নারীদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই পরিসংখ্যানটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ নারীর জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা। এতদিন এই বৈষম্যের ব্যাখ্যায় মূলত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। যেমন, পুরুষদের সাহায্য চাওয়ার প্রবণতা কম হওয়ায় তাদের রোগ নির্ণয় কম হয়, অথবা নারীরা যৌ’ন নি’র্যা’তন এবং ব্যক্তিগত স’হিং’সতার শিকার বেশি হন।

কিন্তু সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার QIMR Berghofer Medical Research Institute এর গবেষকরা এই বিতর্কে একটি নতুন জৈবিক দৃষ্টিকোণ যুক্ত করেছে। Nature Communications জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের জেনেটিক বা বংশগত পার্থক্য বেশ স্পষ্ট।

গবেষকরা নারীদের মধ্যে বিষণ্ণতার সঙ্গে যুক্ত ১৬টি জেনেটিক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা মাত্র আটটি। এটি এখন পর্যন্ত বিষণ্ণতায় লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্যের ওপর করা সবচেয়ে বড় জেনেটিক স্টাডি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অংশগ্রহণ করেছিলেন প্রায় ১.৩ লাখ বিষণ্নগ্রস্ত নারী ও ৬৫ হাজার পুরুষ, পাশাপাশি বিষণ্নতামুক্ত আরও কয়েক লাখ ব্যক্তি।

যদিও গবেষণায় বিষণ্ণতায় ভোগা নারীর সংখ্যা পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ ছিল তবে গবেষকরা অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছেন যে স্যাম্পল সাইজের এই পার্থক্য ফলাফলের উপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।

যদিও বিষণ্ণতার ঝুঁকির জন্য দায়ী অনেক জেনেটিক ভ্যারিয়েন্ট পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান। তবে গবেষকদের মতে, নারীদের মধ্যে জেনেটিক ঝুঁকির বোঝা বেশি, যা মূলত ‘ফিমেল স্পেসিফিক ভেরিয়েটগুলোর’ কারণে হতে পারে।

গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা এবং কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে শক্তিশালী জেনেটিক সংযোগ খুঁজে পেয়েছে। যেমন, বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং অন্যান্য বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে বিষণ্ণতার জেনেটিক সম্পর্ক নারীদের মধ্যে পুরুষদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ বিষণ্ণতা শুধু মানসিক নয়, নারীদের ক্ষেত্রে তা শরীরের ভেতরেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জিনগুলোর কার্যপ্রণালি আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরির পথ খুলে যেতে পারে, যা আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যকর হবে।

নোট: গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন কেবল ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। ফলে এই ফলাফল বিশ্বের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞানের সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে রাখুন।
Leave A Reply