লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

মানুষ কীভাবে বিবর্তিত হবে—এই প্রশ্নটি কল্পবিজ্ঞান, জেনেটিকস এবং প্রযুক্তির মোহময় জগতের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে বহুদিন ধরেই। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ভবিষ্যতের কল্পনার জাল ছাড়িয়ে আমাদের চোখ ফেরাতে হয় অতীতের দিকে। কারণ ভবিষ্যতের ছাপ বহু আগে থেকেই ছড়িয়ে আছে আমাদের জিনে, আমাদের অভিযোজন প্রক্রিয়ায়, আমাদের দৈনন্দিন বদলে যাওয়া জীবনের অভ্যাসে। আজ থেকে প্রায় দশ লক্ষ বছর আগে, পৃথিবীতে আমাদের পরিচিত প্রজাতি হোমো স্যাপিয়েন্স ছিল না। তার বদলে তখন রাজত্ব করছিল হোমো হেইডেলবার্গেন্সিস নামের এক প্রজাতি, যাদের গঠন হোমো ইরেকটাস ও আধুনিক মানুষের মাঝামাঝি। তাদের দেহ ছিল কিছুটা অপরিণত, চেহারায় আদিমতার ছাপ, তবুও তাতে ভবিষ্যতের মানুষের প্রাথমিক ছায়া দেখতে পাওয়া…

Read More

আমরা যাদের ইউরোপীয় বলে চিনি, আজ তাদের চেহারায় যে হালকা ত্বক, নীল বা সবুজ চোখ আর স্বর্ণাভ চুলের ছায়া দেখি তা যেন প্রকৃতির সূক্ষ্ম এক তুলির টানে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম। কিন্তু এই সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের রূপ তো চিরন্তন ছিল না। হাজার বছরের বিবর্তনের পথে, এক অনন্ত অদৃশ্য প্রবাহে এই পরিবর্তন এসেছে ধীরে ধীরে, কখনও আলোর তাগিদে, কখনও সামাজিক পছন্দের ছাপে, আবার কখনও নিছক দৈবচয়নে।কল্পনা করুন—আজ থেকে মাত্র তিন হাজার বছর আগের ইউরোপ। লৌহ যুগে তখন ইউরোপের প্রান্তরজুড়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষদের বেশিরভাগই ছিলেন গাঢ় কালো ত্বকের অধিকারী, কালো ছিল চুল ও চোখ। হালকা কালো গায়ের ইউরোপীয়দের এই যে চেনা রূপ—এটি প্রকৃতপক্ষে…

Read More

মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিরকালই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে—আমরা কি একা? আমাদের এই বিশ্বটাই কি একমাত্র বাস্তবতা? নাকি এর বাইরেও রয়েছে অসংখ্য সম্ভাব্য বিশ্ব, যাদের অস্তিত্ব আমাদের চোখের আড়ালে?এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নেয় ‘মাল্টিভার্স’ তত্ত্ব। মাল্টিভার্স মানে একাধিক বা অসংখ্য ‘বিশ্ব’। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ভাবছেন, আমাদের পরিচিত মহাবিশ্বের বাইরেও থাকতে পারে অন্য অনেক মহাবিশ্ব—যাদের প্রতিটির শারীরিক নিয়ম, বাস্তবতা এমনকি সময়ের গতি পর্যন্ত আমাদের চেনা নিয়ম থেকে আলাদা হতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের রহস্যময় দুনিয়ায় এক একক ফোটন কখনো কখনো একাধিক স্থানে একই সময়ে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র আলোচনা বেড়েছে। এই নতুন গবেষণার ফলাফলগুলি শুধু পদার্থবিজ্ঞানের সীমাকে ছাড়িয়ে গিয়ে…

