লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

পৃথিবীর ইতিহাসে কিছু দার্শনিক রচনা আছে যা সময়কে অতিক্রম করে মানুষের চিন্তার জগতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর রচিত “Allegory of the Cave” বা “গুহার রূপক” তেমনই এক রচনা যা প্রাচীন দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান ও শিক্ষা—তিনটিকেই এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি প্লেটোর বিখ্যাত রাজনৈতিক ও দার্শনিক গ্রন্থ The Republic-এর সপ্তম অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে। এই রচনার মাধ্যমে প্লেটো মানুষ, জ্ঞান, বাস্তবতা এবং শিক্ষা সম্পর্কে এমন এক দর্শন পেশ করেছেন, যার প্রাসঙ্গিকতা আজও অটুট।“Allegory of the Cave” একটি সংলাপরূপ রচনা, যেখানে প্লেটো তাঁর গুরু সক্রেটিস-এর কণ্ঠে এই রূপক উপস্থাপন করেছেন। সক্রেটিস গ্লকন নামের এক শ্রোতাকে কল্পনায় এমন একটি গুহার কথা ভাবতে…

Read More

আমরা জানি, আমাদের চারপাশের জগত কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে চলে। এই নিয়মগুলো এসেছে পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে। কিন্তু অনেক সময় এই নিয়মগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলে না, বা একটার সঙ্গে আরেকটা সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। আবার এমন কিছু নিয়ম রয়েছে, যেগুলো যেন হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়েছে—যার পেছনে কোনো সোজাসাপ্টা ব্যাখ্যা নেই। এ ধরনের সমস্যাগুলোর অন্যতম উদাহরণ হলো, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Special Relativity) আর কোয়ান্টাম বলবিদ্যার (Quantum Mechanics) মধ্যে পার্থক্য। আপেক্ষিকতা বনাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স আলবার্ট আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি আমাদের শেখায়, সময় আর স্থান একসঙ্গে গাঁথা একটি চার-মাত্রিক কাঠামো তৈরি করে, যাকে বলে স্পেস-টাইম (space-time)। এখানে তিনটি স্থানিক মাত্রা—উচ্চতা, প্রস্থ ও…

Read More

আমরা সবাই কমবেশি “ইউরেনিয়াম” নামটি শুনেছি। সাধারণত এটি শুনলেই মাথায় আসে পারমাণবিক বোমা, যুদ্ধ কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছবি। কিন্তু জানলে অবাক হবে, আমরা প্রতিদিনই অল্প অল্প ইউরেনিয়াম খাচ্ছি নিজের অজান্তেই! আজকে আমরা জানব ইউরেনিয়াম আসলে কী, এটা কীভাবে আমাদের খাবারে আসে, আমাদের শরীরে কী করে এবং ভুল করে যদি অনেক বেশি ইউরেনিয়াম খেয়ে ফেলি, তাহলে কী হতে পারে। ইউরেনিয়াম কী? ইউরেনিয়াম এক ধরনের ধাতু। এটি পৃথিবীর মাটিতে, পাথরে, পানিতে এমনকি কিছু খাবারেও প্রাকৃতিকভাবে থাকে। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৯২। মানে এটি মৌলিক পর্যায় সারণির (Periodic Table) ৯২ নম্বর উপাদান। ইউরেনিয়াম একটু তেজস্ক্রিয়, অর্থাৎ এটি থেকে ক্ষুদ্র পরিমাণে বিকিরণ বা রেডিয়েশন বের হয়।…

Read More

আমরা অনেকেই জীবনে অন্তত একবার অডিও রেকর্ডারে নিজের কণ্ঠস্বর শুনে অস্বস্তি বোধ করেছি। বিশেষ করে যখন কাউকে মেসেঞ্জারে ভয়েস মেসেজ দিয়ে সেটা শোনা হয়, “আসলেই এইটা কি আমার কন্ঠ?” — এমন প্রশ্ন অনেকের মুখেই উঠে আসে, আর কিছু মানুষ তো রীতিমতো বিরক্ত হয়ে যান। আমরা ভাবি, কণ্ঠটা যেন পাতলা, তীক্ষ্ণ, কেমন যেন ‘অন্যরকম’। অনেকে আবার সেই রেকর্ড করা ভয়েস এতটাই অপছন্দ করেন যে সেটা শুনতেই চান না। অথচ আশেপাশের মানুষরা যেভাবে আমাদের কণ্ঠস্বর শুনে থাকেন, সেই রেকর্ডিংটিই তো আসলে তাদের শোনা বাস্তব রূপ। এই বিস্ময়, বিরক্তি আর অস্বস্তির পেছনে আসলে বিজ্ঞানসম্মত কিছু ব্যাখ্যা আছে—যার মধ্যে জড়িয়ে আছে শারীরিক প্রক্রিয়া এবং…

Read More

আপনি কি বিশ্বাস করবেন যদি কেউ বলে, একা থাকা বা বিবাহবিচ্ছেদই বরং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে? ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের নেতৃত্বে করা নতুন একটি গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে যে, অবিবাহিত মানুষের ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। আপনি যদি এর আগেও ভিন্ন কিছু শুনে থাকেন, সেটাও ঠিক হতে পারে। কারণ, ২০১৯ সালে আমেরিকায় করা এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অবিবাহিত মানুষের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বিয়ে করা মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। আসলে, বিয়ে করা মানুষ সাধারণভাবে ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হন বলে বহু গবেষণাতেই দেখা গেছে। তারা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিতে কম থাকেন এবং তুলনামূলকভাবে বেশি দিন বাঁচেন। তাহলে ফ্লোরিডার নতুন গবেষণায়…

