লেখক: ইমাম হোসাইন আনজির

বিজ্ঞানী ম্যারি কুরির নাম শুনলেই প্রথমে মনে আসে তেজস্ক্রিয়তা আর সাহসিক গবেষণার কথা। তিনি ছিলেন ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি যিনি দু’টি ভিন্ন বিষয়ে—পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে—নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু তাঁর এই বৈজ্ঞানিক সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল অসংখ্য ঝুঁকি, ক্লান্তি আর এমন কিছু ভয়ানক মুহূর্ত, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনকেই গ্রাস করেছিল।১৮৯৮ সালে ম্যারি কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি একসঙ্গে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল—পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম—আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে দেয়। কিন্তু সেই সময় তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাই গবেষণার সময় ম্যারি কুরি ও তাঁর স্বামী কোনো ধরণের রেডিয়েশন সুরক্ষা ছাড়াই…

Read More

গাড়িতে চলতে চলতে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, গা গুলানো কিংবা ঘামানো—এমন অভিজ্ঞতা তো আপনার কখনও না কখনও নিশ্চয়ই হয়েছে, তাই না? গাড়িতে উঠলেই বমি ভাব, কিংবা নৌকা বা বিমানে উঠলে অস্বস্তিকর এক অনুভূতি হয়—এই সমস্যার নাম মোশন সিকনেস বা গতিজনিত অসুস্থতা। এটি একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যা অনেকের জীবনে ভ্রমণের আনন্দকে মাটি করে দেয়।মজার বিষয় হলো, আপনি নিজে চুপচাপ বসে থাকলেও যদি আপনার আশপাশের পরিবেশ নড়াচড়া করে, তাহলেও এই সমস্যা হতে পারে। চোখ, কান ও শরীর থেকে মস্তিষ্কে যেসব সংকেত যায়, তা যদি একে অপরের সঙ্গে না মেলে, তখনই এই অসুস্থতার সূত্রপাত হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই—এ থেকে মুক্তির উপায়ও…

Read More

ইতালির মাঝখানে অবস্থািত এক বিশাল পাহাড়ের নিচে, বিজ্ঞানীরা এক ধরনের রহস্যময় কণিকার খোঁজে গবেষণা চালাচ্ছেন। যার নাম “ডার্ক ম্যাটার”। এই ডার্ক ম্যাটার আমাদের চোখে দেখা যায় না, আলো শোষণ বা প্রতিফলনও করে না—তবু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, মহাবিশ্বে থাকা অধিকাংশ ভরই এই ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি। কিন্তু যেহেতু এটা কোনো যন্ত্রেই সরাসরি ধরা পড়ে না, তাই একে খুঁজে পাওয়া বিশ্বের অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ।এই কণিকাকে খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীরা একটা বিশেষ ফাঁদ তৈরি করেছেন। তারা একটি বিশাল ধাতব ট্যাংকের মধ্যে ৩.৫ টন তরল জেনন গ্যাস ভরে রেখেছেন। এই জেনন গ্যাস এক ধরনের ‘নোবেল গ্যাস’, অর্থাৎ এটি রাসায়নিকভাবে খুবই স্থির এবং পৃথিবীর…

Read More

গ্রীষ্মের রাতে গ্রামের নির্জন উঠোনে শুয়ে শুয়ে যারা রাতের আকাশের তারা গুনেছেন, তাদের অনেকেরই মনে পড়ে সেই ঝিকিমিকি আলো জ্বলা ছোট্ট পোকাগুলোর কথা। গাছপালার আড়ালে, ঝোপঝাড়ে কিংবা মাঠের মাঝে ওরা হঠাৎ আলো ছড়িয়ে দিয়ে আবার মিলিয়ে যেত। মনে হতো, কেউ বুঝি মাটির ওপর নেমে আসা ক্ষুদ্র তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন সেই আলো আর আগের মতো দেখা যায় না। বড়রা এখন আফসোস নিয়ে বলে থাকেন—“আগে কত জোনাকি দেখা যেত, এখন তো চোখেই পড়ে না।” এটা কি কেবল একটা শৈশব-নস্টালজিয়া, না কি সত্যিই কিছু বদলে যাচ্ছে?বিজ্ঞান বলে, এই অনুভূতি কল্পনা নয়। সত্যিই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জোনাকি পোকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে…

Read More

মানুষের ভয় পাওয়ার ক্ষমতা তার সুরক্ষার জন্য স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় একটি প্রতিক্রিয়া। কিন্তু কখনো কখনো এই ভয় অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছায় এবং সাধারণ জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে। এই ধরনের ভয় যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতি বা জায়গার প্রতি হয়ে ওঠে, তখন তাকে বলা হয় ফোবিয়া। তেমনি একটি পরিচিত ফোবিয়া হলো ক্লস্ট্রোফোবিয়া। এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি খুব বেশি ভয় পায় ছোট, বন্ধ বা চাপা জায়গার মধ্যে থাকার কথা ভেবেই। কখনো কখনো ভয় এতটাই তীব্র হয় যে শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা আতঙ্কের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের জীবদ্দশায় বা কোনও এক বছরে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার…