Read More

আপনি কি কখনো এমন ভিডিও দেখেছেন যেখানে কেউ একটি ধাতব গম্বুজের ওপর বা গোলকের মত দেখতে তার উপর হাত রাখে, আর তার মাথার চুলগুলো এক এক করে দাঁড়িয়ে যায় আকাশের দিকে? দেখে মনে হয় যেন কোনও যাদুকরী ঘটনা ঘটছে। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং এই চুল খাড়া হয়ে যাওয়ার রহস্যের পিছনে দায়ী Van de Graaff Generator। কী এই ভ্যান ডে গ্রাফ জেনারেটর? Van de Graaff Generator একটি ইলেকট্রোস্ট্যাটিক যন্ত্র, যা একটি ধাতব গম্বুজে বিপুল পরিমাণে চার্জ সঞ্চয় করতে সক্ষম। ১৯৩০-এর দশকে মার্কিন বিজ্ঞানী রবার্ট জেমস ভ্যান ডে গ্রাফ এটি উদ্ভাবন করেন উচ্চভোল্টেজের প্রয়োজনীয়তা মেটানোর জন্য। যন্ত্রটির মধ্যে…

Read More

মহাকাশের বিশালতা আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বড়। এতটাই বড় যে, মাঝে মাঝে আমাদের নিজেদেরকেই ক্ষুদ্র মনে হয়। আর এই বিশাল মহাশূন্যে মানুষ প্রথম যে যন্ত্রটি পাঠিয়েছিল দূর আকাশে, সেটি এখন এক নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে। ২০২৬ সালের নভেম্বরে, প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে চলতে থাকা ভয়েজার ১ নামের একটি মহাকাশযান প্রথমবারের মতো পৃথিবী থেকে এক লাইট-ডে দূরে পৌঁছাবে। লাইট-ডে বলতে বোঝায়, আলো এক দিনে যতদূর যেতে পারে, সেই দূরত্ব। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার গতিতে চলে, ফলে এক দিনে এটি পাড়ি দেয় প্রায় ২৫.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার। আর ভয়েজার ১ সেই দূরত্বই অতিক্রম করতে যাচ্ছে। ভয়েজার ১-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৭…

Read More

ক্রিস্টোফার নোলান সিনেমা জগতের সবেচেয় আলোচিত নামগুলোর মধ্যে একটি। নোলানের নাম শুনলে অনেকের চোখেই প্রথম ভেসে ওঠে ‘ইন্টারস্টেলার’ কিংবা ‘ইনসেপশন’-মুভির দৃশ্য। অন্যরকম চিন্তা, জটিল গল্প আর বাস্তবসম্মত উপস্থাপনায় তিনি তৈরি করেছেন এক নিজস্ব ঘরানা। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া তার সায়েন্স ফিকশন সিনেমা Tenet এই ধারারই এক বিস্ময়কর সংযোজন। তবে ইন্টারস্টেলার বা ইনসেপশন যেখানে দর্শকদের আবেগে, সম্পর্কের টানে অথবা স্বপ্ন-বাস্তবের সীমারেখায় নাড়া দিয়েছিল, Tenet যেন তার চেয়েও বেশি ধাক্কা দেয় মানুষের ভাবনার জগতে। এই সিনেমার কাহিনি সময়কে ঘিরে—কিন্তু এমনভাবে নয় যেভাবে আমরা সাধারণ সময় ভেবে থাকি। এখানে সময় শুধু সামনে চলে না বরং পিছনেও চলে। গুলি বন্দুক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বদলে…

Read More

বিগত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন বিস্ময়কর এক ঝড় তুলেছে। এই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ChatGPT—OpenAI-এর তৈরি এক শক্তিশালী জেনারেটিভ ভাষা মডেল। এটি যেমন মানুষের ভাষা অনুকরণে দক্ষ, তেমনি নানান ধরনের লেখালেখি, সংলাপ, বিশ্লেষণ কিংবা কোডিংয়ের কাজেও অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছে ইতিমধ্যে। তবে, এআই-এর এই অগ্রগতির উল্টো দিকটাও এখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে। ChatGPT-এর উত্থানের পর একে একে অনেক কোম্পানি তাদের নিজস্ব জেনারেটিভ এআই চ্যাটবট বা মডেল বাজারে নিয়ে এসেছে। এই মডেলগুলো ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণে কনটেন্ট তৈরি করছে। কেউ লিখছে সংবাদ, কেউ গল্প, কেউ ব্লগ বা কোড। কিন্তু এই কনটেন্টগুলো যেহেতু এআইয়ের তৈরি, তাই এগুলো সবসময় নির্ভুল বা অর্থবহ…