Read More

নিয়ানডারথালরা (Homo neanderthalensis) আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছাকাছি এক মানব প্রজাতি ছিল। অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা জানতে চেয়েছিলেন, এই প্রাচীন মানবরা কেমন জীবন যাপন করত এবং তাদের গড় আয়ু কত ছিল? এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও গভীর, কারণ নিয়ানডারথালদের ডিএনএ এখনও আমাদের মধ্যে কিছুটা জীবিত রয়েছে। তবে, কীভাবে জানা যাবে যে তারা কত বছর বাঁচত, কারণ তখন  ৪০,০০০ বছর আগে কোনো জন্ম-মৃত্যু সনদ ছিল না?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা CSIRO-র একদল গবেষক ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। গবেষক ড. বেন মেইন বলেছিলেন, “যদি আমরা কোনো প্রজাতির জেনোম সিকোয়েন্স জানি, তাহলে আমরা তাদের আয়ু অনুমান করতে পারি, যা…

Read More

ইতিহাসের পাতা উল্টালেই দেখা যায়—শান্তি আর সমৃদ্ধির সময় খুব বেশি আসেনি। কোনো সময় হয়তো সভ্যতা একটু এগিয়েছে, মানুষ ভালো থেকেছে, কিন্তু খুব দ্রুতই সেই সময় শেষ হয়ে গেছে—কখনো হঠাৎ যুদ্ধ, কখনো দুর্ভিক্ষ, আবার কখনো রোগে। তবে এই দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্যে একটা বছর আছে, যেটিকে অনেকেই মানব জাতির সবচেয়ে দুঃসহ সময়ের শুরু বলে মনে করেন। সেই বছরটি হলো ৫৩৬ খ্রিস্টাব্দ।এই সময়টা ছিল ভীষণ অন্ধকার, শুধু মানসিক বা সামাজিক অর্থে নয়, আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। কারণ, পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে এক ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার ছাই ও ধুলো ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো আকাশজুড়ে। সূর্যের আলোকে বাধা দিয়েছিল সেই ধুলোর আবরণ।…

Read More

আমরা প্রায়ই একটি ভুল ধারণা শুনে থাকি যে, শুক্রাণু বাতাসের সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। বাস্তবতা কিন্তু একেবারেই ভিন্ন। এই ক্ষুদ্র কোষগুলো মানুষের প্রজনন ব্যবস্থায় এমন এক জটিল ও অবিশ্বাস্য যাত্রায় নামে, যা তাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতাকে ঘিরে তৈরি করেছে নানা বিস্ময়। শুক্রাণুর জীবনের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে সে কোথায় আছে, পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং তার শক্তি সরবরাহের উপরে। আর এইসব কিছুর সমন্বয়ে তাদের বেঁচে থাকার সময় হতে পারে কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে কয়েক দশক পর্যন্ত!শুক্রাণুর সৃষ্টি হয় পুরুষের অণ্ডকোষে। সেখান থেকে তারা একটি সরু, পাকানো নালির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে—এই নালির নাম ইপিডিডাইমিস। এই যাত্রায়…

Read More

ডেনিসোভানরা ছিল এক প্রাচীন মানব প্রজাতি যারা এশিয়াতে বসবাস করত এবং আনুমানিক ৩০,০০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরা আমাদের আধুনিক মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিল কিন্তু এখন বিলুপ্ত আত্মীয়দের একজন যেমনটা নিঅ্যান্ডারথালরাও ছিল। তবে ডেনিসোভানদের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জেনেছি খুব বেশিদিন হয়নি। ২০১০ সালেই বিজ্ঞানীরা প্রথম জানান যে ডেনিসোভান বলে আলাদা একটা মানবগোষ্ঠী ছিল। তাই তাদের সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে। তবে যেটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর। জীবাশ্ম আর জিনগত প্রমাণ বলছে ডেনিসোভানরা শুধু একটা নির্দিষ্ট এলাকাতেই বাস করত না। বরং তারা ছড়িয়ে ছিল অনেক ধরনের পরিবেশ আর অঞ্চলে—শীতল সাইবেরিয়া আর তিব্বতের পাহাড় থেকে শুরু…

Read More

আপনি হয়তো ভাবছেন, ৫ সেকেন্ড শ্বাস বন্ধ রাখা তেমন কোনো বড় ব্যাপার না। ভাবুন তো, এটাই তো ৫ সেকেন্ড মাত্র! কিন্তু বাস্তবে যদি পুরো পৃথিবী মাত্র ৫ সেকেন্ডের জন্য অক্সিজেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তাহলে এর ফলাফল হবে ভয়ঙ্কর। আসুন সে সম্পর্কে কিছু ধারণা নেই। দিনের আকাশ কালো হয়ে যাবে— সূর্যের আলো পৃথিবীর উপর পড়ে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের কণার উপর প্রতিফলনের মাধ্যমে। অক্সিজেন না থাকলে আলো প্রতিফলিত হওয়ার কণা কমে যাবে, ফলে আকাশ প্রায় পুরোপুরি কালো দেখাবে। আলো পৃথিবীতে পৌঁছাবে ঠিকই, কিন্তু মনে হবে যেন এক বিন্দু থেকে আলো আসছে আর সূর্যের আলো চারদিকে ছড়াবে না। পৃথিবীর ভূত্বক ভেঙে…

Read More