চেঙ্গিস খান ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত চরিত্র। দুনিয়ার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল জয় করা, অজস্র মানুষের মৃত্যু আর রাজ্য ধ্বংসের জন্য তাকে চিরস্মরণীয় মনে করা হয় আজও। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে চেঙ্গিস খানের আক্রমণ পৃথিবীর জলবায়ুর উপরও প্রভাব ফেলেছিল!

The Holocene জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৩শ এবং ১৪শ শতকে মঙ্গোল বাহিনী যখন ইউরেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা আক্রমণ করে, তখন তারা প্রায় ৩০% জনসংখ্যাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এই বিশাল মানববিনাশের ফলে বহু কৃষিজমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে, আর সেইসব জমিতে নতুন করে বন জন্মাতে শুরু করে। গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন, এই বনভূমি বাতাস থেকে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) শোষণ করে নিয়েছিল। অর্থাৎ, চেঙ্গিস খানের বিজয়ের ফলে পৃথিবীর বাতাসের কার্বন কমে গিয়ে সাময়িকভাবে জলবায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছিল।

যদিও ইতিহাসের অন্যান্য বড় বিপর্যয় যেমন ব্ল্যাক ডেথ মহামারী বা আমেরিকান মহাদেশ দখল এরকমই সাময়িক বনভূমির পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু মঙ্গোল আক্রমণ ছিল সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকারী। তবে গবেষকরা এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই ধরনের ঘটনা একা পৃথিবীর বিশাল পরিমাণ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ বনভূমি গড়ে উঠতে অনেক সময় নেয় এবং অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে তখনও কার্বন নির্গমন চলে।

তবুও, এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের কার্যকলাপ হোক সেটা সৃষ্টিশীল বা ধ্বংসাত্মক পৃথিবীর পরিবেশের উপর বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। এক অর্থে, চেঙ্গিস খান সেই সময়ের এক ‘আকস্মিক জলবায়ু যোদ্ধা’ হয়ে উঠেছিলেন, যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

এই ঘটনাটি ইতিহাসের আরেকটি বিস্ময়কর দিকের প্রতিনিধিত্ব করে যেখানে মানুষের তৈরি বিপর্যয় অজান্তেই প্রকৃতির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। চেঙ্গিস খানের এই কালো অধ্যায় আমাদের ভাবতে শেখায়, মানুষের অস্তিত্ব শুধু সমাজ-সভ্যতা বা রাজনীতির উপর নয়, বরং প্রকৃতি আর পৃথিবীর পরিবেশের উপরও কতটা গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

তথ্যসুত্রঃ IFL Science

বিজ্ঞানের সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে রাখুন।
Leave A Reply