গবেষণা বলছে, মানুষের জীবনে দুটি বয়সে বার্ধক্য হঠাৎ করে দ্রুত বাড়ে—৪৪ ও ৬০ বছর বয়সে। এই বয়সে শরীরের ভেতরে কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে? চলুন জেনে নিই বিস্তারিত।

বয়স কি ধীরে ধীরে বাড়ে?

আমরা সাধারণত ভাবি বয়স বাড়া একটি ধীর ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু একটি সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, মানুষের জীবনে দুটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন বয়স যেন হঠাৎ করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। এই দুটি বয়স হলো ৪০ বছর এবং ৬০ বছর।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী মাইকেল স্নাইডারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের আগস্টে Nuture Aging জার্নালে।

গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল

গবেষকরা ২৫ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ চালান।কয়েক বছর ধরে প্রতি কয়েক মাসে তারা রক্ত, লালা, মল, ত্বক এবং অন্যান্য জৈব নমুনা দিতেন। এভাবে সংগ্রহ করা ১৩৫,২৩৯টি জৈবিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তারা মানুষের শরীরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন পরিবর্তন ট্র্যাক করেন।

এই বিশাল ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায় যে,

গড়ে ৪৪ বছর বয়সে শরীরে লিপিড, ক্যাফিন,
অ্যালকোহল বিপাক এবং পেশী ও ত্বকের গঠনে বড় পরিবর্তন ঘটে।

আর ৬০ বছর বয়সে দেখা যায় কার্বোহাইড্রেট বিপাক, হৃদরোগের ঝুঁকি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কিডনির কার্যকারিতার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন।

গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়, যে অণুগুলোর উপর তারা গবেষণা করেছেন, তার ৮১-শতাংশ এর পরিবর্তন এই দুটি বয়স পর্যায়েই দৃশ্যমান ছিল।

নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য

৪৪ বছর বয়সে নারীরা মেনোপজের সময়ের মধ্যে থাকলেও, গবেষকরা জানিয়েছেন এই পরিবর্তন শুধুমাত্র নারীদের নয়, পুরুষের মধ্যেও ঠিক একই ধরণের পরিবর্তন দেখা গেছে। তাই বার্ধক্যজনিত এই “স্পাইক”যৌনভিত্তিক কোনো একক পরিবর্তন নয় বরং একটি সার্বজনীন মানবিক ধারা।

ভবিষ্যৎ গবেষণার গুরুত্ব

গবেষকরা অবশ্য স্বীকার করেছেন যে এই গবেষণার নমুনার আকার তুলনামূলকভাবে ছোট এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে, বিভিন্ন জাতি, পেশা ও জীবনযাপনভিত্তিক মানুষের উপর এ ধরনের গবেষণা হওয়া উচিত।

এমন গবেষণা ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত রোগ যেমন আলঝেইমার, হৃদরোগ ইত্যাদির চিকিৎসায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

উপসংহার

আমরা অনেকেই মনে করি যে বয়স বাড়া মানে হচ্ছে ধীরে ধীরে পরিবর্তন। আসলে তা না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বার্ধক্য সবসময় ধীর নয়—মানুষের জীবনে এমন দুটি সময় আছে, যখন হঠাৎ করেই বয়স যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। তাই বয়স ৪০ পেরোনোর পর থেকেই আমাদের আরও সচেতন জীবনযাপন, স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। কারণ আমাদের শরীর তখন এক নতুন পরিবর্তনের পথে হাঁটছে—যা আমরা আয়নায় না দেখলেও, ভিতরে ভিতরে চলছেই

লেখকঃ সানজিদা আক্তার তাজিন
তথ্যসূত্রঃ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Aging জার্নালে, ২০২৪ সালের আগস্টে। গবেষণার মূল গবেষক: মাইকেল স্নাইডার (স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)।

বিজ্ঞানের সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে রাখুন।
Leave A Reply