একটি কন্টেইনার থেকে লিক হওয়া রাসায়নিক পদার্থ, একটি ট্রেনের বগিতে আগুনসহ যেসব কারণে তরুণ বয়সে থমাস আলভা এডিসনকে বিভিন্ন চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে তার কারণে তালিকা এত দীর্ঘ ছিল, যে সেটা একসময় তার নামের পাশে থাকা পেটেন্টের তালিকার মতোই দীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়।

যদিও এই তরুণ উদ্ভাবক এমন সব বৈপ্লবিক ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, যা তার চাকরি দেওয়া এবং পরে তাকে ছেঁটে ফেলা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বদলে দিতে পারত, তবুও নিউ ইয়র্ক টাইমস ১৯৩১ সালে তার মৃত্যুসংবাদে লিখেছিল যে, একসময় এডিসন ছিলেন এমন এক টেলিগ্রাফ অপারেটর যে একটানা কোনো চাকরি রাখতে পারতেন না—অর্থাৎ চাকরিতে বেশিদিন টিকতেন না।

কিন্তু পরে দেখা যায়, এডিসনকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল তার অসাধারণ পরিশ্রমের ক্ষমতা এবং তার বিখ্যাত উক্তি, জিনিয়াস হলো “এক ভাগ অনুপ্রেরণা আর নিরানব্বই ভাগ ঘাম।” তিনি এমন সব উদ্ভাবন নিয়ে এসেছিলেন যা আধুনিক পৃথিবীর চেহারা বদলে দিয়েছিলো, আর অন্য উদ্ভাবকদের কিছু উদ্ভাবনকেও তিনি আরও নিখুঁত করে তোলেন। যেমন, তার তৈরি উন্নতমানের লাইটবাল্বের কারণেই শেষ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক আলো মানুষের ঘরে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

এইভাবেই “মেনলো পার্কের জাদুকর” নামে খ্যাত এডিসন এত বড় খ্যাতি অর্জন করেন, আর আজও তিনি ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত।

১৪ বছর বয়সের দিকে তোলা ছবিতে, তরুণ টমাস আলভা এডিসন

একজন কৌতূহলী তরুণ

১৮৪৭ সালে ওহাইওতে জন্ম নেওয়া এডিসন বড় হন মিশিগানের পোর্ট হিউরন শহরে, যেখানে তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য স্কুলে পড়াশোনা করেন। তার মা, এক সময়ের স্কুলশিক্ষিকা, যখন এডিসনের বয়স সাত, তখন থেকে বাড়িতেই তাকে পড়াতে শুরু করেন, আর তিনি তখন থেকেই প্রচুর বই পড়তেন। তার শৈশবের দুঃসাহসিক অভিযানগুলোর মধ্যে ছিল বাবামায়ের বেসমেন্টে নানা ধরনের কেমিস্ট্রি এক্সপেরিমেন্ট, যা তার জীবনীকারের ভাষায় “প্রায় বিস্ফোরণ আর প্রায় দুর্ঘটনা” হিসেবে পরিচিত।

এডিসনের কৌতূহল আর ব্যবসায়িক মনোভাব তাকে মাত্র ১২ বছর বয়সে রেলগাড়িতে ‘নিউজ বুচার’ হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। এই কাজের মাধ্যমে তিনি ট্রেনের যাত্রীদের কাছে খাবার, খবরের কাগজ, আর অন্যান্য জিনিস বিক্রি করতেন। কিন্তু কেবল বিক্রি করেই সন্তুষ্ট হননি তিনি, নিজেই খবর ছাপানোর কাজ শুরু করেন এবং চালু করেন গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক হেরাল্ড—প্রথম সংবাদপত্র যা একটি চলন্ত ট্রেনে ছাপানো হয়েছিল। ট্রেনের মধ্যেই তিনি নানা ধরনের কেমিস্ট্রি এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যেতেন।

