জলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন তিমি, ডলফিন, বা ওরকা কি কোনো দিন আবার ডাঙায় ফিরতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, খুবই কম সম্ভাবনা। কারণ, তারা যে পরিবর্তনগুলো জলেই বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে, তা আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। একবার তারা যে রূপান্তরগুলো করেছে, তা বেশ জটিল এবং ফিরে আসা কঠিন। বিবর্তনের ইতিহাসে এমন রূপান্তর খুব কম দেখা যায়। 

৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে, কিছু মাছ প্রথমবারের মতো পানির বাইরে উঠে ডাঙায় এসেছিলো। তারা পাখনা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে চার পায়ের প্রাণীতে পরিণত হয়, যা আজকের স্তন্যপায়ী, উভচর, এবং সরীসৃপদের সৃষ্টি করেছে। তবে, ২৫০ মিলিয়ন বছর আগে, কিছু প্রাণী আবার পানিতে ফিরে গিয়েছিল। তারা ধীরে ধীরে জলচর পরিবেশের জন্য নিজেকে পরিবর্তিত করে। 

এই পরিবর্তনকে ‘দ্বিগুণ বিবর্তন’ বলা হয়, কারণ একবার তারা ডাঙায় এসেছিল, কিন্তু আবার তারা পানিতে ফিরে যায়।

কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, কেন তারা আর ডাঙায় ফিরে যায়নি?

অনেকেই ভাবতে পারেন যে, বিবর্তন সব কিছুই সম্ভব করে সময়ের সাথে সবকিছু মানিয়ে নিতে পারে। তবে বাস্তবে, বিবর্তনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময়, এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায় না। 

এই ধারণা প্রথম নিয়ে আসেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী লুই ডলো। তিনি বলেন, একবার যদি কোনো বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায়, তবে তা ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আর এই ধারণাকে বলা হয় ‘ডলো’র আইন’। ২০২৩ সালে, সুইজারল্যান্ড এবং সুইডেনের গবেষকরা এই ধারণাটিকে পরীক্ষা করেছিলেন। তারা ৫,৬০০ প্রাণী প্রজাতির বিবর্তন বিশ্লেষণ করে দেখেন, একবার যদি কোনো প্রাণী পানিতে গিয়ে পুরোপুরি জলচর হয়ে যায়, তবে তা আর ডাঙায় ফিরে আসতে পারবে না। 

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একবার যখন কোনো প্রাণী পুরোপুরি জলচর হয়ে যায়, তখন তার শরীরের গঠন, খাদ্যাভ্যাস এবং শিকারের ধরন এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যা তাকে পানিতে বিশেষভাবে টিকিয়ে রাখে। কিন্তু সেই পরিবর্তন ডাঙায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। অতএব, যদিও তত্ত্বগতভাবে তিমি বা ডলফিনেরা আবার ডাঙায় ফিরে যেতে পারে, কিন্তু তা খুবই অল্প সম্ভাবনা রয়েছে।

লেখক : ইমাম হোসাইন আনজির

তথ্যসূত্র : IFL Science 

বিজ্ঞানের সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে রাখুন।
Leave A Reply