Read More

আজকের আরব উপদ্বীপকে আমরা চিনে থাকি জ্বলন্ত মরুভূমি হিসেবে। কিন্তু গত ৮০ লাখ বছরে এই অঞ্চল অনেকবারই সবুজে ঢাকা ছিল। এমন সময়গুলোতে আফ্রিকা থেকে নানা প্রাণী হেঁটে আরবে চলে আসতে পারত—সম্ভবত মানুষের পূর্বপুরুষরাও, যাদেরকে শুধু আফ্রিকার বাসিন্দা হিসেবেই ধরা হত এতদিন। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির গবেষক মাইকেল পেট্রাগ্লিয়া বলেন “সময়ের সঙ্গে মরুভূমিগুলো কখনো শুকিয়ে গেছে, আবার কখনো সবুজ হয়ে উঠেছে”। “যখন আফ্রিকা থেকে জলহস্তীরা আসতে পারে, তখন মানুষজাতীয় প্রাণীরা কেন আসবে না?” আগের গবেষণাগুলোতে দেখা গিয়েছে, গত ১১ লাখ বছরে আরবের মধ্যে বৃষ্টির সময়কাল ছিল বেশ কয়েকটি। তখন এই অঞ্চল ছিল নদী-নালায় ভরা, চারপাশে ছিল ঘাসে ঢাকা তৃণভূমি আর অরণ্য।…

Read More

সময়টা ২০১৮ সাল, সারা পৃথিবী হঠাৎ বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল মাউন্ট ভেসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ৭৯ খ্রিস্টাব্দের অগ্ন্যুৎপাতে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির দেহাবশেষ দেখে। ভয়ংকর সেই অগ্ন্যুৎপাতে যারা মারা গিয়েছিলেন, তাদের শেষ মুহূর্ত ছিল কল্পনাতীতভাবে বিভীষিকাময়। এত ভয়াবহ মৃত্যুর মধ্যেও কোনো একজনকে আলাদাভাবে ‘সবচেয়ে দুর্ভাগা’ হিসেবে চিহ্নিত করাটা অবাক করার মতো। দূর্ভাগা সেই মানুষটিকে প্রথমে দেখে মনে হয়েছিল, অগ্ন্যুৎপাত থেকে পালাতে গিয়ে বিশাল এক পাথরের আঘাতে মাথা খুইয়েছিল সে। প্রথমে যেটা দেখা গিয়েছিল, তা হলো, প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষের দেহাবশেষ। তখন গবেষকরা ভেবেছিলেন, আগ্নেয় ছাই আর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঁচতে লোকটা একটা সরু গলিতে লুকাতে চেয়েছিল, আর সেখানেই বিশাল এক পাথরের আঘাতে…

Read More

বিড়াল সাধারণত স্বভাবে সংবেদনশীল, সজাগ ও চঞ্চল প্রাণী। তারা প্রতিটি শব্দ, আলো, গন্ধ বা নড়াচড়ার প্রতি অত্যন্ত সতর্ক থাকে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউবে অদ্ভুত ও মজার দৃশ্য অনেকবার দেখা গেছে যে বিড়াল তার খাবার খাচ্ছে বা মেঝেতে নিশ্চিন্তে বসে আছে, হঠাৎ তার পেছনে একটি শসা রাখা হলো, আর সঙ্গে সঙ্গে সে লাফিয়ে উঠে আতঙ্কে ছুটে পালিয়ে যাচ্ছে। এই আচরণ যেমন হাস্যকর, তেমনি অনেকের মনে প্রশ্ন জাগায়—একটি নিরীহ সবজি দেখে বিড়াল এত ভয় পায় কেন? এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে খুঁজে দেখা যাক।আকৃতি ও রঙের বিভ্রম: শসা নাকি সাপ?গবেষক ও পশু-আচরণবিদদের মতে, বিড়ালের এই…

Read More

৩৯৯ খ্রিস্টপূর্ব সালে সক্রেটিসের বিচারটা ছিল এমন এক সময়ের ঘটনা, যখন এথেন্স শহর ভীষণভাবে হতাশা, রাগ আর বিভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, গোটা সমাজ যেন একসাথে ক্ষোভ আর দুশ্চিন্তার বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। শহরটি তখন একটা বড় যুদ্ধে হেরে গিয়েছিলো—পেলোপনেশীয় যুদ্ধে স্পার্টার কাছে পরাজিত হয়ে এথেন্স তার ক্ষমতা, গৌরব আর সাম্রাজ্য সব হারিয়ে ফেলে। তাদের গণতন্ত্রও কয়েকবার ভেঙে পড়েছিল, ফলে মানুষজন ছিল রীতিমতো ভীত ও অস্থির। এই ভয় আর অনিশ্চয়তার সময়ে সক্রেটিসের মতো একজন মানুষ—যিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে লোকজনকে প্রশ্ন করতেন, তাঁদের বিশ্বাস আর যুক্তিগুলো চ্যালেঞ্জ করতেন ফলে তাঁকে অনেকেই অস্বস্তিকর আর বিপজ্জনক মনে করতে শুরু করল। তাঁর চিন্তার ধারা অনেকের কাছে…

Read More

আমরা জানি, মানুষ, পশু-পাখি অর্থাৎ প্রাণীরা ব্যথা অনুভব করে। কারণ তাদের দেহে ব্যথা বোঝার জন্য বিশেষ রিসেপ্টর, স্নায়ু, আর মস্তিষ্ক আছে—যেগুলোর মাধ্যমে শরীরে আঘাত লাগলে তার সংকেত পায় এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। কিন্তু গাছের দেহে এসব কিছুই নেই। গাছের নেই কোনো ব্যথা রিসেপ্টর, নেই স্নায়ু বা মস্তিষ্ক যা আঘাত লাগলে বোঝতে পারবে। তাই আপনি যদি একটি গাছ তুলে ফেলেন বা একটি গাছের ডাল কেটে ফেলেন, তাহলে সেটা গাছের জন্য কোনো নির্যাতন নয়। গাছকে কষে আঘাত করলে গাছ কষ্ট পাচ্ছে—এমন চিন্তা করার কোনো দরকার নেই। কারণ, গাছ ব্যথা অনুভব করে না। তবে, এতেও একটা চমক আছে। গাছ ব্যথা না পেলেও তারা চারপাশের…

Read More