১৮৮০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি টমাস এডিসনের তৈরি একটি আলোক বাল্বের প্রাথমিক স্কেচ। এর আগের বছর এডিসন তার মেনলো পার্ক গবেষণাগারে শত শত মানুষের সামনে তার দীর্ঘস্থায়ী বাল্বটি প্রদর্শন করেছিলেন।
ছবি : Getty Image

মাত্র ১৫ বছর বয়সে, নিজের মাথায় নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট আর উদ্ভাবনের পরিকল্পনা করতে করতে তিনি একের পর এক চাকরি হারিয়ে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের এক যাযাবর টেলিগ্রাফার হয়ে যান, তারপর নিউ ইয়র্কে গিয়ে নিজের ছোট্ট ওয়ার্কশপ খোলেন। এই টেলিগ্রাফই তার প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি পেটেন্ট করা উদ্ভাবনের মূল অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। ১৮৭৪ সালে, যখন এডিসনের বয়স ২৭, তখন তিনি কোয়াড্রিপ্লেক্স টেলিগ্রাফ উদ্ভাবন করেন। এডিসনের উদ্ভাবনটি টেলিগ্রাফ ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এতে নতুন নতুন লাইন বসানোর খরচ আর ঝামেলা না করেই একসাথে চারটি বার্তা পাঠানো যেত, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং অর্থ সাশ্রয়ী ছিল।

মেনলো পার্কের জাদুকর হওয়া

ওই সময়ের মধ্যে এডিসন তার এক কর্মচারী, মেরি স্টিলওয়েলকে বিয়ে করেন এবং ১৮৭৬ সালে তাঁরা একসাথে নিউ জার্সির মেনলো পার্কে চলে আসেন। এই গ্রামীণ এলাকা ছিল একেবারে উপযুক্ত, যেখানে নতুন এক ধরনের ল্যাবরেটরি তৈরি করে উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী মনোভাবের এডিসন আর তাঁর “মাকার” দল (এডিসনের দেওয়া এই ডাকনাম) একসাথে বসে যা ইচ্ছা তাই উদ্ভাবন করতে পারতেন।

এডিসন তখনও টেলিগ্রাফ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, আর একসময় যখন তিনি এমন এক যন্ত্র তৈরি করছিলেন যা টেলিগ্রাফের বার্তা রেকর্ড করতে পারবে, তখন তাঁর মনে হলো—যন্ত্রটি কি মানুষের কথাও রেকর্ড করতে পারবে? এই ভাবনা থেকে তিনি এক যন্ত্র উদ্ভাবন করেন যা মানুষের কথা বলার সময় তৈরি হওয়া কম্পনগুলোকে কাগজের উপর দাগ আকারে রূপান্তর করত।

১৮৭৭ সালে, যখন এডিসনের বয়স ৩০, তিনি এই যন্ত্রের সামনে “মেরি হ্যাড এ লিটল ল্যাম্ব” কবিতার প্রথম দুই লাইন বললেন এবং হাত দিয়ে ক্র্যাঙ্ক ঘুরিয়ে সেই কথা আবার শুনলেন। এইভাবেই তিনি উদ্ভাবন করলেন এমন একটি যন্ত্র যেটি তিনি এডিসন স্পিকিং ফোনোগ্রাফ নামে সবার কাছে পরিচিত করিয়েছিলেন। ঠিক এই একই বছরে এডিসন আরও একটি উন্নত মাইক্রোফোন ট্রান্সমিটার তৈরি করেন, যা টেলিফোন প্রযুক্তিকে আরও নিখুঁতভাবে উন্নত করতে সাহায্য করে।

আলোকিত যুগের শুরু

এডিসনের ফোনোগ্রাফ ছিল এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন, কিন্তু সেটি বেশিরভাগ মানুষের কাছে কেবল নতুনত্ব হিসেবে বিবেচিত হতো। এরপর তিনি মনোযোগ দেন আরেকটি বিশ্ব বদলে দেওয়া ধারণায়: ইনসানডেসেন্ট লাইট বাল্ব।

