লেখক: বিজ্ঞান্বেষী ডেস্ক ২

এই মহাবিশ্বে যেসব রাসায়নিক পদার্থ বা কেমিক্যাল আছে তার মাত্র ১% আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পেরেছেন। ভাবতে কেমন লাগে? গোটা বিশ্ব রাসায়নিক পদার্থে ভর্তি অথচ আমরা তার প্রায় কিছুই জানি না। আর ঠিক এই কারণেই বিজ্ঞানীরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেই বাকি ৯৯% অজানা রাসায়নিকগুলো খুঁজে বের করার জন্য। কারণ এসব অজানা রাসায়নিকের মধ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে কোনো দুর্দান্ত ঔষধ বা এমন কোনো উপাদান যা পরিবেশ থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস দূর করে দিতে পারে।রসায়নবিদেরা যুগ যুগ ধরে রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই চলেছেন। ১৮৬৯ সালে রুশ বিজ্ঞানী দিমিত্রি মেন্ডেলেভ এমন এক চমৎকার জিনিস তৈরি করেলছিলেন যেটাকে বলা হয় পারমাণবিক সারণি…

Read More

আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ৮৬ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ (নিউরন), লক্ষ লক্ষ সংযোগ, আর অগণিত রহস্যের আধার নিয়ে গঠিত একটি জটিল নেটওয়ার্ক। আমরা সাধারণত ভাবি, নিউরন মানেই সক্রিয়, সদা-ব্যস্ত কোষ। কিন্তু জানেন কি, এদের অনেকেই থাকে একেবারে নীরব? তারা কোনো সংকেত পাঠায় না, কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখায় না—মনে হয় তারা নিষ্ক্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই নীরব স্নায়ুকোষ বা Silent Cells আসলে গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে—একদম চুপচাপ থেকে, পর্দার আড়ালে। এই Silent Cells-ই আমাদের শেখার, মানিয়ে নেওয়ার, এমনকি মানসিক পুনরুদ্ধারের গোপন শক্তি! নিউরন যেভাবে কাজ করে নিউরন আমাদের মস্তিষ্কের মৌলিক একক। এরা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত সিন্যাপসের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে। যখন আমরা কিছু…

Read More

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, ২০২০ সালের কোভিড -১৯ এর পর থেকে ২০২৫ সাল এই সময়টার ব্যবধান ৫ বছর হলেও মনে হচ্ছে সেদিনই তো লকডাউন সবাই ঘরে বন্ধি ছিলাম। মনে হচ্ছে সময়টা খুবই দ্রুত চলে যাচ্ছে। এখন ঘন্টার পর ঘন্টা ইনস্টাগ্রামে রিলস্ স্ক্রল করতে পারলেও ধৈর্য ধরে ২ ঘন্টার সিনেমা দেখা অনেক কষ্টকর ব্যাপার। একসময় তরুণ রা ৯০ মিনিট ধরে ফুটবল খেলায় মেতে থাকতো। WPP, যা বিশ্বের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন সংস্থা, এর প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন যে নতুন প্রজন্মের (Gen Z) দর্শকদের আকর্ষণ করতে হলে ইভেন্টগুলোর ধরণ বদলাতে হবে, কারণ GenZ এখন পুরো একটি ফুটবল ম্যাচ বা গলফ টুর্নামেন্ট দেখতে চায় না। তাদের…

Read More
0

প্রাডার-উইলি সিন্ড্রোম (Pradar -Willi বা PWS)একটি বিরল কিন্তু জটিল জিনগত রোগ যা মানুষের শৈশবকাল থেকে শুরু করে সারাজীবনে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। জন্মের সময় শিশুরা কম খায়, দুর্বল থাকে, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক প্রচুর ক্ষুধা, স্থূলতা ও শারীরিক-মানসিক নানা জটিলতা দেখা দেয়। চলুন, এই বিরল অসুখটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই। কারা এই রোগে আক্রান্ত হন? বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ জনের মধ্যে মাত্র একজন এই সিনড্রোমে আক্রান্ত হন। এটি নারী ও পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায় এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ঘটতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি পারিবারিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে আসে না, বরং শিশুর বিকাশের সময়ই হঠাৎ করে জিনগত পরিবর্তনের কারণে এটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে…

Read More

বাংলাদেশের মুরগির দোকানে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির মাংসে Escherichia albertii নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। নামটি নতুন মনে হলেও এটি E. coli-এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, আর এর প্রভাব মোটেই কম নয়। জাপানে ইতিমধ্যেই এই জীবাণুর কারণে একাধিক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শতাধিক মানুষ একসাথে আক্রান্ত হয়েছে। যদিও আধসিদ্ধ মুরগির মাংসকে এর সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ধরা হয়। তবে এবার বাংলাদেশের মুরগির মাংসেও এই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে। এই গবেষণার মূল নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জায়েদুল হাসান এবং জাপানের ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আতসুশি হিনেনোয়া। গবেষকেরা দেশের চারটি জেলার ১৭টি খুচরা ব্রয়লার মুরগির দোকান থেকে নমুনা…

