়ের হার্ট ও ফুসফুস বদলের চিকিৎসার পথ প্রশস্ত করেছিল। আজকের দিনে, হার্ট বা ফুসফুসের অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যে সার্জারি হয় তার প্রাথমিক ভিত্তি ছিল দেমিখভের এই কাজ।
সহজ কথায়, দেমিখভ প্রাণীদের ওপর অনেক কঠিন পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে হার্ট আর ফুসফুস একসাথে বা আলাদা আলাদা বদলানো সম্ভব যা আজকের আধুনিক চিকিৎসার জন্য অনেক বড় অবদান।
ড. ভ্লাদিমির দেমিখভ সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়েছেন তার বিতর্কিত দুই-মাথার কুকুরের পরীক্ষার জন্য যা তিনি ১৯৫৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু করেছিলেন। মোট প্রায় ২৪টি এরকম অপারেশন তিনি করেছিলেন এবং ক্রমেই তার পরীক্ষামূলক পদ্ধতি উন্নত করতেন। ১৯৫৯ সালে যখন তিনি ২৪তম অপারেশনটি করেন, তখন এটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যেমন Life ম্যাগাজিনে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
এই অপারেশনের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত জটিল। ছোট একটি কুকুরের মাথা এবং সামনের পা গুলো কেটে বড় কুকুরের গলার সাথে জুড়ে দেয়া হতো। এই কাজ করার জন্য দুই কুকুরের রক্তপ্রবাহের নালীগুলো খুবই সাবধানে সেলাই করা হতো যেন বড় কুকুরের হৃদয় দুই মাথাকেই রক্ত সরবরাহ করতে পারে। ছোট কুকুরের মেরুদণ্ডের পেছনের অংশ কেটে ফেলা হতো আর তার গলার হাড়গুলো বড় কুকুরের গলার সাথে প্লাস্টিকের দড়ি এবং ধাতব ক্লিপ ব্যবহার করে যুক্ত করা হতো যাতে মাথাটা স্থির থাকে।
কিন্তু মেরুদণ্ডের নড়াচড়ার কোনো সংযোগ বা কাজ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, Graft করা মাথার খাদ্যনালীকে আলাদা করে বাহিরে টিউবের মাধ্যমে সংযোগ করা হতো কারণ তা বড় কুকুরের পেটের সাথে যুক্ত ছিল না, তাই গলাধঃকরণ বা শ্বাসরোধ হওয়া থেকে রক্ষা পেত।
সহজ ভাষায় বললে, দেমিখভ এমন একটি জটিল সার্জারি করেছিলেন যেখানে ছোট একটি কুকুরের মাথাকে বড় কুকুরের গলায় লাগিয়ে দুই মাথার কুকুর তৈরি করতেন। যদিও পুরো শরীর একসঙ্গে ছিল না, রক্ত চলাচল ঠিকঠাক করাতে তিনি অনেক কৌশল অবলম্বন করতেন। এই পরীক্ষা প্রাণীবিজ্ঞানে এবং অঙ্গপ্রতিস্থাপন গবেষণায় এক গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে আছে।
দুই-মাথার কুকুরের ওপর করা পরীক্ষাগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে Graft করা ছোট মাথাটি কিছু আলাদা অনুভূতি এবং চলাচলের ক্ষমতা দেখিয়েছিল। ছোট মাথাটি চোখ ঝপকাতে পারত, শব্দ শুনে কান নাড়াতে পারত, গন্ধ নিতে পারত এবং একটা থালার মধ্যে থাকা পানি ল্যাপ করে খেতে পারত। তবে পানি খাওয়ার পর তা বাইরের টিউব দিয়ে বের হয়ে যেত, কারণ খাদ্যনালী বড় কুকুরের দেহের সাথে যুক্ত ছিল না।
কিছু সময় দেখা গেছে বড় কুকুরটি Graft করা ছোট মাথাকে ঝাঁকাতে চেয়েছে, আর ছোট মাথা পাল্টা কামড় দিয়েছে। এই আচরণ থেকে বোঝা যায় যে graft করা মাথাটি কিছুটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত। তবে দুটো মাথাই কষ্ট পেতো। Graft করা মাথা অশ্রু ঝরাতো এবং আলাদাভাবে নড়াচড়া করতে চেয়েছিল আর বড় কুকুরটা চাপ ও উদ্বেগ দেখাচ্ছিল।
দুই-মাথার কুকুরের বেঁচে থাকার সময় ভিন্ন ভিন্ন ছিল, সাধারণত তারা দুই থেকে ছয় দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকত। সবচেয়ে বেশি বেঁচে থাকার রেকর্ড ছিল ২৯ দিন, যেখানে পিরাত নামের একটি কুকুর ১৯৫৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯৫৯ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বেঁচে ছিল। সবচেয়ে বেশি নজরে আসা কেস ছিল ব্রোডিয়াগা যেটি ছিল বড় কুকুর ও শাভকা যেটি ছিল ছোট কুকুর যারা চার দিন বেঁচে ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয় গলার একটি শিরার ক্ষতি হওয়ার কারণে যা তাদের রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, দুই-মাথার কুকুরগুলোর Graft করা ছোট মাথাগুলো কিছুটা নিজের মতো কাজ করত যা ছিল চোখ ঝাপসা করা, কান নাড়া, পানি খাওয়া, এমনকি কামড় দেওয়াও। কিন্তু দুই মাথাই কষ্ট পেতো এবং কুকুরগুলো বেশ কয়েক দিন বেঁচে থাকত, মাঝে মাঝে কিছু কুকুর মাসখানেক বেঁচে থাকার কাহিনী ছিল। এই পরীক্ষাগুলো প্রাণীর শরীরের জটিলতার ওপর অনেক নতুন তথ্য দিয়েছে যদিও এটা অনেকেই নিন্দা করতেন।