বৈদ্যুতিক বাতি ১৯ শতকের শুরু থেকেই ছিল, কিন্তু সেগুলি খুব ভঙ্গুর আর অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেত, কারণ এর ফিলামেন্ট—যা আলো তৈরি করে—টিকতো না। সেই সময়ের এক ধরনের বৈদ্যুতিক আলো ছিল কার্বন আর্ক লাইট, যা ব্যাটারিতে উত্তপ্ত কার্বন রডের বাষ্প দিয়ে আলো দিত। কিন্তু এই বাতি হাতে জ্বালাতে হতো, আলো ঝিকমিক করত, সাঁসাঁ শব্দ করত, আর দ্রুত পুড়ে যেত। অন্য ডিজাইনগুলো আবার এত খরচসাপেক্ষ আর ঝামেলাপূর্ণ ছিল যে সেগুলি সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না।

কিন্তু এডিসনের উদ্ভাবন ছিল সস্তা, ব্যবহারযোগ্য, আর টেকসই। ১৮৭৯ সালে, বহু বছর ধরে আলো নিয়ে কাজ করার পর, তিনি এমন একটি বাল্ব প্রকাশ্যে নিয়ে আসলেন যা ১৪.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত আলো দিতে পারত।সেই বছর নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদককে বলেন এডিসন “আমার আলো এখন একেবারে নিখুঁত। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষ দলে দলে মেনলো পার্কে আসে, আর শত শত মানুষ ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৭৯ তারিখে এক প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলমল করা ল্যাবরেটরি দেখতে ভিড় জমায়। নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড পত্রিকায় সে সময় ছাপা হয় “বিজ্ঞানীরা এবং সাধারণ মানুষ একমত হয়েছিল যে এডিসন সত্যিই ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন ধরনের আলো আবিষ্কার করেছেন।”

আমেরিকান উদ্ভাবকদের একজন, লুইস ল্যাটিমার অনেক আধুনিক উদ্ভাবনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন – যার মধ্যে রয়েছে আলোর বাল্ব। ল্যাটিমার এডিসনের উদ্ভাবিত লাইট বাল্বের কার্বন ফিলামেন্টকে কার্ডবোর্ড দিয়ে মোড়ানো বা আচ্ছাদন করেছিলেন। ফলে এটি আরও টেকসই এবং কার্যকর হয়েছিল।

এরপর, একজন কৃষ্ণাঙ্গ উদ্ভাবক লুইস ল্যাটিমার এডিসনের উদ্ভাবনের আরও উন্নতি করেন, যার ফলে লাইটবাল্বের ফিলামেন্ট আরও টেকসই হয় এবং সহজে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এদিকে এডিসন এক বৈদ্যুতিক ইউটিলিটি কোম্পানি গড়ে তোলেন এবং এমন উদ্ভাবনের দিকে এগিয়ে যান, যা বৈদ্যুতিক আলোকে মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করে তুলে।

কারেন্ট যুদ্ধ’ আর এডিসনের শেষ জীবন

এডিসনের আবিষ্কার তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়—সাথে আসে এক তীব্র প্রতিযোগিতা বৈদ্যুতিক কারেন্ট নিয়ে। এডিসনের সিস্টেম ছিল ডিরেক্ট কারেন্ট (DC)-এর উপর নির্ভরশীল—যা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একসাথে অনেকগুলো ভবনকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারত। অন্যদিকে, এডিসনের প্রতিদ্বন্দ্বীরা—যেমন সার্বিয়ান-আমেরিকান উদ্ভাবক নিকোলা টেসলা আর ব্যবসায়ী জর্জ ওয়েস্টিংহাউস—অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) সিস্টেম ব্যবহার করতেন যা তুলনায় সস্তা আর অনেক দূর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারত।