Read More

মানুষ বা আমাদের পূর্বপুরুষরা কখন প্রথম গান গাইতে শুরু করেছিল, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। গান তো ফসিল হয়ে থাকে না, আবার খুব একটা প্রমাণও রেখে যায় না—বিশেষ করে যতদিন না লিখিত সঙ্গীত বা অডিও রেকর্ডিং আবিষ্কৃত হয়েছিল। তাই আমাদের হাতে কেবল একটা আনুমানিক সময় বলার সুযোগ আছে, যে সময়ে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল। ঠিক কেন আমাদের পূর্বপুরুষরা গান গাইতে শুরু করেছিল সেটাও বলা কঠিন, তবে কিছু ভালো থিওরি আছে।প্রথম যে বাদ্যযন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা হলো প্রায় ৪০,০০০ বছর আগের হাড়ের বাঁশি, আর এই বাঁশি যেই গুহা থেকে পাওয়া গেছে, সেখানে নাচছে এমন মানুষের ছবিও আঁকা আছে। কিন্তু তার আগেই…

Read More

ক্রিস্টোফার নোলান সিনেমা জগতে সবেচেয় আলোচিত একটা নাম । তার সিনেমা তৈরির ধরন অন্যান্য পরিচালকদের থেকে আলাদা করেছে। যেমন আইম্যাক্স ক্যামেরার ব্যবহার, নন-লিনিয়ার স্টোরি টেলিং এবং CGI এর পরিবর্তে বাস্তবসম্মত স্পেশাল ইফেক্টের উপর নির্ভরতা । ২০১৪ সালের অক্টোবরে মুক্তি পায় তার মহাকাশভিত্তিক সায়েন্স-ফিকশন মুভি Interstellar. মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে । অভিনেতাদের অনবদ্য অভিনিয়ের সাথে Hans Zimmer এর মন্ত্রমুগ্ধকর ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক আর অসাধারন স্টোরি টেলিং সিনেমাটাকে নিয়ে গিয়েছিল অন্যান্য উচ্চতায়। শুধু Sci-fi মুভি লাভার না সাধারণ দর্শকের কাছেও  জনপ্রিয় হয়ে উঠে সিনেমাটি। অনেক দর্শক আগ্রহী হয়ে উঠে সিনেমায় দেখানো সাইন্টিফিক কনসেপ্ট গুলো নিয়ে। অনেকেরই প্রশ্ন এসেছে মনে…

Read More

মানুষের মস্তিষ্ক এক বিস্ময়কর জগত। এই জগতের অন্দরমহলে প্রতিনিয়তই জন্ম নেয় হাজারো ভাবনা, কল্পনা আর অনুভূতি—যার অনেক কিছুই আমাদের ইচ্ছা সীমার বাইরে। দিবাস্বপ্ন দেখা এই কল্পনার জগতেরই এক সাধারণ প্রকাশ, যা আমাদের মানসিক বিশ্রাম, সৃজনশীলতা কিংবা বাস্তবতা থেকে সাময়িক অবসর নিতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি এই দিবাস্বপ্ন অস্বাভাবিক মাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী হয়? যদি কল্পনার সেই রঙিন জগতই এক সময় বাস্তব জীবনকে প্রতিস্থাপন করতে শুরু করে? যদি কোনো ব্যক্তি দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, একটি কল্পিত গল্পের ভিতরে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন—এতটাই গভীরে যে পরিবার, সমাজ বা কাজের প্রতি দায়িত্বজ্ঞান ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়? এই অবস্থাকেই বলা হয় মালঅ্যাডাপ্টিভ ডেড্রিমিং (Maladaptive…

Read More