দেমিখভ যখন ১৯৫০-এর দশকে তার গবেষণা করছিলেন, তখন কার্যকর কোনো ইমিউনোসপ্রেসিভ ঔষধ যা শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে তখন তা বাজারে উপলব্ধ ছিল না। এই কারণে তার অঙ্গপ্রতিস্থাপন পরীক্ষাগুলোর সফলতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ, যেই কুকুরের শরীরে অন্য কোনো কুকুরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হত সেই কুকুরের ইমিউন সিস্টেম ওই নতুন অঙ্গটিকে
অপরিচিত হিসেবে চিনে ফেলে এবং তা ধ্বংস করার জন্য কাজ শুরু করে। ফলে প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলো দেহে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে না এবং অস্ত্রোপচারের স্থানেও প্রদাহ এবং পচন দেখা দেয়।
দেমিখভ কিছু প্রাথমিক ধরনের ইমিউনোসপ্রেসিভ ঔষধ যেমন কর্টিসোন ব্যবহার করতেন, তবে এগুলো তেমন কার্যকর ছিল না। পরে cyclosporine-এর মতো উন্নত ঔষধ তৈরি হয় যা ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করে। এই ঔষধগুলো তখনো দেমিখভের সময়ে ছিল না। তাই তার অত্যাধুনিক সার্জারি পদ্ধতি এবং সফল রক্তনালী সংযোগ থাকা সত্ত্বেও ইমিউন প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার জন্য তার Graft গুলো সাধারণত খুব অল্প সময়ের জন্যই বেঁচে থাকতে পারত।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, দেমিখভের সময়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধী শক্তিকে থামানোর ভালো কোনো ওষুধ ছিল না, তাই তার গবেষণার অঙ্গগুলো বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। এটা ছিল তার কাজের একটি বড় সীমাবদ্ধতা, যার কারণে তখন তার সফলতা পুরোপুরি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
১৯৫৩ সালে তিনি প্রাণীর হৃদয়ে করোনারি আর্টারির বাইপাস সার্জারি করেন, যা তখনকার সময়ে এক নতুন ও বড় পদক্ষেপ ছিল। এই বাইপাস অপারেশন পরে মানুষের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।
দেমিখভ অঙ্গপ্রতিস্থাপনের সময় রক্তনালির সংযোগ ও অঙ্গের টিকে থাকার ওপর অনেক গবেষণা করেছেন। তার কাজ থেকে জানা যায় কীভাবে অঙ্গগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে, এমনকি যখন পুরো শরীরের রক্ত প্রবাহ থেমে যায় তখনও। ১৯৬০ সালে তিনি একটি বই লিখেছেন, যার নাম ছিল Experimental Transplantation of Vital Organs, বইটি ছিল অঙ্গপ্রতিস্থাপনের ওপর বিশ্বের প্রথম বড় ও বিস্তারিত বই যা অনেক ভাষায় অনূদিত হয় এবং বহু বছর ধরে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ব্যবহার হয়।
সাধারণ কথায়, দেমিখভের গবেষণা আধুনিক অঙ্গপ্রতিস্থাপন চিকিৎসার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। তার কাজের কারণে আজ আমরা হৃদয়, ফুসফুস বা অন্যান্য অঙ্গ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারি যা অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়ে চলেছে।
ডঃ ভ্লাদিমির দেমিখভের কাজ ভবিষ্যতে সার্জনদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার এক হৃদরোগ চিকিৎসক ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড তার কাজ দেখে অনেক প্রেরণা পেয়েছিলেন। বার্নার্ড ১৯৬০ এবং ১৯৬৩ সালে দু’বার দেমিখভের গবেষণাগারে গিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখেছিলেন। এরপর ১৯৬৭ সালে বার্নার্ড বিশ্বের প্রথম মানুষের ওপর সফল হৃদয় প্রতিস্থাপন সার্জারি করেন। তিনি স্বীকার করতেন যে দেমিখভের কাজ না হলে এটা সম্ভব হত না।
