বর্তমানে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী? “ফাঁসি”। কিন্তু সবসময় একই শাস্তি সবার জন্য প্রযোজ্য ছিল না। প্রাচীনকালে অপরাধ করলে মানুষকে করা হতো অমানবিক নির্যাতন। উল্টো করে করাত দিয়ে মাঝখান থেকে দুভাগ করা, মলদ্বারে গ্রিজ জাতীয় পদার্থ মেখে  বাঁশের সরু মাথায় বসিয়ে রাখা আরও কত কি। কিন্তু ইতিহাসের সব থেকে ভয়ানক শাস্তি কি ছিল জানেন? পোয়েনা কুলেই, প্রাচীন রোমে যারা নিজের মা-বাবাকে হত্যা করত, তাদের জন্য ছিল এই শাস্তি। 

একটা চামড়ার বস্তার ভেতর জীবন্ত কুকুর, সাপ, বানর আর মুরগির সাথে ভরে দিয়ে খুনিকে বস্তাবন্দি করে সেলাই করে দিত। তারপর সেই বস্তা পানিতে ফেলে দেওয়া হতো, আর ভেতরে থাকা প্রাণীগুলোর চলতো প্রাণপণ বাঁচার চেষ্টা। এরপর প্রাণীগুলোর একসাথে আঁচড়, কামড়ে বেরিয়ে আসতো অপরাধীর পেটের নাড়িভুড়ি আর ভয়ংকর যন্ত্রণায় মারা যেত বন্দী মানুষটা। অনেকে বলে এই শাস্তি সবসময় দেওয়া হতো না। তবে ইতিহাসে দেখা যায়, মধ্যযুগ আর আধুনিক যুগের শুরুতেও জার্মানি আর ফ্রান্সে এই নিয়ম চালু হয়েছিল।

কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই শাস্তিটা বাস্তবে আদৌ দেওয়া হতো না। কারণ, একটা কুকুর আর একটা বানরকে একসাথে এক বস্তায় ঢোকানো মোটেই সহজ কাজ না। অনেকে বলেন, এটা আসলে একটা ভয় দেখানোর কৌশল ছিল, যাতে কেউ বাবা-মাকে খু’ন করার কথা ভাবলেও সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। 

আবার কারও মতে, দোষীকে শুধু চামড়ার বস্তায় বেঁধে দেওয়া হতো, কিন্তু তাতে বন্য প্রাণী ঢোকানোর বিষয়টা সব সময় সত্যি নয়। ইতিহাসবিদ ফ্লোরিকে এগমন্ড বলেন, এই ‘পোয়েনা কুলেই’ শাস্তির সবচেয়ে বেশি প্রচলন ছিল ১৫ থেকে ১৭ শতকের মধ্যে। তবে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটা জার্মান, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, স্পেন আর ইতালির বিভিন্ন জায়গায় পরিচিত ছিল, আর শেষবার এই শাস্তির রেকর্ড মেলে ১৭০০ সালের দিকে, জার্মানিতে।

বিজ্ঞানের সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে রাখুন।
Leave A Reply