AC সিস্টেম ছড়িয়ে পড়তে থাকলে এডিসন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওয়েস্টিংহাউস আর টেসলা-র বিরুদ্ধে একপ্রকার প্রচার যুদ্ধ শুরু করেন, যেখানে AC-কে দায়ী করা হয় কারেন্ট সংক্রান্ত দুর্ঘটনাগুলোর জন্য। তিনি এক বিজ্ঞাপন প্রচার অভিযানেও অংশ নেন, যেখানে AC কারেন্টের প্রাণঘাতী সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এই প্রতিযোগিতা চরম আকার নেয় যখন এডিসন পশুদের AC কারেন্ট দিয়ে মেরে ফেলার প্রকাশ্য পরীক্ষা অর্থায়ন করেন। আর সেই নির্মমতার চূড়ান্ত মুহূর্ত আসে যখন এডিসন, তার প্রযুক্তি টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে AC কারেন্ট চালিত বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক চেয়ার তৈরি ও অর্থায়ন করেন।

তবে AC-র বিরুদ্ধে তার এমন তীব্র প্রচার সত্ত্বেও, শেষমেশ এডিসন ‘কারেন্ট যুদ্ধ’-এ হেরে যান, কারণ বাস্তবে দাম এবং তার গড়ে তোলা বৈদ্যুতিক ইউটিলিটি কোম্পানিতে তার প্রভাব কমে যাচ্ছিল।

এডিসনের পরবর্তী জীবন

১৮৮৪ সালে এডিসনের প্রথম স্ত্রী মেরি মারা যান সম্ভবত মরফিন ওভারডোজে। দুই বছর পর, তখন ৩৯ বছর বয়সী এডিসন ২০ বছর বয়সী মিনা মিলার-কে বিয়ে করেন। শীতকালে তারা ফোর্ট মায়ার্স, ফ্লোরিডা-তে বেড়াতে গিয়ে এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন যিনি পরে এডিসনের বৈজ্ঞানিক সহকর্মী হন, তিনি ছিলেন গাড়ি শিল্পের অগ্রদূত আর ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ড।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ফোর্ড আর এডিসন দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের রাবার উৎপাদনে যুক্তরাজ্যের উপর নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন। পরে হেনরি ফায়ারস্টোন-এর সাথে (যিনি রাবার টায়ার ব্যবসা করে ধনকুবের হন) তারা একসাথে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর ল্যাব গড়ে তোলেন, যেখানে খোঁজা হচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কোনো গাছ থেকে রাবারের বিকল্প উৎস। এডিসন ভেবেছিলেন গোল্ডেনরড গাছ হতে পারে সেই বিকল্প, কিন্তু প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কোনো সফল রাবারের উৎস খুঁজে পায়নি।

এডিসন তখনও উদ্ভাবন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিজেকে মেলে ধরেছিলেন, যার পরিসর চলচ্চিত্র (১৮৯৩ সালে তিনি বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র প্রযোজনা স্টুডিও ‘ব্ল্যাক মারিয়া’ খুলেছিলেন) থেকে শুরু করে টকিং ডলস পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি দাবি করতেন, তিনি দিনে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান, তিনি বিশ্বাস করতেন নিয়মিত শরীর চর্চার কোন প্রয়োজন নেই আর অনেক বছর ধরে7 শুধু দুধ আর সিগার খেয়ে থাকতেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৩১ সালে ৮৪ বছর বয়সে ডায়াবেটিসের জটিলতায় মারা যান।

থমাস এডিসনের উত্তরাধিকার

‘মেনলো পার্কের জাদুকর’ হিসেবে এডিসন আজও নানা ক্ষেত্রে স্মরণীয়। চলচ্চিত্র থেকে ফ্লুরোস্কোপি আর ব্যাটারি পর্যন্ত প্রযুক্তির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তিনি স্পর্শ রাখেননি—এবং তাঁর জীবদ্দশায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ১,০৯৩টি পেটেন্ট তার নামে নথিভুক্ত হয়েছিল।

তাঁর জীবদ্দশায় অনেকে বলতেন, তাঁর উদ্ভাবনী পদ্ধতি যথেষ্ট গোছানো ছিল না। কিন্তু এডিসনের উদ্ভাবনের প্রতি তাঁর অবিরাম উদ্দীপনা আর নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস তাঁকে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনের অধিকারী করে তুলেছিল।

তথ্যসুত্রঃ National Geographic

বিজ্ঞানের সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে রাখুন।
Leave A Reply