তবে দেমিখভের গবেষণা নিয়ে অনেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে তার দুই মাথার কুকুর নিয়ে যে পরীক্ষা করেছিলেন, সেটাকে অনেকেই খুবই নোংরা এবং নিষ্ঠুর মনে করতেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যেও তার এই কাজের ব্যাপারে অনেক সমালোচনা হচ্ছিল। ১৯৫০ সালের দশকে সোভিয়েত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক গ্রুপ তার কাজকে অনৈতিক বলেছিল এবং তাকে এই ধরনের গবেষণা বন্ধ করার কথা বলেছিল। কিন্তু মস্কোর একটি বড় হাসপাতালের প্রধান ডঃ আলেকজান্ডার বিশনেভস্কি তাকে কাজ চালিয়ে যেতে দিয়েছিলেন।
এই নৈতিক প্রশ্নগুলো ছিল প্রধানত এই কারণে, যে গবেষণায় অনেক পশুদের কষ্ট হয়েছিল এবং এমন পরীক্ষাগুলো মানুষের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় বা ব্যবহারযোগ্য তা নিয়ে সন্দেহ ছিল।
সুতরাং, দেমিখভের কাজ চিকিৎসা বিজ্ঞানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই সঙ্গে তার গবেষণা অনেক সময় মানুষকে বিব্রত এবং চিন্তিত করেছিল কারণ এতে পশুদের প্রতি যন্ত্রণার কথা ছিল এবং কিছু পরীক্ষা অনেকেই নৈতিক মনে করতেন না।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেমিখভের গবেষণার খবর, বিশেষ করে দুই মাথার কুকুর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য, ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকেই খুব রেগে যায় এবং কঠোর সমালোচনা করে। যদিও তার প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে স্বীকার করা হয়েছিল, তবুও অনেক সমালোচক তার কাজকে অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতা এবং একটি বিভীষিকাময় প্রচারমূলক কৌশল হিসেবে দেখতেন।
পশ্চিমা দেশগুলোতে বিশেষ করে পশু অধিকার সংগঠনগুলো তার পরীক্ষার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। এছাড়াও সেই সময়ের শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কিছু লোক ভাবত হয়তো এই গবেষণাগুলো অতিরঞ্জিত করা হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠতা প্রদর্শনের জন্য।
পশুদের বাঁচার সময় খুব কম ছিল, যা মূলত তখনকার সময়ে কার্যকর ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধের অভাবে হয়েছিল। এর ফলে পশুরা প্রচুর শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো সুফল পাননি। এই বিষয়গুলো আরও বেশি নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।
যদিও এত সমালোচনা ছিল তবুও দেমিখভ মেজাজ শান্ত রাখতেন এবং তার গবেষণাগারে আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে তার পরীক্ষাগুলো দেখাতেন। তিনি তার কাজের ফলাফল শেয়ার করতে আগ্রহী ছিলেন এবং নতুন ধারণাগুলো সামনে আনতেন।
ভ্লাদিমির দেমিখভের পরীক্ষাকে নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা ও মিথ প্রচলিত আছে, যা অনেক সময় সত্যিকে অতিরঞ্জিত বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে।
প্রথমত, তাকে অনেক সময় পাগল বিজ্ঞানী হিসেবে দেখানো হয়, যেন তিনি শুধু অদ্ভুত ও ভয়াবহ পরীক্ষা চালাতেন শুধু মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য। বাস্তবে, তিনি ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ এবং দূরদর্শী পরীক্ষামূলক সার্জন, মূলত অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তিকে উন্নত করার উদ্দেশ্যেই ছিল। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল রোগীদের জীবন বাঁচানো এবং অস্ত্রোপচারে বিভিন্ন বাধা কাটিয়ে ওঠা।
দ্বিতীয়ত, দুই মাথার কুকুর নিয়ে তার পরীক্ষা কেবল কৌতূহল বা নিষ্ঠুরতার জন্য নয়। তার উদ্দেশ্য ছিল বোঝা, কীভাবে একটি হৃদয় দুইটি মাথাকে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং কিভাবে রক্তনালী সংযোগ, টিস্যুর সামঞ্জস্যতা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করে। এগুলো ছিল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রথম দিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তৃতীয়ত, কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে কুকুর বেঁচে থাকার কথাও মাঝে মাঝে সোভিয়েত মিডিয়ার প্রচারমূলক কারণে অতিরঞ্জিত বলা হয়।
