এলগরিদম (Algorithm) হলো কতগুলো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা ধাপসমূহের একটি সেট, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধানের জন্য বা একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধান করার প্রক্রিয়া হলো এলগরিদম।
একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক:
যেমন খবর খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি একটি অ্যালগরিদমের মতো কাজ করে, যেখানে বিভিন্ন ধাপ ও শর্ত থাকে। প্রথমে আপনি নিজে কতটা ক্ষুধার্ত টা দেখেন যদি কম ক্ষুধার্ত থাকেন তাহলে হালকা নাস্তা নেওয়া সিদ্বান্ত নিবেন।আর যদি খুদার তীব্রতা বেশি থাকে তাহলে আপনি ভারী খাবার খাওয়ার সিদ্বান্ত নিবেন। তারপর খাওয়ার জন্য ফ্রিজ বা রান্না ঘরে কী আছে তা দেখবেন। যদি রান্না ঘরে বা ফ্রিজে খবর থেকে আপনি খাবার খেয়ে নিয়ে পারেন ।আর যদি না থাকে তাহলে আপনাকে আবার রান্না করতে হবে।
🍽 খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এলগরিদম
কম্পিউটারও একইভাবে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়। এগুলি হলো কমান্ড সেট যা একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামকে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। যেমনটা উপরের উদাহরণের মতো, কম্পিউটারের ধাপগুলি হয় সমীকরণ বা নিয়ম।
কম্পিউটারের জগতে অ্যালগরিদম সর্বত্র বিদ্যমান। যেমন ই – কমার্স সাইটগুলোতে গুলোতে এলগরিদম এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ।যেমন অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মগুলো, যেমন, দারাজ ,অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্ট, তাদের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ক্রেতাদের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রোডাক্ট দেখায় ।এছাড়াও আপনার সার্চ হিস্টোরি ও কেনাকাটার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে তারা তাদের পণ্যর বিজ্ঞাপন আপনার সামনে উপস্থাপন করে।
সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হতে পারে একটি সার্চ ইঞ্জিন, যেমন গুগল।গণিতবিদ এবং কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট গুগলের ব্যবহৃত অ্যালগরিদমগুলি ডিজাইন করেছিলেন। তারা বুঝতে পেরেছিল যে প্রতিটি প্রশ্নের শব্দ খোঁজার (search)জন্য পুরো ইন্টারনেট খোঁজা অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ হবে। একটি সহজ উপায় হলো: ওয়েবপেজগুলোর মধ্যে লিঙ্কগুলো গণনা করা, এবং এমন পেজ এর জন্য অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া যেগুলোর সঙ্গে অনেক লিঙ্ক রয়েছে । যেসব পেজের লিঙ্ক বেশি, সেগুলো সার্চের রেজাল্টের উপরের দিকে রিকমান্ড করা হয়।
অনেক কম্পিউটার অ্যালগরিদম কোনো সমস্যার সমাধানের সময় নতুন ডেটা খোঁজে। উদাহরণস্বরূপ, একটি স্মার্টফোনের ম্যাপ অ্যাপ এমন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে যা দ্রুততম বা সবচেয়ে ছোট পথ খুঁজে বের করে। কিছু অ্যালগরিদম নতুন কনস্ট্রাকশন জোন বা সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়ার জন্য অন্যান্য ডেটাবেসের সাথে সংযোগ স্থাপন করে, যাতে তারা এইসব স্থান এড়াতে পারে। এই অ্যাপটি চালকদের একটি নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করতেও সাহায্য করে।
অ্যালগরিদমগুলি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করে এক বা একাধিক সমাধান খুঁজে বের করার সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। বেশিরভাগ অ্যালগরিদমের ধাপগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করতে হয়। এই ধাপগুলোকে ডিপেনডেন্সি (নির্ভরতা) বলা হয়।
একটি উদাহরণ হলো if/then স্টেটমেন্ট। ধরেন আপনি বিকেলে বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন আপনি একটি কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মতো কাজ করেন। প্রথম ধাপ হচ্ছে আবহাওয়া কেমন টা দেখা । “যদি(if)” আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল এবং উষ্ণ হয়, “তাহলে(then)” আপনি হয়তো বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কখনো কখনো অ্যালগরিদম মানুষের কম্পিউটার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে। এটি মানুষ কম্পিউটারে কী ভিডিও/নিউজ বা কোন ওয়েবসাইট পড়েছে তা ট্র্যাক করতে পারে। সেই তথ্য ব্যবহার করে তাদের নতুন নিউজ\ভিডিও ইত্যাদি দেখানো হয়। এভাবেই ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,ইউটিউব ইত্যাদি আপনার নিউজ ফিড কাষ্টমাইজ করে ফেলে।
আমরা বিভিন্ন কাজের জন্য অসংখ্য কম্পিউটার অ্যালগরিদম ব্যবহার করি। প্রতিদিন নতুন বা উন্নত অ্যালগরিদম তৈরি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষায়িত কিছু অ্যালগরিদম রোগ কীভাবে ছড়ায় তা ব্যাখ্যা করতে পারে। কিছু অ্যালগরিদম আবহাওয়া পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যতে এমন অ্যালগরিদম তৈরি হবে যা কম্পিউটারকে আরও জটিল ডেটা বুঝতে শেখাবে।
ছবি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এলগরিদম এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে যা একটি ছবির উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদ বা প্রাণীর সম্ভাব্য নাম বের করা।

ছবি : উইকিপিডিয়া
“অ্যালগরিদম” শব্দটি এসেছে পার্সিয়ান প্রখ্যাত মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি (Al-Khwarizmi)-এর নাম থেকে। আল-খোয়ারিজমি নবম শতকে জন্মগ্রহন করে এবং গণিতে তাঁর অবদান অসামান্য।তার হাত ধরেই বীজগণিতের সূচনা হয়।তিনি গাণিতিক পদ্ধতি এবং সমীকরণ সমাধানের নিয়ম নিয়ে কাজ করেছিলেন। তাঁর লেখা বইগুলির একটি লাতিন অনুবাদে তাঁর নাম “Algoritmi” হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে “Algorithm” শব্দে রূপান্তরিত হয়।
Yeamin Rahaman Fahad