Read More

এক ব্যক্তি, যার নাম মাইক হিউজ। সবাই তাকে Mad Mike বলে ডাকত – পাগল, বোকা, পাগলামি করা লোক না, বরং একরকমের জেদি মানুষ, যার মাথায় ছিল একটাই ভাবনা, “পৃথিবী চ্যাপ্টা, আর আমি সেটা প্রমাণ করব নিজের চোখে দেখে!” মাইক কোনো বড় বিজ্ঞানী ছিল না, তার ডিগ্রি ছিল না, গবেষণাগার ছিল না। সে ছিল একজন স্টান্ট ড্রাইভার, একবার একটা লিমুজিন গাড়ি লাফ দিয়ে ১০৩ ফুট পার করে গিনেস রেকর্ড বানিয়েছিল। কিন্তু তার মাথায় ছিল একটাই পাগলামি—রকেট বানাবে, আকাশে উড়বে, আর মহাকাশ থেকে নিজে চোখে দেখে বলবে, “দেখো, পৃথিবী গোল না, এটা ফ্ল্যাট (চ্যাপ্টা)!” কিন্তু রকেট বানানো তো শুধু মুখের কথা না।…

Read More

মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা আজীবন স্বপ্ন দেখতেন—সিসাকে বা অন্যান্য ধাতুকে সোনায় রূপান্তর করা এবং অমরত্বের ওষুধ তৈরি করা। যদিও সিসা (Lead) ও সোনা (Gold) একেবারে আলাদা মৌলিক পদার্থ, পার্থক্য মাত্র নিউক্লিয়াসের তিনটি প্রোটন। সোজা বাংলায়, সিসা থেকে যদি ঠিক তিনটি প্রোটন সরানো যায়, তাহলেই তা সোনায় পরিণত হবে। কিন্তু এটা শুনতে যতটা সহজ করা ততটাই কঠিন। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে Large Hadron Collider (LHC)-এ চলমান ALICE নামের এক গবেষণা প্রকল্প। যারা LHC-র নাম প্রথম শুনছেন তাদের বলে রাখি, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পার্টিকেল অ্যাক্সেলারেটর, যেটা সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত। এখানে কণাগুলোকে প্রায় আলোর গতিতে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঠানো হয়। গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এর…

Read More

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী ডিজিটাল ক্যামেরা মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। চিলির Vera C. Rubin Observatory-তে স্থাপিত অত্যন্ত হাই রেজুল্যুশন সক্ষমতার এই ৩,২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি মহাবিশ্বের অজানা, রহস্যময় অঞ্চলগুলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। ভেরা সি. রুবিন মানমন্দিরটি অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকার চিলির উত্তরাঞ্চলের সেরো পাচোন পর্বতশৃঙ্গে। এখানে ২০২৩-২৪ সালের শেষদিকে বসানো হয় এই গিগাপিক্সেল ক্যামেরা, যার কার্যক্রম ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা। এই ক্যামেরাটি যুক্তরাষ্ট্রের SLAC National Accelerator Laboratory (স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অংশ) কর্তৃক নির্মিত এবং এটি নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল LSST (Legacy Survey of Space and Time) প্রকল্পের জন্য। LSST প্রকল্পের…

Read More

ছবিটি আরেকবার ভালো করে দেখুন। নাসার তোলা অন্যান্য ছবির মতো এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। কারণ, এই ছবিটি শুধুমাত্র একটি মহাকাশের দৃশ্য নয়; এটি মানুষের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিকেই বদলে দিয়েছে।১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাস। জ্যোতির্বিজ্ঞানী বব উইলিয়ামস একটি সিদ্ধান্ত নিলেন, যা অনেকের কাছে পাগলামি বলে মনে হয়েছিল। হাবল স্পেস টেলিস্কোপকে তিনি আকাশের এমন একটি অংশের দিকে নির্দেশ করার কথা ভাবলেন, যেখানে কিছুই নেই—শূন্য। সেই শূন্যতার দিকে টানা ১০০ ঘণ্টা তাকিয়ে থাকবে টেলিস্কোপ। এখানে “শূন্য” বলতে এমন একটি আকাশের অংশকে বোঝানো হয়েছে যেখানে কোনো উজ্জ্বল তারকা, গ্রহ, নক্ষত্রপুঞ্জ, বা গ্যালাক্সির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। এটি ছিল মহাকাশের একটি এমন অঞ্চল, যা…

Read More

প্রায় ৮ লক্ষ বছর আগে মানবজাতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও চীনের বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণাদল এই বিষয়ে একটি নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে। এই গবেষণাটি আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার জীবাশ্ম নিদর্শনে বিদ্যমান দীর্ঘ সময়ের শূন্যতা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে। বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ৯ লক্ষ বছর আগে মানব পূর্বপুরুষদের জনসংখ্যা ভয়ানকভাবে কমে গিয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, সে সময় মাত্র ১,২৮০ জন প্রজননে সক্ষম মানুষ টিকে ছিলেন। অর্থাৎ, Ancestral bottleneck বা পূর্বপুরুষ জনসংখ্যা সংকোচনের এই সময়কালে প্রায় ৯৮.৭ শতাংশ মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। এই সংকটকাল প্রায় ১,১৭,০০০ বছর স্থায়ী ছিল। পরবর্তীতে, অর্থাৎ লেট প্লেইস্টোসিন…

Read More