দেমিখভের নিজের রেকর্ড অনুযায়ী গড়ে কুকুরগুলো সাধারণত ২ থেকে ৬ দিন বেঁচে থাকত, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ছিল ২৯ দিন। এই কম বেঁচে থাকার মূল কারণ ছিল তখনকার সময়ে কার্যকর ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধের অভাব এবং দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে প্রতিস্থাপিত অঙ্গ প্রত্যাখ্যান। সুতরাং, দেমিখভের কাজকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তাকে কেবল বিতর্কিত বা অদ্ভুত গবেষক হিসেবে না দেখে একজন বৈজ্ঞানিক প্রগতি সাধকের চোখে দেখতে হবে।

ভ্লাদিমির দেমিখভের গবেষণাকে ঘিরে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যেগুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন
প্রথমত, অনেকেই ভাবে যে তিনি দুই কুকুরের স্পাইনাল কর্ড অর্থাৎ মেরুদণ্ডের স্নায়ু সফলভাবে যুক্ত করেছিলেন, যার ফলে graft করা মাথা পুরোপুরি নিউরোলজিক্যালভাবে সংযুক্ত হয়ে শরীর নিয়ন্ত্রণ করতো। তবে এটা সত্যি নয়। graft করা মাথার স্পাইনাল কর্ড আসলে কাটা হয়েছিল এবং কেবল যান্ত্রিকভাবে প্লাস্টিকের দড়ি বা ধাতব ক্লিপ দিয়ে হোস্ট কুকুরের মেরুদণ্ডের সঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, কার্যকর স্পাইনাল কর্ডের সংযোগ করা সম্ভব হয়নি, ফলে graft করা মাথা হোস্টের শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। মাথার কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বতন্ত্র প্রতিক্রিয়া মূলত মস্তিষ্কের স্টেম বা Cranial nerve-এর মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, শীতল যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কিছুটা সীমিত থাকলেও দেমিখভ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। তিনি বিদেশি দর্শনার্থীদের, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃতী হৃদরোগ সার্জন ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ডের মতো বড় বড় চিকিৎসকদের নিজের গবেষণাগারে আমন্ত্রণ জানাতেন এবং তার কাজ প্রদর্শন করতেন। এছাড়া তার গবেষণাপত্র বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছিল, যা তার গবেষণার গুরুত্ব ও স্বীকৃতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ড. ভ্লাদিমির দেমিখভের জীবন যেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক সাহসী উপন্যাস। গ্রামের এক সাধারণ ছেলে যিনি অদম্য কৌতূহল আর অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে এমন কিছু করে দেখালেন যা তখনকার সময়ের জন্য ছিল প্রায় অকল্পনীয়। তিনি প্রথম কৃত্রিম হৃদপিণ্ড বানালেন, প্রাণীদের ওপর প্রথম করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি করলেন এবং দেখিয়ে দিলেন যে হার্ট-লাং ট্রান্সপ্লান্ট একদিন সম্ভব হবে। জীবদ্দশায় তাঁকে সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে, ভুল বোঝাবুঝির শিকার হতে হয়েছে কিন্তু তাঁর প্রতিটি পরীক্ষা ভবিষ্যতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য পাথেয় হয়ে রয়েছে। আজ অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা হৃদপিণ্ডের বাইপাস সার্জারি আমাদের কাছে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, তার পেছনে রয়েছে দেমিখভের সেই সাহসী স্বপ্ন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইতিহাস। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করেছেন সত্যিকারের উদ্ভাবকের স্বীকৃতি দেরিতে এলেও তাঁর কাজ চিরকাল মানবতার সেবায় বেঁচে থাকে।
লেখা: ইমাম হোসাইন আনজির
লেখক, বিজ্ঞান্বেষী

